আড়াইহাজারে কারখানায় অগ্নিকাণ্ড, ১০ লাখ টাকার ক্ষতি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৭ বার
আড়াইহাজারে অগ্নিকাণ্ডে ১০ লাখ টাকার ক্ষতি

প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে মঙ্গলবার সকালে একটি তুলা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যা মুহূর্তেই এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। ফতেপুর ইউনিয়নের লালুরকান্দি এলাকায় অবস্থিত এই কারখানার মালিক স্থানীয় মো. সামাদ জানিয়েছেন, আগুনে তুলা, গার্মেন্টস ঝুট এবং বিভিন্ন যন্ত্রপাতি পুড়ে অন্তত ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কারখানার ভিতর তুলা তৈরির তিনটি মেশিন এবং একটি মোটরসহ কারখানার একটি বড় অংশ সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা যায়, সকালে হঠাৎ করে কারখানার ভিতর থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। মাত্র কিছুক্ষণের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং কারখানার বিভিন্ন অংশে ক্ষয়ক্ষতি সৃষ্টি করে। খবর পেয়ে আড়াইহাজার ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শুরু করে। আড়াইহাজার থানার পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারাও আগুন নেভাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। প্রায় এক ঘণ্টার প্রচেষ্টা শেষে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

আড়াইহাজার থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি) মো. আলাউদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। মেশিন পুড়ে কারখানায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, তবে সম্পূর্ণ ক্ষতির পরিমাণ এখনও নির্ধারণ করা যায়নি।’ আড়াইহাজার ফায়ার স্টেশনের ইনচার্জ রবিউল আরও জানিয়েছেন, ‘ঝুটের গোডাউনের পাশেই তুলা তৈরির কারখানা থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আমরা প্রাথমিকভাবে বলছি বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তীতে জানানো হবে।’

স্থানীয়রা জানান, কারখানার আশেপাশের এলাকা অল্প সময়ের জন্য ধোঁয়া ও আগুনে ঢেকে যায়, যা স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ব্যাঘাত সৃষ্টি করে। শ্রমিকরা আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত নিরাপদ স্থানে চলে যান,幸‌ত ঘটনার সময় কোনো মানুষিক প্রাণহানি হয়নি। এই অগ্নিকাণ্ডটি স্থানীয় ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে, কারণ তুলা ও গার্মেন্টস ঝুটসহ যন্ত্রপাতির ক্ষতি এই কারখানার দৈনন্দিন উৎপাদনকে ব্যাহত করবে এবং অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণ হবে।

মালিক মো. সামাদ জানিয়েছেন, ‘এ ধরনের দুর্ঘটনা আমাদের জন্য এক বড় ধাক্কা। কারখানার পুনর্বহাল ও ক্ষতিপূরণে এখনই আমাদের যথেষ্ট অর্থনৈতিক চাপ রয়েছে। আশা করছি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন এবং আমরা দ্রুত উৎপাদন পুনরায় শুরু করতে পারব।’

ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ প্রশাসন এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। আগুনের প্রকৃত কারণ, ক্ষতির পরিমাণ ও দোষীদের নির্ধারণের জন্য পর্যাপ্ত সময় এবং তদন্ত প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে এবং শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়মিত তদারকি করা হবে।

এ ধরনের অগ্নিকাণ্ড প্রতিটি শিল্পখাতের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করে। তুলা তৈরির কারখানা ও গার্মেন্টস ঝুট সংরক্ষণের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা আবারও浮‌চিহ্নিত হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, নিয়মিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।

এই অগ্নিকাণ্ড স্থানীয় ব্যবসায়ী সমাজ এবং শিল্পের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। প্রাথমিকভাবে ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হলেও উৎপাদন বন্ধ থাকার কারণে আর্থিক ক্ষতি আরও বেড়ে যেতে পারে। শ্রমিকদের কাজের নিরাপত্তা এবং কারখানার যন্ত্রপাতি সুরক্ষার বিষয়টি এখন জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয়রা মনে করছেন, যদি কারখানাগুলোর বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, মেশিন এবং ঝুট সংরক্ষণের নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করা হয়, তবে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব। প্রাথমিক তদন্ত শেষে ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণ করা হবে এবং ভবিষ্যতে এরকম দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রতিটি কারখানায় নিরাপত্তা মানদণ্ড জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হবে।

এই ঘটনার মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতা তুলে ধরা হলো। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্টরা সজাগ ছিলেন। তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার জন্য প্রশাসনের আরও পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত