চুয়াডাঙ্গায় সেনা হেফাজতে বিএনপি নেতার মৃত্যু

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৭ বার
চুয়াডাঙ্গা বিএনপি নেতা মৃত্যু

প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলু সেনাবাহিনীর হেফাজতে মারা গেছেন। সোমবার দিবাগত রাত ১২টার পর মৃত্যু ঘটে। পরে তার লাশ জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।

নিহতের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলা ও উপজেলার বিএনপি নেতাকর্মীরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জড়ো হন। তারা জানান, রাত ১০টার দিকে ডাবলু জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের ডাবলুর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হাফিজা ফার্মেসি থেকে সেনাবাহিনীর হেফাজতে নেওয়া হয়। প্রায় রাত ১টার দিকে মৃত্যুর খবর পৌঁছে।

ডাবলুর মৃত্যুর প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকাল থেকে বিএনপির নেতাকর্মীরা জীবননগর-চুয়াডাঙ্গা সড়ক অবরোধ করেন। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চেষ্টা করলেও, নেতাকর্মীরা আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার আগে পর্যন্ত সড়ক অবরোধ অব্যাহত রাখেন।

নিহত ডাবলুর ভাই জীবননগর উপজেলা বন কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম কাজল বলেন, ‘আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এর বিচার চাই।’ এছাড়া জীবননগর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব রিমন অভিযোগ করেন, শনিবার (১২ জানুয়ারি) রাতের দিকে তাদের চার ভাইকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা নির্যাতন এবং বেধড়ক মারধর করে।

সেনাবাহিনী এ ঘটনায় কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে তাদের দাবি, ডাবলুর কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে রাত ৩টার দিকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপস্থিত হন বিএনপির জেলা সভাপতি, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান বাবু এবং বিজিএমইয়ের সভাপতি। মাহমুদ হাসান খান বাবু বলেন, ‘আমরা আইন হাতে তুলে নেব না। আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব।’

জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সারা রাত সেনাবাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি ছিল। একই সময়ে বিএনপি পক্ষ থেকে লাশের ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানান জীবননগর পৌর বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিউদ্দিন শফি।

জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ সোলায়মান সেখ মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, তবে বিস্তারিত তথ্য জানাননি। জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা সেনাবাহিনী ক্যাম্পে নিয়োজিত ক্যাপ্টেন সৌমিক ও অন্যান্য সদস্যরা কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার করতে গেলে তাদের পরিবারের সদস্যদের উপর অকথ্য ভাষায় গালাগাল, মারধর ও শারীরিক-মানসিক নির্যাতন চালানোর অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনার মাধ্যমে চুয়াডাঙ্গায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। স্থানীয় মানুষজন এবং রাজনৈতিক নেতারা আইন ও মানবাধিকার রক্ষা করতে প্রশাসনের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ দাবি করছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সেনাবাহিনীর হেফাজতে থাকা অবস্থায় নেতার মৃত্যু দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে এবং এ ঘটনায় স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত