প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্তে উত্তাল হয়ে উঠেছে শিক্ষার্থীরা। জাতীয় নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রজ্ঞাপনের প্রতিবাদে সোমবার রাত ১১টায় শুরু হওয়া আন্দোলন ২০ জানুয়ারি শাকসু নির্বাচন আয়োজনের দাবি নিয়েই প্রবল আকার ধারণ করে। আন্দোলনে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন আবাসিক হল ও মেস থেকে মিছিল নিয়ে গোলচত্বরে জড়ো হন এবং শাকসু নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন, যাতে নির্বাচন নিয়ে টালবাহানা এবং দীর্ঘদিন ধরে ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ রাখার অভিযোগ তুলে ধরে নির্ধারিত তারিখে ভোট আয়োজনের দাবিও জানানো হয়। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে শাকসু নির্বাচন বন্ধ থাকায় তাদের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়েছে। এখন অধিকার আদায়ের সময় হলেও জাতীয় নির্বাচনের অজুহাতে পুনরায় নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, যা তারা মেনে নিচ্ছেন না।
শিবির সমর্থিত ‘দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ছাত্রদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা তাদের মৌলিক অধিকার। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। প্রশাসনকে এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে হবে, অন্যথায় দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে।’ তিনি আরও বলেন, ছাত্ররা কোনো ধরনের গড়িমসি সহ্য করবে না এবং তাদের দাবি পূরণ না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি নেওয়ার প্রস্তুতিও রয়েছে।
উল্লেখযোগ্য যে, মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা থাকায় সন্ধ্যা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে সব ধরনের মিছিল-মিটিং নিষিদ্ধ করেছে প্রশাসন। তবু বিক্ষোভে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা সকাল থেকে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিয়ে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যান। তাদের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন থামাবে না।
শাকসু নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের প্রজ্ঞাপন সঠিক হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে শাকসু নির্বাচন স্থগিত করার প্রয়োজন হতে পারে। তবে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।’ তিনি যোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে শিক্ষার্থীদের দাবির দিকে মনোযোগ দিতে হবে এবং তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে কার্যকর সমন্বয় করতে হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ছাত্র সংসদ নির্বাচন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার অন্যতম মাধ্যম। দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছে না। এই পরিস্থিতিতে জাতীয় নির্বাচনের অজুহাত দেওয়ার ফলে শিক্ষার্থীরা নিজেদের অধিকারহীন মনে করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও ছাত্রদের স্বার্থ রক্ষার জন্য শাকসু নির্বাচনের যথাসময়ে আয়োজন অত্যন্ত জরুরি।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এই আন্দোলন শুধুই নির্বাচনের দাবিতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের প্রতি তাদের অসন্তোষও প্রকাশ করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা নির্বাচন পুনরায় কার্যকর না হলে শিক্ষার্থীরা আরও বৃহৎ ও সংগঠিত আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ক্যাম্পাসে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রশাসন শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নে যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছে না, যা ছাত্র সমাজে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।
বিক্ষোভের সময় শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান নিয়েছেন। গোলচত্বরে এবং শাকসু নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় এলাকায় অবস্থান নিয়ে তারা দাবী করেছেন যে, নির্বাচন অবশ্যই পূর্ব নির্ধারিত তারিখ অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, তাদের দাবি না মেনে আন্দোলনকে দমন করা হলে ছাত্র সমাজে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদ সমাজে ছাত্র রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে। এটি শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা নয়, বরং সমগ্র শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক সচেতনতা এবং ভোটাধিকার প্রয়োগের ওপর কেন্দ্রিত। শিক্ষার্থীরা তাদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা রক্ষায় সচেষ্ট।
পরিশেষে, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দেশের শিক্ষাঙ্গনে ছাত্র রাজনীতির শক্তিশালী উদাহরণ হয়ে থাকবে। নির্বাচনের স্বচ্ছতা, শিক্ষার্থীদের অধিকার এবং প্রশাসনের দায়বদ্ধতার নিশ্চয়তা নিশ্চিত করতে এই আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশন শিক্ষার্থীদের মৌলিক দাবির প্রতি গুরুত্বারোপ না করলে, আন্দোলনের তীব্রতা ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।