প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে বিজিবির এক সফল অভিযানে দুটি বিদেশি পিস্তল, চারটি ম্যাগাজিন এবং আট রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার বিকেল দেড়টার দিকে আতারপাড়া সীমান্ত এলাকা থেকে এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদের উদ্ধার করা হয়, যা সীমান্ত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য নেওয়া কৌশলগত উদ্যোগের অংশ হিসেবে উল্লেখযোগ্য।
কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর অধীনে চরচিলমারী বিওপির টহল দল সীমান্ত এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে আতারপাড়া মাঠে অভিযান পরিচালনা করে। সীমান্ত পিলার ৮৪/৩-এস থেকে মাত্র ১০ গজ দূরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মাটির নীচে পুঁতে রাখা একটি কালো কসটেপে মোড়ানো বস্তার মধ্যে এসব অবৈধ অস্ত্র এবং গোলাবারুদ পাওয়া যায়। উদ্ধারকৃত সামগ্রী পরে দৌলতপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়। দৌলতপুর থানার ইনচার্জ আরিফুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, উদ্ধারকৃত পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলিসহ পুরো বিষয়টি থানায় জমা দেওয়া হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিজিবি কর্মকর্তারা জানান, এই অভিযান সীমান্তে অবৈধ অস্ত্রের প্রবেশ প্রতিরোধ এবং চোরাচালান দমন কার্যক্রমের অংশ। কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি সাংবাদিকদের বলেন, “বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান দমন এবং সীমান্তে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি প্রতিরোধে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আমরা নিয়মিত টহল ও কৌশলগত অভিযান চালিয়ে সুরক্ষা নিশ্চিত করছি এবং ভবিষ্যতেও এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।”
উল্লেখ্য, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তের আচার-আচারিতে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অস্ত্র ও চোরাচালানের মতো কার্যক্রমের বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসন বিশেষ নজর রাখছে। সীমান্ত এলাকায় এই ধরনের অভিযান স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি করে যে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
এ ধরনের অভিযান শুধুমাত্র সীমান্ত সুরক্ষার ক্ষেত্রে নয়, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নীতিমালার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলির ধরণ এবং সংরক্ষণ প্রক্রিয়া বোঝায় যে, এই অস্ত্রগুলি অবৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে সীমান্তে প্রবেশ করানো হচ্ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মনে করছে, এই ধরনের অস্ত্র ও গোলাবারুদ সীমান্তের মাধ্যমে প্রবেশ করলে তা স্থানীয় শৃঙ্খলা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলত।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বিজিবি অভিযান ও অস্ত্র উদ্ধারের ফলে এলাকায় শান্তি এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি কিছুটা হলেও উন্নত হয়েছে। স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, সীমান্তে অভিযান চালানো হলে চোরাচালান ও অপরাধমূলক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও নিরাপদ হয়।
বিজিবি কর্মকর্তারা বলেন, সীমান্ত এলাকায় টহল ও নজরদারি কার্যক্রম চলমান থাকবে। শুধু অস্ত্র উদ্ধারে নয়, চোরাচালান ও অন্যান্য অপরাধমূলক কার্যক্রম প্রতিরোধেও তাদের নজর থাকবে। তারা আরও জানিয়েছেন, সীমান্ত এলাকায় গোপন পর্যবেক্ষণ ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে, যাতে অপরাধীদের দমন কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে সম্পন্ন করা যায়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের অভিযান শুধু অস্ত্র উদ্ধারই নয়, বরং সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য কার্যকর নজরদারির প্রতীক। বিদেশি অস্ত্র ও গোলাবারুদ সীমান্তে প্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবির কৌশলগত উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে। এই ধরনের কার্যক্রম জনগণের মধ্যে নিরাপত্তা ও আস্থা বৃদ্ধি করছে।
দৌলতপুর সীমান্ত এলাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত। এখানে নিয়মিত অভিযান, টহল ও নজরদারির মাধ্যমে চোরাচালান দমন ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসন এই ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যাতে সীমান্ত এলাকায় শান্তি, আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় থাকে।