জাতীয় নির্বাচন নির্ধারণ করবে দেশের ভবিষ্যৎ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৫ বার
জাতীয় নির্বাচন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ

প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশ কোন দিকে যাবে। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর হোটেল লা মেরিডিয়ানে ‘উচ্চশিক্ষার বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা-২০২৬’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

সম্মেলনে যুক্তরাজ্য, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এবং বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিসহ মোট ৩০ জন আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। ইউজিসি সূত্রে জানা গেছে, সম্মেলন বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট)’ প্রকল্পের আওতায় আয়োজন করা হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেন, “জাতীয় নির্বাচন দেশের মানুষের আশা ও আগ্রহকে প্রতিফলিত করবে। এটি সরকারের দিকনির্দেশনা নির্ধারণের এক গুরুত্বপূর্ণ সংজ্ঞা। নির্বাচন যেভাবে অনুষ্ঠিত হবে, তার প্রতিফলন দেশের শিক্ষাব্যবস্থা, অর্থনীতি, সামাজিক নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক সম্পর্কের ওপরও প্রভাব ফেলবে।” তিনি আরও বলেন, “জনগণই দেশের গতি ও পথ নির্ধারণ করবে। আমাদের দায়িত্ব হবে ভোটের গুরুত্ব এবং সঠিক তথ্যের মাধ্যমে তাদের সচেতনতা বৃদ্ধি করা।”

উচ্চশিক্ষা ও দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর আলোকপাত করে তিনি বলেন, শিক্ষিত এবং সচেতন নাগরিকরাই দায়িত্বশীল ভোট প্রদান করতে পারে। তিনি বলেন, “শিক্ষা শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি জীবন ও সমাজের প্রতিটি স্তরে প্রয়োগ হতে হবে। যারা শিক্ষিত, তারা সমাজের জন্য সচেতন এবং ভোটের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে অবদান রাখতে সক্ষম।”

সম্মেলনে অংশ নেওয়া আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিরা দক্ষিণ এশিয়ার উচ্চশিক্ষা খাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। তারা বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও নীতি নির্ধারণে সরকারের উদ্যোগকে গুরুত্বসহকারে দেখছেন। বিশেষত, হিট প্রকল্পের মাধ্যমে উচ্চশিক্ষায় দক্ষতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়ন পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের কাছে উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ড. ইউনূস বলেন, “ভোটের মাধ্যমে মানুষ শুধু সরকার নির্বাচন করে না, তারা দেশের দিকনির্দেশনাকে প্রভাবিত করে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি এবং অর্থনীতি—সবকিছু নির্বাচনের ফলাফলের সঙ্গে যুক্ত। তাই এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশ একটি স্থিতিশীল এবং উন্নতপন্থী পথে এগোতে পারবে।” তিনি আরও যোগ করেন, “শিক্ষার মান বৃদ্ধি ও সামাজিক সচেতনতা ভোটের ফলাফলকে আরও কার্যকর করতে পারে। নির্বাচনের মাধ্যমে গণমানুষের শক্তি ও দৃষ্টিভঙ্গি দেশের উন্নয়নকে শক্তিশালী করবে।”

সম্মেলনে অংশ নেওয়া আন্তর্জাতিক অতিথিরা বাংলাদেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, জনগণের অংশগ্রহণ এবং নাগরিক অধিকারের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা বিশ্বাস করেন, নির্বাচনের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশকে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে।

ড. ইউনূস আরও বলেন, “শিক্ষা এবং সচেতন ভোটাধিকার একত্রিত হলে দেশ একটি সুষ্ঠু ও স্থিতিশীল সরকারের অধীনে এগোতে পারবে। আমরা সকলকে অনুরোধ করি, ভোটের গুরুত্ব উপলব্ধি করে দেশকে নতুন দিশা প্রদানের জন্য সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে।”

উল্লেখ্য, সম্মেলনের এই আলোচনা এবং উচ্চশিক্ষা সম্পর্কিত পর্যবেক্ষণ দেশের জন্য নির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা নির্ধারণের পাশাপাশি আগামী নির্বাচনকে একটি শিক্ষিত এবং সচেতন ভোটার ভিত্তি হিসেবে প্রভাবিত করবে। শিক্ষাব্যবস্থা ও সামাজিক সচেতনতার সমন্বয়ে ভোটের ফলাফল দেশের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটকে নতুন মাত্রা দিতে পারে।

এই আঞ্চলিক সম্মেলন বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতকে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং উদ্ভাবনশীল শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের বক্তব্য নির্বাচনের গুরুত্ব এবং দেশের ভবিষ্যৎ নির্মাণের সাথে সরাসরি সংযুক্ত।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত