এলপিজি সংকটে বন্ধের পথে রাঙ্গামাটির অটোরিকশা

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫২ বার
এলপিজি সংকটে বন্ধের পথে রাঙ্গামাটির অটোরিকশা

প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটিতে এলপিজি গ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে শহরের একমাত্র গণপরিবহন সিএনজি অটোরিকশা বন্ধ হওয়ার পথে। মঙ্গলবার সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, গ্যাসচালিত অটোরিকশার অভাবে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বিশেষ করে স্কুলফেরত শিক্ষার্থীদের নিয়ে অভিভাবকরা হিমশিম খাচ্ছেন।

শহরের তিনটি গ্যাস পাম্পই গ্যাসের অভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অটোরিকশার চালকরা দীর্ঘ লাইন ধরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন। চালকদের মতে, অর্ধেক দিনই গ্যাসের জন্য নষ্ট হচ্ছে। ফলে সড়কে অটোরিকশার চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে, যা শহরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করছে। যাত্রীদের অভিযোগ, অনেক সময় গাড়ি আসলেও স্বল্প দূরত্বের যাত্রীদের অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে, তাই অনেকে দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে অভিভাবক ও সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

রাঙ্গামাটি জেলা অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. আবুল কালাম বলেন, ‘গ্যাস সংকটে ইতিমধ্যেই প্রায় পাঁচ শতাধিক অটোরিকশা চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। যদি আজ বিকেলের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হয়, বর্তমানে চলাচলকারী গাড়িগুলোও বন্ধ হয়ে যাবে। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বেড়ে যাবে।’ তিনি আরও বলেন, শহরে একমাত্র গণপরিবহন বন্ধ হলে যাত্রীদের দৈনন্দিন চলাচলে বড় ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হবে।

অপর দিকে মেসার্স মা পেট্রোলিয়াম এন্ড এলপিজি অটোগ্যাস ফিলিং স্টেশন ব্যবস্থাপক সঞ্জয় দাস জানান, ‘ডিপো থেকে প্রয়োজনীয় এলপিজি গ্যাস সরবরাহ না পাওয়ায় এই সংকট সৃষ্টি হয়েছে। আমরা যে পরিমাণ গ্যাস পাই, তা রেশনিং করে চালকদের মধ্যে বিতরণ করছি।’ তিনি আশ্বস্ত করেন, যত দ্রুত সম্ভব গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

দূরদূরান্ত থেকে শহরে আসা যাত্রীদের জন্য পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠেছে। বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বাজার, অফিস এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের জন্য অটোরিকশার ওপর নির্ভরশীল তারা। কিন্তু চলাচল কমে যাওয়ায় দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হচ্ছে। পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন, অপেক্ষা ও অর্ধেক দিনে সীমিত চলাচল চালকদের জন্যও আয়ের ক্ষতি তৈরি করছে।

স্থানীয় স্কুলের শিক্ষকরা জানান, শিশুদের স্কুলে পৌঁছে দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। অভিভাবকরা বিকল্প ব্যবস্থা করতে গিয়ে চরম চাপে পড়েছেন। তারা দাবি করেছেন, গ্যাসের সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে শহরের নাগরিকদের জীবন দৈনন্দিনভাবে বিপর্যস্ত হবে।

শহরের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষও তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রমে সমস্যার কথা জানিয়ে বলেন, অটোরিকশা ছাড়া বাজারজাত পণ্য পরিবহণ কঠিন হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে বৃদ্ধ, অসুস্থ ও বয়স্কদের জন্য এ পরিস্থিতি চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অটোরিকশার চালকরা বলছেন, গ্যাসের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষা করতে গিয়ে আয় কমে গেছে এবং যাত্রীদের চাপ বেড়ে গেছে। একদিকে এলপিজি সংকটের কারণে অটোরিকশার সংখ্যা সীমিত, অন্যদিকে স্বল্প দূরত্বের যাত্রী নেওয়ায় গড়ে আয়ও কমে যাচ্ছে। ফলে চালকরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

রাঙ্গামাটি শহরে এলপিজি সংকট কেবল যাত্রীদের জন্য নয়, শহরের স্বাভাবিক জীবিকা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং শিক্ষা কার্যক্রমেও বড় প্রভাব ফেলেছে। প্রশাসনিক পর্যায় থেকে সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে অচিরেই পুরো শহরের একমাত্র গণপরিবহন বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

সার্বিকভাবে দেখা যাচ্ছে, এলপিজি গ্যাস সংকটের কারণে রাঙ্গামাটির জনজীবন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নাগরিকরা আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে, যাতে শহরের চলাচল, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত