প্রকাশ: ১২ জুলাই’ ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে প্রকাশ্যে ঘটে যাওয়া ভাঙারি ব্যবসায়ী মো. সোহাগ ওরফে লাল চাঁদ (৩৯) হত্যাকাণ্ডের মামলায় নতুন অগ্রগতি ঘটেছে। মামলার এক আসামি তারেক রহমান রবিন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অপরদিকে, একই মামলায় আরেক আসামি টিটন গাজীকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত।
শনিবার (১২ জুলাই) দুপুরে এই দুই আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে পৃথকভাবে তাদের রিমান্ড ও জবানবন্দি সংক্রান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সোহাগ হত্যার ঘটনায় করা অস্ত্র মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মনির রবিনকে আদালতে হাজির করে জানান, রবিন স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে ইচ্ছুক। সেই প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ গিয়াস তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
অপরদিকে, একই মামলায় আটক টিটন গাজীর সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে উপস্থাপন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতয়ালী থানার পরিদর্শক নাসির উদ্দিন। শুনানি শেষে বিচারক তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এ ঘটনার আগে শুক্রবার রাজধানীতে এক অভিযানে মামলার এজাহারভুক্ত চার আসামির মধ্যে দুজনকে পুলিশ এবং অপর দুজনকে র্যাব গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন মাহমুদুল হাসান মহিন, তারেক রহমান রবিন, টিটন গাজী এবং আরও একজন অজ্ঞাতপরিচয় আসামি। গ্রেফতারের পর আদালত মাহমুদুল হাসান মহিনের পাঁচ দিনের এবং রবিনের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
সোহাগ হত্যাকাণ্ডটি ঘটা হয় চলতি মাসের শুরুতে মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে। প্রত্যক্ষদর্শী ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সোহাগকে পাথর ও লোহার রড দিয়ে নির্মমভাবে আঘাত করা হয়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। তদন্তে জানা গেছে, পুরান ঢাকার ভাঙারি ব্যবসাকে কেন্দ্র করে পুরনো শত্রুতা থেকেই এই হামলা চালানো হয়েছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রবিন জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা, অংশগ্রহণকারী অন্যান্য ব্যক্তিদের নাম এবং ঘটনার পেছনের মোটিভ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আসামিদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য তদন্ত আরও জোরদার করা হয়েছে।
মামলাটি এখন রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উচ্চ পর্যায়ের নজরদারিতে রয়েছে। সোহাগ হত্যাকাণ্ড পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী সমাজে যেমন চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে, তেমনি সাধারণ নাগরিকদের মাঝেও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, তারা দ্রুততম সময়ে সব আসামিকে আইনের আওতায় এনে হত্যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে সক্ষম হবে এবং নিহতের পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে।