সর্বশেষ :
গ্রিনল্যান্ড প্রশ্নে রুদ্ধদ্বার বৈঠকেও দূরত্ব ঘোচেনি ড্রোন অনুপ্রবেশে দোষীদের শাস্তির অঙ্গীকার দক্ষিণ কোরিয়ার ২০২৬ বিশ্বকাপ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রকে বহিষ্কারের দাবি ব্রিটিশ এমপিদের বিবাহবার্ষিকীতে ডিভোর্স পেপার, সেলিনার জীবনের কঠিন সত্য উত্তেজনার মধ্যে ইরানের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ হাদীর বিচার চাই: ইনকিলাব মঞ্চ নিয়ে স্ত্রীর প্রশ্ন ছয় মাসে এডিপি বাস্তবায়নে ধস, উন্নয়ন গতি পাঁচ বছরে সর্বনিম্ন রংপুরের ছয় আসনে ভোটের লড়াই, শক্ত অবস্থানে জামায়াত যুব বিশ্বকাপে আজ পর্দা উঠছে, শুরুতেই ভারতের চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ হয়েছে, দাবি ট্রাম্পের

সুদানের সেনা ঘাঁটিতে ড্রোন হামলায় নিহত ৩২

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৩২ বার
সুদান সেনা ঘাঁটি ড্রোন হামলা

প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সুদানের দক্ষিণপূর্বাঞ্চলীয় শহর সিঞ্জায় সোমবার একটি সেনা ঘাঁটিতে ড্রোন হামলায় অন্তত ৩২ জন নিহত এবং ৮৬ জন আহত হয়েছে। এই ভয়াবহ হামলায় রাজ্যের গভর্নরের বডিগার্ড ও প্রোটোকল প্রধান নিহত হয়েছেন, যদিও গভর্নর নিজে প্রাণে বেঁচে গেছেন। স্থানীয় সূত্র এবং সেনা কর্মকর্তাদের বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য জানিয়েছে।

হামলাটি সুদানের পারামিলিটারি বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্স (আরএসএফ) দ্বারা পরিচালিত হয়েছে। তারা সিঞ্জার ১৭তম ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের সদর দফতরকে লক্ষ্য করেছিল। হামলার সময় শহরে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছিল, যেখানে পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলের সেনা, নিরাপত্তা ও সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা বিস্ফোরণের তীব্রতা এবং এন্টি-এয়ারক্রাফট শুটিংয়ের শব্দ শুনেছেন।

এ হামলা এমন এক সময়ে সংঘটিত হলো, যখন সেনা-সমর্থিত সরকার তিন বছর পর পোর্ট সুদান থেকে খার্তুমে যুদ্ধকালীন ভিত্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই হামলা সুদানের রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি করবে এবং দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ করতে পারে।

এপ্রিল ২০২৩ থেকে শুরু হওয়া সুদানের সেনা ও আরএসএফের সংঘর্ষে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং প্রায় ১১ মিলিয়ন মানুষ দেশীয়ভাবে বা পার্শ্ববর্তী দেশে স্থানান্তরিত হয়েছে। সেন্নার রাজ্যে পুনর্বাসনের এক বছরের মধ্যে প্রায় ২ লক্ষ মানুষ ফিরে এসেছেন। তবে জাতিসংঘ সতর্ক করেছে যে, অন্যান্য অঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতা এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোর কারণে পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

সুন্দর ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পদক্ষেপ এবং স্থানীয় প্রশাসনের সক্রিয় উদ্যোগ অপরিহার্য। ড্রোন হামলার ধরণ এবং লক্ষ্যভিত্তিক আক্রমণ দেখায় যে, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং সামরিক দখলের মধ্যে সুদানের জনগণ এখনও অত্যন্ত ঝুঁকিতে রয়েছে। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর, এবং স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে তাদের চিকিৎসা চলছে।

স্থানীয় জনগণ হামলার পর আতঙ্কে রয়েছে। সিঞ্জার বাসিন্দারা জানান, তারা বিস্ফোরণ এবং গোলারোধের শব্দ শুনে ঘর থেকে বের হতে সাহস পাচ্ছিলেন না। শিশু, নারী ও বৃদ্ধদের মধ্যে আতঙ্কের ছাপ স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা গেছে। স্থানীয় প্রশাসন নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে এবং সামরিক বাহিনী ঘটনাস্থল নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ড্রোন হামলা শুধুমাত্র সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি রাজনৈতিক সংকট এবং সামরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। সামরিক ঘাঁটিতে এমন আক্রমণ সুদানের জন্য দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা এবং পুনর্বাসনের পরিকল্পনাকে জটিল করে তুলতে পারে। পাশাপাশি, স্থানীয় প্রশাসন ও আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলোর জন্য এটি নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে।

সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সুদানের সেনা ও আরএসএফের সংঘর্ষে দেশের পূর্ব ও মধ্যাঞ্চল বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি, জনসংখ্যার স্থানান্তর এবং অসংখ্য হতাহতের মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষ দৈনন্দিন জীবনযাত্রা চালানোকে অত্যন্ত কঠিন মনে করছে। বিশেষ করে শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য সেবা এবং খাদ্য নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

সুদানের সরকার এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এখন নিরাপত্তা, পুনর্বাসন এবং দীর্ঘমেয়াদী শান্তি স্থাপনের জন্য সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। বিশেষত আরএসএফের মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীর সাথে সামরিক সংঘর্ষ বন্ধ এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অগ্রাধিকারের মধ্যে থাকা উচিত।

উক্ত হামলা সুদানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে। সিঞ্জায় ড্রোন হামলার এই ঘটনায় সামরিক কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, জনগণের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলোর সতর্কতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত