সর্বশেষ :
গ্রিনল্যান্ড প্রশ্নে রুদ্ধদ্বার বৈঠকেও দূরত্ব ঘোচেনি ড্রোন অনুপ্রবেশে দোষীদের শাস্তির অঙ্গীকার দক্ষিণ কোরিয়ার ২০২৬ বিশ্বকাপ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রকে বহিষ্কারের দাবি ব্রিটিশ এমপিদের বিবাহবার্ষিকীতে ডিভোর্স পেপার, সেলিনার জীবনের কঠিন সত্য উত্তেজনার মধ্যে ইরানের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ হাদীর বিচার চাই: ইনকিলাব মঞ্চ নিয়ে স্ত্রীর প্রশ্ন ছয় মাসে এডিপি বাস্তবায়নে ধস, উন্নয়ন গতি পাঁচ বছরে সর্বনিম্ন রংপুরের ছয় আসনে ভোটের লড়াই, শক্ত অবস্থানে জামায়াত যুব বিশ্বকাপে আজ পর্দা উঠছে, শুরুতেই ভারতের চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ হয়েছে, দাবি ট্রাম্পের

দেশজুড়ে গণভোট সচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণমূলক কর্মসূচি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৪৩ বার
দেশজুড়ে গণভোট সচেতনতা কর্মসূচি

প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

গণভোট সম্পর্কে সাধারণ জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য সরকারের পক্ষ থেকে দেশজুড়ে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে মাঠ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এই কর্মসূচি বিশেষভাবে পরিকল্পিত, যাতে ভোটাররা গণভোটের গুরুত্ব, প্রক্রিয়া এবং অংশগ্রহণের প্রভাব সঠিকভাবে বুঝতে পারে।

গতকাল রোববার বরিশালে পৃথকভাবে অনুষ্ঠিত হয় বিভাগীয় কর্মকর্তা সম্মেলন এবং ইমাম সম্মেলন। এ সম্মেলনগুলিতে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ এবং অপর বিশেষ সহকারী মনির হায়দার গণভোট বিষয়ক প্রশিক্ষণমূলক বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এই কর্মসূচি দেশের অন্যান্য বিভাগেও ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে, যাতে দেশের সব অঞ্চলের মানুষ সমানভাবে গণভোটের বিষয়ে সচেতন হতে পারে।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে এসব কর্মসূচি সম্পন্ন করা হচ্ছে। বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের আয়োজন করছে, আর ইসলামিক ফাউণ্ডেশন ইমাম ও ধর্মীয় নেতাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। এভাবে সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে তৃণমূল থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরে সচেতনতা সৃষ্টির চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

এই কর্মসূচির মাধ্যমে পরিকল্পনা করা হয়েছে যে, বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, সিনিয়র শিক্ষক, বিশিষ্ট সাংবাদিক, প্রেসক্লাবের সভাপতি-সম্পাদক, দোকান মালিক সমিতি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সমিতির সভাপতি-সম্পাদক, এনজিও প্রধানগণ, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা সক্রিয়ভাবে অংশ নেবেন। তারা নিজেদের মাধ্যমে সাধারণ জনগণকে গণভোটে অংশগ্রহণ ও সঠিক তথ্যের গুরুত্ব বুঝাতে সক্ষম হবেন।

আগামী দিনগুলোতে বিভিন্ন বিভাগে প্রশিক্ষণ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে। ১২ জানুয়ারি রাজশাহী, ১৪ জানুয়ারি রংপুর, ১৫ জানুয়ারি চট্টগ্রাম, ১৭ ও ১৯ জানুয়ারি ময়মনসিংহ, ২২ জানুয়ারি সিলেট এবং ২৪ জানুয়ারি খুলনা বিভাগে এই কর্মসূচি সম্পন্ন হবে। এই ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ ও মতবিনিময় সভার মাধ্যমে স্থানীয় জনগণ, প্রশাসন ও ধর্মীয় নেতাদের মধ্যে গণভোট সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান এবং দায়িত্ববোধ সৃষ্টি হবে।

সরকারি সূত্র জানিয়েছে, এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে জনগণকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি বিশ্বাসী ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। ভোটদানের গুরুত্ব, ভোটারদের অধিকার ও কর্তব্য, প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং অংশগ্রহণের গুরুত্বকে জনগণের মধ্যে বিস্তৃতভাবে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এটি শুধু গণভোটের সফলতা নিশ্চিত করবে না, বরং স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজের নেতৃত্বদেরও দায়িত্বশীলভাবে জনগণকে পথনির্দেশ দিতে সক্ষম করবে।

মতবিনিময় সভার অংশ হিসেবে ধর্মীয় নেতারা জনগণকে ভোট প্রক্রিয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করার জন্য আলোচনা, উপদেশ ও বিভিন্ন উদাহরণ তুলে ধরবেন। একই সঙ্গে তারা মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দায়িত্বশীল ভোটার হওয়ার গুরুত্বও বোঝাবেন। তাছাড়া সাংবাদিক ও শিক্ষাবিদরা গণভোট প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা এবং জনসচেতনতার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে প্রাসঙ্গিক তথ্য প্রদান করবেন।

বেসরকারি সংগঠন ও এনজিও প্রধানরা স্থানীয় জনগণকে সচেতন করতে মাঠ পর্যায়ে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। তাদের লক্ষ্য থাকবে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও ভুল ধারণা দূর করা এবং গণভোটে অংশগ্রহণের গুরুত্ব বোঝানো। সরকারের পক্ষ থেকে তৃণমূল পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এই প্রশিক্ষণ প্রদান নিশ্চিত করবে যে, সবাই একই মানদণ্ডে এবং সমন্বিতভাবে জনগণকে সচেতন করতে সক্ষম হবেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই কর্মসূচি দেশজুড়ে গণভোটে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সাধারণ জনগণ ভোটের গুরুত্ব বুঝতে পারবে, বিভ্রান্তিমূলক তথ্য থেকে বিরত থাকবে এবং দায়িত্বশীলভাবে অংশগ্রহণ করতে সক্ষম হবে।

এভাবে প্রশিক্ষণ ও মতবিনিময় সভার মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তা, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এবং বেসরকারি সংগঠনগুলোর প্রতিনিধি জনগণকে সচেতন করার ক্ষেত্রে একটি কার্যকর নেটওয়ার্ক তৈরি করবে। এতে শুধু গণভোটের সফলতা নিশ্চিত হবে না, বরং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসও বৃদ্ধি পাবে।

এই কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের নাগরিকরা বুঝতে পারবে যে, গণভোট শুধু ভোট দেয়ার বিষয় নয়; এটি দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। সচেতন নাগরিকরাই দীর্ঘমেয়াদে দেশকে স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধশালী করতে পারে। তাই সরকারের এই প্রশিক্ষণমূলক কর্মসূচি ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত