প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় রাতের অন্ধকারে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে মোটরসাইকেল চালক আরিফ শরীফের (২৩)। সোমবার রাত ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে উপজেলার মহিপুর থানাধীন ধুলাস্বার ইউনিয়নের বাবলাতলা বাজার সড়কে বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগতি সম্পন্ন একটি ট্রাক মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেল আরোহী আরিফ গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পটুয়াখালীর নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আরিফ শরীফ বৌলতলী ইউনিয়নের গেন্দু শরীফের ছেলে। পেশায় তিনি একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। তার পরিবার ও পরিচিতজনরা শোকাহত অবস্থায়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ট্রাকটি হঠাৎ করে বিপরীত দিক থেকে এসে মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। ঘটনার সময় এলাকাটি অন্ধকার এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। এতে দুর্ঘটনার মাত্রা বেড়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় ব্যবসায়ী বাবুল বলেন, ‘ট্রাকটি খুব দ্রুত আসছিল। আরিফ শরীফ মোটরসাইকেল চালিয়ে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ ট্রাকটির ধাক্কায় তিনি গুরুতর আহত হন। আমরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করি এবং হাসপাতালে পাঠাই, কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি।’
মাহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহব্বত খান সংবাদটি নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ট্রাকটি জব্দ করেছে। ট্রাকের ড্রাইভার ও হেলপারকে আটক করা হয়েছে এবং আইনি ব্যবস্থার প্রক্রিয়া চলছে। তিনি আরও জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
দুর্ঘটনার কারণে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বলেন, গত কয়েক মাসে এই সড়কে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে রাতে অন্ধকারে যান চলাচলের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় ট্রাক, গাড়ি ও মোটরসাইকেল চালকরা বিপদে পড়ছেন। এর ফলে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, আরিফ ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার আকস্মিক মৃত্যু পরিবারকে ভীষণ শোকাহত করেছে। আরিফের বাবা-মা এবং ছোট ভাই-বোনরা এখনও মানসিকভাবে সামলাতে পারছেন না। তারা স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দ্রুত ন্যায্য বিচার দাবি করেছেন।
স্থানীয়দের মতে, যদি সড়কে যথাযথ আলো, ট্রাফিক নিয়ম ও যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকতো, তবে হয়তো এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটত না। দুর্ঘটনার পর ট্রাফিক নিরাপত্তা, রাস্তায় যথাযথ আলোকসজ্জা এবং যানবাহনের নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা পুনরায় সবার কাছে উঠে এসেছে।
দুর্ঘটনা তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি পুলিশ স্থানীয়দের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে উদ্যোগ নিয়েছে। মহিপুর থানার কর্মকর্তা জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণের জন্য আরও তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই দুর্ঘটনা আবারও সতর্কবার্তা হিসেবে সামনে এনেছে, যে সড়ক নিরাপত্তা ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ না থাকলে সাধারণ মানুষের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। নিহত আরিফ শরীফের পরিবার এবং পরিচিতজনরা দ্রুত ন্যায্য বিচার প্রার্থনা করছেন।