সর্বশেষ :
গ্রিনল্যান্ড প্রশ্নে রুদ্ধদ্বার বৈঠকেও দূরত্ব ঘোচেনি ড্রোন অনুপ্রবেশে দোষীদের শাস্তির অঙ্গীকার দক্ষিণ কোরিয়ার ২০২৬ বিশ্বকাপ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রকে বহিষ্কারের দাবি ব্রিটিশ এমপিদের বিবাহবার্ষিকীতে ডিভোর্স পেপার, সেলিনার জীবনের কঠিন সত্য উত্তেজনার মধ্যে ইরানের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ হাদীর বিচার চাই: ইনকিলাব মঞ্চ নিয়ে স্ত্রীর প্রশ্ন ছয় মাসে এডিপি বাস্তবায়নে ধস, উন্নয়ন গতি পাঁচ বছরে সর্বনিম্ন রংপুরের ছয় আসনে ভোটের লড়াই, শক্ত অবস্থানে জামায়াত যুব বিশ্বকাপে আজ পর্দা উঠছে, শুরুতেই ভারতের চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ হয়েছে, দাবি ট্রাম্পের

জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত সব সংগঠনের নির্বাচন স্থগিত

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ২১ বার
জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত সব সংগঠনের নির্বাচন স্থগিত

প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশের সার্বিক নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের কার্যক্রম নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের সব ধরনের পেশাজীবী সংগঠনসহ অন্যান্য সংগঠনের নির্বাচন স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে সংস্থাটি। নির্বাচনকালীন সময়ে কোনো ধরনের প্রভাব, বিভ্রান্তি বা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি না হয়—সে বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেনের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়। চিঠিটি দেশের সব নির্বাচনী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছেও পাঠানো হয়েছে। এতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। ফলে এই সময়ের মধ্যে অন্য কোনো সংগঠনের নির্বাচন হলে তা ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে এবং নির্বাচনী পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পেশাজীবী সংগঠন ছাড়াও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব ধরনের নির্বাচন, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সমিতি, সাংবাদিক ইউনিয়ন ও সমিতি, বণিক সমিতি, সমবায় সমিতি, ট্রেড ইউনিয়নসহ দেশের সব সংগঠনের নির্বাচন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট শেষ হওয়ার পর আয়োজন করতে হবে। নির্বাচন কমিশন মনে করছে, জাতীয় পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ এই ভোটগ্রহণের সময় অন্য কোনো নির্বাচন বা প্রতিযোগিতামূলক কার্যক্রম চললে তা প্রশাসনিকভাবে জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।

ইসি সূত্র জানায়, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হওয়ায় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ওপর বাড়তি চাপ থাকবে। এই অবস্থায় একাধিক নির্বাচন পরিচালনা করা হলে জনবল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় বিঘ্ন ঘটতে পারে। পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশ উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনা করেই নির্বাচন কমিশন আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনকে এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানানো হয়েছে। ইসি আশা করছে, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে সবাই এই সিদ্ধান্ত মেনে সহযোগিতামূলক ভূমিকা পালন করবে। কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, জাতীয় নির্বাচন একটি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া। এর সঙ্গে যুক্ত থাকে জনগণের প্রত্যাশা, গণতান্ত্রিক অধিকার এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনার দিকনির্দেশনা। তাই এ সময়ে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা বিভ্রান্তি কাম্য নয়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবসম্মত। কারণ অতীতে দেখা গেছে, জাতীয় নির্বাচনের সময় বিভিন্ন সংগঠনের নির্বাচন বা কর্মসূচি অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক রূপ নিয়ে নেয়। এতে করে ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর চাপ পড়ে। পেশাজীবী সংগঠন, শ্রমিক সংগঠন কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নির্বাচন অনেক সময় বড় সমাবেশ ও প্রচারণার মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয়, যা জাতীয় নির্বাচনের পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ পর্যায়ের নির্বাচন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত শিক্ষাঙ্গনের জন্যও স্বস্তিদায়ক। কারণ জাতীয় নির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হলে ক্যাম্পাসগুলোতে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম বজায় রাখা সহজ হয়। একইভাবে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সমিতির নির্বাচন স্থগিত থাকলে পরিবহন খাতে অস্থিরতা কম থাকবে, যা ভোটের দিন সাধারণ মানুষের যাতায়াত নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

সাংবাদিক সংগঠন ও পেশাজীবী সংগঠনগুলোর একাংশ মনে করছে, যদিও নির্বাচন স্থগিতের ফলে তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত হবে, তবে জাতীয় স্বার্থের কথা বিবেচনা করলে এই সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়াই যুক্তিসংগত। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, ভোটগ্রহণ শেষে দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব সংগঠনের নির্বাচন আয়োজনের সুযোগ দেওয়া হবে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি একযোগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এই দুই গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করাই এখন কমিশনের প্রধান লক্ষ্য। এজন্য ইতোমধ্যে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের প্রস্তুতি, ব্যালট ও সরঞ্জাম সরবরাহ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয় এবং নির্বাচনী কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় হতে যাচ্ছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে নানা আলোচনা ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের নেওয়া প্রতিটি সিদ্ধান্তই বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে। সব ধরনের সংগঠনের নির্বাচন স্থগিত রাখার নির্দেশনা সেই প্রস্তুতিরই অংশ বলে তারা মনে করছেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারাও বলছেন, জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে দায়িত্বের চাপ স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়। একই সময়ে বিভিন্ন সংগঠনের নির্বাচন হলে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় জটিলতা তৈরি হতে পারে। ফলে নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহায়ক হবে।

সাধারণ নাগরিকদের অনেকেই মনে করছেন, জাতীয় নির্বাচন একটি দেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক উৎসব। এই সময়ে অন্য কোনো নির্বাচন বা কর্মসূচির কারণে যাতে ভোটারদের মনোযোগ বিচ্ছিন্ন না হয়, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত সেই লক্ষ্য পূরণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তারা আশা করছেন।

সব মিলিয়ে বলা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের এই নির্দেশনা একটি কৌশলগত ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ। জাতীয় স্বার্থে সাময়িক এই স্থগিতাদেশ মেনে নিয়ে সব পক্ষ সহযোগিতা করলে নির্বাচন প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হবে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট সবার।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত