মোবাইল ফোনের দাম কমলো শুল্ক হ্রাসে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৭ বার
মোবাইল ফোনের দাম কমলো শুল্ক হ্রাসে

প্রকাশ: ১৩  জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সরকার ক্রেতাসাধারণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে মোবাইল ফোনের দাম রাখার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সম্প্রতি মোবাইল ফোন আমদানিতে প্রযোজ্য কাস্টমস ডিউটি ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এতে মোবাইল ফোন আমদানিতে বিদ্যমান আমদানি শুল্ক প্রায় ৬ শতাংশ কমে গেছে।

মোবাইল ফোন সংযোজনকারী দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে হঠাৎ শুল্ক পরিবর্তনের কারণে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে না পড়ে, তা নিশ্চিত করার জন্য তাদের উপকরণ আমদানি করতেও কাস্টমস ডিউটি ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ ধার্য করা হয়েছে। এই নতুন প্রজ্ঞাপন দুইটি একসঙ্গে জারি হওয়ায় দেশে ৩০ হাজার টাকার অধিক মূল্যের প্রতিটি পূর্ণাঙ্গ মোবাইল ফোনের দাম আনুমানিক ১ হাজার ৫০০ টাকা কমে যাবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই সিদ্ধান্ত মোবাইল ফোন সংযোজন শিল্পের জন্য উল্লেখযোগ্য সুবিধা নিয়ে এসেছে, কারণ এখন তারা কম খরচে উপকরণ সংগ্রহ করতে পারবে এবং একইসঙ্গে চূড়ান্ত পণ্যের দামও কমানো সম্ভব হবে।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যে, এই প্রজ্ঞাপন মোবাইল ফোন সংযোজন শিল্পের জন্য একটি সমন্বিত পরিকল্পনার অংশ। সরকারের লক্ষ্য হলো দেশীয় সংযোজন শিল্পকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সহায়তা করা, যাতে তারা বাজারে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা পায়। এর ফলে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের উৎপাদিত মোবাইল ফোনের দাম কমিয়ে ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মোবাইল ফোনের দাম কমানো শুধু ক্রেতাদের জন্য নয়, দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোনের ব্যবহার শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত। সরকারের শুল্ক হ্রাসের ফলে যারা আগে উচ্চমূল্যের কারণে নতুন মোবাইল ফোন কিনতে পারতেন না, তারা এখন সহজে ক্রয় করতে পারবে। এ পদক্ষেপে বাজারে সাশ্রয়ী ও মানসম্মত মোবাইল ফোনের প্রবাহও বৃদ্ধি পাবে।

দেশীয় মোবাইল ফোন সংযোজনকারীরা দীর্ঘদিন ধরেই বলছিলেন যে, অতিরিক্ত শুল্কের কারণে তারা আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে। এনবিআরের নতুন প্রজ্ঞাপনের ফলে এই অবস্থা বদলাতে যাচ্ছে। উপকরণ আমদানি করায় শুল্ক কমানো হলে তারা কম খরচে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করতে পারবে, ফলে উৎপাদন খরচ কমবে এবং চূড়ান্ত পণ্যের দাম কমানো সম্ভব হবে।

সরকারের এই পদক্ষেপ ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। দেশে ইন্টারনেট ও মোবাইল সংযোগের বিস্তৃতি বাড়াতে এবং প্রযুক্তিগত সমতায় অবদান রাখতে, সাশ্রয়ী মূল্যের মোবাইল ফোন বাজারে আসা জরুরি। শিক্ষার্থী ও কম আয়ের মানুষদের জন্য মোবাইল ফোন কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি শিক্ষা, অনলাইন সেবা ও ডিজিটাল লেনদেনে অংশগ্রহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই প্রজ্ঞাপন দেশে প্রযুক্তি খাতের উদ্ভাবন ও প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রেও সহায়ক হবে। কম শুল্কে উপকরণ আমদানি করলে স্থানীয় সংযোজন শিল্প আরও বেশি উৎপাদন করতে সক্ষম হবে। এটি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও অবদান রাখবে, কারণ উৎপাদন বৃদ্ধি মানে শিল্প কারখানায় কর্মসংস্থানের সুযোগও বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে ক্রেতারা স্বল্পমূল্যে মানসম্মত মোবাইল ফোন পাবেন, যা অর্থনৈতিকভাবে স্বল্প ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষের জন্য সহায়ক হবে।

মোবাইল ফোন আমদানিতে শুল্ক হ্রাসের ফলে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় দেশীয় সংযোজন শিল্প সমান সুযোগ পাবে। আগে যেখানে উচ্চ শুল্কের কারণে দেশীয় সংযোজনকারী কম দামের ফোন উৎপাদন করতে পারত না, এখন তারা নতুনভাবে বাজারে প্রবেশ করে প্রতিযোগিতা বাড়াতে পারবে। ফলে বাজারে ফোনের মূল্য নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ক্রেতাদেরও দীর্ঘমেয়াদি সাশ্রয় হবে।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে বলা হয়েছে, সরকার মোবাইল ফোন এবং সংযোজন শিল্পের জন্য এমন নীতিমালা অব্যাহত রাখবে যাতে প্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন এবং ক্রেতাদের স্বার্থ সমুন্নত থাকে। বর্তমান পদক্ষেপটি দেশের মোবাইল ফোন সংযোজন শিল্প ও ক্রেতাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।

সর্বোপরি, মোবাইল ফোনের দাম কমানো এবং সংযোজন শিল্পের উপকরণ আমদানি সহজ করা দেশের প্রযুক্তি খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি শুধু ক্রেতাদের জন্য নয়, দেশের স্থানীয় শিল্প, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধিতেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে

 

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত