পুরোনো রাজনীতিতে ফেরা অতটা সহজ হবে না” — হুঁশিয়ারি নাহিদ ইসলামের

নিজস্ব সংবাদদাতা
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১২ জুলাই, ২০২৫
  • ৪০ বার
পুরোনো রাজনীতিতে ফেরা অতটা সহজ হবে না” — হুঁশিয়ারি নাহিদ ইসলামের

প্রকাশ: ১২ জুলাই’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এক কঠিন সতর্কবার্তায় বলেছেন, যাঁরা মনে করছেন দেশের রাজনীতি আবার সেই পুরোনো চক্রে ফিরিয়ে নেওয়া যাবে, তাঁদের সে চিন্তা বাস্তবায়ন করা এতটা সহজ হবে না। তিনি বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের পর হাজারো প্রাণ হারানোর যে ত্যাগ, তা বৃথা যাবে না। আন্দোলনের যে শক্তি সৃষ্টি হয়েছে, তা এখনো মাঠে সক্রিয় রয়েছে এবং পুরোনো রাজনীতির পথে ফেরার সমস্ত প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করবে।”

শনিবার দুপুরে সাতক্ষীরার কেন্দ্রীয় মোড় ‘আসিফ চত্বরে’ আয়োজিত এক পথসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন। দীর্ঘ বক্তব্যে তিনি ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির অসারতা, জনগণের প্রতি দায়িত্বহীনতা এবং রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির অবহেলার বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা দেশের বিচারব্যবস্থার সংস্কার চেয়েছি, নতুন সংবিধান চেয়েছি, ক্ষমতার ভারসাম্য চেয়েছি— অথচ আমাদের সেই দাবির বিরুদ্ধে আজ একটি গোষ্ঠী দাঁড়িয়ে গেছে। তারা শুধু ক্ষমতায় থাকতে চায়, সেই পুরোনো বন্দোবস্ত, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও প্রতিহিংসার রাজনীতিকে টিকিয়ে রাখতে চায়। কিন্তু তারা ভুলে যাচ্ছে, জনগণ আজ আর সেই আগের মতো নেই।”

তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের অভ্যুত্থান এবং তৎপরবর্তী আন্দোলন ছিল একটি ঐতিহাসিক রূপান্তরের সূচনা। “যারা ভাবছেন কয়েকটি আসন দিয়ে অথবা ক্ষমতার টোপ দেখিয়ে এই বিপ্লবী শক্তিকে কিনে নেওয়া যাবে, তারা বোঝে না যে, এই শক্তি ফিরে এসেছে মৃত্যুর মুখ থেকে। তাদের কোনো দামে কেনা সম্ভব নয়,”— বলেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম স্মরণ করিয়ে দেন যে, গত ৫ আগস্ট এনসিপি একটি জাতীয় সরকারের প্রস্তাব দিয়েছিল। সে প্রস্তাবে ছিল দেশকে নতুন করে গড়ার ডাক, একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্থিতিশীল রাজনৈতিক কাঠামোর রূপরেখা। কিন্তু বর্তমান ক্ষমতাসীন পক্ষ সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। “তারা শুধু নির্বাচন চায়— তিন মাস বা ছয় মাসের মধ্যে, কিন্তু সংস্কারের কথা তাদের মুখে নেই। তারা একধরনের ক্ষমতাকেন্দ্রিক হীন স্বার্থে আন্দোলনটিকে বিকৃত করতে চায়,”— বলেন তিনি।

সাতক্ষীরাবাসীর উদ্দেশে দেওয়া আহ্বানে তিনি বলেন, “আপনারা এখনো রেলসেবা থেকে বঞ্চিত, স্বাস্থ্যসেবা ও জলবায়ু ঝুঁকির মধ্যে আছেন, সুন্দরবনের অস্তিত্ব হুমকির মুখে— এসব ঠেকাতে হলে এনসিপির আন্দোলনের পাশে থাকতে হবে। ভয় পাবেন না, কারণ যারা ১৬ বছরের স্বৈরাচারী শাসক হাসিনাকে দিল্লি পাঠাতে পেরেছে, তারা চাঁদাবাজ বা গুণ্ডাদের ভয় পায় না।”

তিনি আরও জানান, আগামী ৩ আগস্ট ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে হবে নতুন এক রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা। সেদিন ঘোষিত হবে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ এবং নেয়া হবে নতুন শপথ। “এই রাষ্ট্রকে ইনসাফের ভিত্তিতে গড়তে হলে জনগণকেই উদ্যোগ নিতে হবে,”— বলেন তিনি।

এই পথসভায় আরও বক্তব্য রাখেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের সংগঠক সারজিস আলম এবং মেজবাহ কামালসহ আরও অনেকে।

নাহিদ ইসলামের বক্তব্যে এ দিনের সমাবেশে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, এনসিপি তাদের আদর্শ ও রাজনৈতিক লক্ষ্যে অটল রয়েছে, এবং পুরোনো ব্যবস্থায় ফেরার চেষ্টা যেকোনো মূল্যে প্রতিহত করার প্রস্তুতিও তারা সম্পন্ন করেছে। তাদের ভাষায়, “এই আন্দোলন কেবল রাজনৈতিক নয়, এটি একটি নৈতিক দায়বদ্ধতা এবং প্রজন্মের প্রতিজ্ঞা।”

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত