প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ভারতের গ্ল্যামার ও সংগীত জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ‘ইন্ডিয়ান আইডল’ খ্যাত প্রশান্ত তামাং সোমবার ১২ জানুয়ারি নয়াদিল্লিতে অকাল মৃত্যু বরণ করেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল মাত্র ৪৩ বছর। তার মৃত্যুতে পুরো দেশ শোকাহত হয়ে পড়েছে। প্রশান্ত তামাংয়ের স্ত্রী মার্থা এই অকাল মৃত্যুকে স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং জানিয়েছেন, তিনি ঘুমের মধ্যেই তাদের ছেড়ে চলে গেছেন। সেই সময় মার্থা ঠিক তার পাশেই ছিলেন এবং এমন দ্রুত প্রয়াণের সংবাদে তিনি নিজেও হতবাক ছিলেন।
প্রশান্তের স্ত্রী বলেন, ‘স্বামীর মৃত্যু নিয়ে কোনো রহস্য নেই। এটা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক মৃত্যু। তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন, আর আমি তার পাশে ছিলাম। টেরও পাইনি কখন সব শেষ হয়ে গেল।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভক্তদের কাছে আমার কৃতজ্ঞতা অপরিসীম। সকাল থেকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পরিচিত ও অপরিচিত অসংখ্য মানুষের ফোন পেয়েছি। সবাই তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন, ফুল দিচ্ছেন। যারা তাকে শ্রদ্ধা জানাতে চান, তারা যেন হাসপাতালে আসেন।’
মার্থা আরও বলেন, ‘আপনারা এতদিন যেভাবে তাকে মেসেজ, গান ও ভিডিও শেয়ার করে ভালোবাসা দিয়েছেন, তাতে আমি সত্যিই আপ্লুত। তিনি একজন মহান মানুষ ছিলেন। আমি শুধু আপনার কাছে একটাই প্রার্থনা চাই, তার আত্মা যেন শান্তি পায়।’
প্রশান্ত তামাং ১৯৮৩ সালে দার্জিলিংয়ে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই গানকে ভালোবাসার কারণে তিনি পুলিশের চাকরি ছেড়ে মুম্বাইয়ের গ্ল্যামার ও সংগীত জগতে পা রাখেন। ২০০৭ সালে ‘ইন্ডিয়ান আইডল’–এর তৃতীয় সিজনে বিজয়ী হওয়ার মাধ্যমে তিনি রাতারাতি খ্যাতির শিখরে পৌঁছান। এরপর তার গানের অ্যালবাম ‘ধন্যবাদ’ প্রকাশিত হয়, যা তাকে আরও পরিচিতি এনে দেয়।
ইন্ডিয়ান আইডলে বিজয়ী হওয়ার পর প্রশান্ত তামাং একের পর এক গান এবং পারফরম্যান্সের মাধ্যমে ভক্তদের মন জয় করেছিলেন। তার গানগুলোর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সমালোচক পর্যন্ত সবাই তার সুরের প্রশংসা করেছেন। সংগীত জগতে তার অবদান ছিল অসামান্য এবং তরুণ শিল্পীদের জন্য তিনি এক অনুপ্রেরণার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হতেন।
প্রশান্তের অকাল মৃত্যু ভারতের বিনোদন জগতের জন্য এক বড় ধাক্কা হিসেবে ধরা হচ্ছে। তার ভক্তরা শোক প্রকাশ করছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। দেশের বিভিন্ন শহর থেকে মানুষ হাসপাতাল ঘিরে দাঁড়িয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। তার মৃত্যুতে সংগীত এবং বিনোদন জগতের বন্ধুরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
প্রশান্ত তামাংয়ের জীবনের যাত্রা প্রমাণ করে, তিনি কতটা প্রতিভাবান ও পরিশ্রমী ছিলেন। কম বয়সেই গ্ল্যামার ও সংগীত জগতে নিজের বিশেষ স্থান করে নিয়েছিলেন। তার সুরেলা কণ্ঠ এবং মনের কথা স্পর্শ করা গানের মাধ্যমে তিনি ভক্তদের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছেন। শুধু গানের মাধ্যমে নয়, তার বিনয়ী আচরণ, ভক্ত ও সহকর্মীদের প্রতি আন্তরিকতা তাকে একটি আদর্শ শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
মার্থা ও পরিবার বলছেন, তাদের কাছে এই মৃত্যু খুবই হঠাৎ এসেছে, তবে তারা প্রশান্তের স্মৃতিকে জীবন্ত রাখার চেষ্টা করবেন। তার অকাল মৃত্যু সত্ত্বেও ভক্তরা তার গান ও স্মৃতি হৃদয়ে ধারণ করে তাকে চিরস্মরণীয় করে রাখবেন।
প্রশান্ত তামাংয়ের জীবন ও সংগীতের প্রতিটি মুহূর্তই প্রমাণ করে যে, তিনি ছিলেন এক অসাধারণ শিল্পী, যার কণ্ঠে জীবনকে সুন্দরভাবে তুলে ধরার ক্ষমতা ছিল। তার ভক্তরা আশা করছেন, তার সংগীত ও অবদান আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।