সর্বশেষ :
গ্রিনল্যান্ড প্রশ্নে রুদ্ধদ্বার বৈঠকেও দূরত্ব ঘোচেনি ড্রোন অনুপ্রবেশে দোষীদের শাস্তির অঙ্গীকার দক্ষিণ কোরিয়ার ২০২৬ বিশ্বকাপ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রকে বহিষ্কারের দাবি ব্রিটিশ এমপিদের বিবাহবার্ষিকীতে ডিভোর্স পেপার, সেলিনার জীবনের কঠিন সত্য উত্তেজনার মধ্যে ইরানের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ হাদীর বিচার চাই: ইনকিলাব মঞ্চ নিয়ে স্ত্রীর প্রশ্ন ছয় মাসে এডিপি বাস্তবায়নে ধস, উন্নয়ন গতি পাঁচ বছরে সর্বনিম্ন রংপুরের ছয় আসনে ভোটের লড়াই, শক্ত অবস্থানে জামায়াত যুব বিশ্বকাপে আজ পর্দা উঠছে, শুরুতেই ভারতের চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ হয়েছে, দাবি ট্রাম্পের

জবাবদিহিতা না মানলে রাজনীতিতে টিকে থাকা যাবে না: খসরু

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৪৫ বার
জবাবদিহিতা না মানলে রাজনীতিতে টিকে থাকা যাবে না: খসরু

প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

রাজনীতিতে আস্থার সংকট কাটাতে জবাবদিহিতার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, আগামীর বাংলাদেশে যারা জবাবদিহিতাকে ধারণ করতে পারবেন না, জনগণের প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দেবেন না—তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ থাকবে না। জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে সংস্কার আপনাতেই বাস্তবায়িত হবে, আলাদা করে সংস্কারের ঢাক পেটাতে হবে না।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ‘জাতীয় নির্বাচন ২০২৬ ও নাগরিক প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক নাগরিক প্ল্যাটফর্মের সংলাপে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। রাজনৈতিক সংস্কার, গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ এবং জনগণের আস্থা ফেরানোর পথ নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে আমীর খসরু দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার এক গভীর চিত্র তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, রাজনীতির ওপর মানুষের আস্থা কমে গেছে—এটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে এই আস্থা ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব রাজনীতিবিদদেরই নিতে হবে। কেউ বাইরে থেকে এসে রাজনীতিবিদদের প্রতি জনগণের বিশ্বাস তৈরি করে দেবে না। জনগণের সঙ্গে রাজনীতিবিদদের সম্পর্ক নতুন করে গড়ে তুলতে হবে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে।

আমীর খসরু বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে বহু বছর ধরে একটি বড় সংকট হলো জবাবদিহিতার অনুপস্থিতি। ক্ষমতায় থাকা কিংবা ক্ষমতার বাইরে থাকা—উভয় অবস্থাতেই রাজনীতিবিদদের জনগণের কাছে দায়বদ্ধ থাকতে হবে। জনগণ কেন ভোট দেবে, কেন আস্থা রাখবে—সে প্রশ্নের উত্তর রাজনীতিবিদদের নিজেদের কাজ দিয়েই দিতে হবে।

তিনি বলেন, দেশে দীর্ঘ সময় ধরে অনির্বাচিত সরকার ব্যবস্থার চর্চা হয়েছে এবং এখনো তার রেশ পুরোপুরি কাটেনি। সংসদীয় গণতন্ত্র কার্যকর না থাকায় জবাবদিহিতার কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে। সংসদে গেলে সরকার ও জনপ্রতিনিধিদের জন্য একটি শক্তিশালী জবাবদিহিতার জায়গা তৈরি হয়। সংসদে প্রশ্ন, আলোচনা, সমালোচনার মধ্য দিয়ে সরকারকে জনগণের মুখোমুখি হতে হয়। এই সংস্কৃতি না থাকলে গণতন্ত্র শুধু কাগজে-কলমে থেকে যায়।

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা আরও বলেন, জবাবদিহিতা শুধু সংসদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। সংসদের বাইরেও সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম, বেসরকারি সংস্থা ও নাগরিক সমাজের কাছে জবাবদিহি করার একটি কাঠামো থাকতে হবে। সুশীল সমাজ ও এনজিওগুলোর ভূমিকা উপেক্ষা করলে রাষ্ট্রে স্বৈরতন্ত্রের ঝুঁকি তৈরি হয়। ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে—যেখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হয়েছে, সেখানেই স্বৈরশাসনের জন্ম হয়েছে।

আমীর খসরু বলেন, কোনো সরকার একা কোনো সমস্যার সমাধান করতে পারে না। রাষ্ট্র পরিচালনা একটি অংশীদারিত্বের প্রক্রিয়া। সেখানে রাজনৈতিক দল, বেসরকারি খাত, সুশীল সমাজ, এনজিও, পেশাজীবী সংগঠন—সবাইকে সম্পৃক্ত করতে হয়। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এই অংশীদারিত্বমূলক রাজনীতির চর্চা করবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

তিনি বলেন, উন্নয়ন মানে শুধু অবকাঠামো নয়। উন্নয়ন মানে মানুষের অধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার এবং রাষ্ট্রের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। এসব ছাড়া কোনো উন্নয়ন টেকসই হয় না। জনগণ এখন আর শুধু উন্নয়নের গল্প শুনতে চায় না, তারা জানতে চায়—কার কাছে তাদের প্রশ্ন করার সুযোগ আছে।

সংলাপে বক্তৃতাকালে আমীর খসরু ভবিষ্যৎ রাজনীতির একটি কঠোর বাস্তবতার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আগামী দিনে জনগণ রাজনীতিবিদদের কথা নয়, কাজের হিসাব চাইবে। যারা এই বাস্তবতা বুঝতে ব্যর্থ হবে, যারা জনগণের প্রশ্নকে ভয় পাবে, তাদের রাজনীতিতে টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাবে।

তার ভাষায়, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে সংস্কার স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাস্তবায়িত হবে। আলাদা করে সংস্কারের নামে নাটক করার দরকার হবে না। জনগণের সামনে দাঁড়িয়ে যদি একজন রাজনীতিবিদ তার সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে পারে, ভুল হলে স্বীকার করতে পারে, তাহলে সেখান থেকেই প্রকৃত সংস্কারের শুরু হয়।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি রাজনৈতিক সংস্কারকে কেবল একটি স্লোগান হিসেবে দেখে না। দলটি বিশ্বাস করে, গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে হলে রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে জবাবদিহিতার চর্চা চালু করতে হবে। সুশীল সমাজের সঙ্গে কীভাবে এই জবাবদিহিতার কাঠামো তৈরি করা যায়, সে বিষয়েও বিএনপি ভাবছে।

সংলাপে উপস্থিত নাগরিক প্রতিনিধিরা আমীর খসরুর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে প্রশ্ন ও মতামত তুলে ধরেন। তারা বলেন, জনগণ এখন রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতির চেয়ে বেশি দায়িত্বশীলতা দেখতে চায়। রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে একটি বাস্তবসম্মত, জবাবদিহিতামূলক শাসনব্যবস্থার রূপরেখা প্রত্যাশা করছে নাগরিক সমাজ।

সব মিলিয়ে, শেরেবাংলা নগরের এই সংলাপ দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়ে নতুন করে আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করেছে। আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বক্তব্য স্পষ্ট করে দিয়েছে—আগামী দিনের রাজনীতি হবে জবাবদিহিতা ও জনগণের প্রত্যাশার রাজনীতি। যারা সেই বাস্তবতা মেনে নিতে পারবে, তারাই জনগণের আস্থা অর্জন করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত