প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও গণমুখী সংসদের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, তারা এমন একটি সংসদ বিনির্মাণ করতে চান যেখানে কেবল আনুষ্ঠানিকতা বা প্রদর্শনীমূলক কর্মকাণ্ড নয়, বরং মানুষের বাস্তব সমস্যার কথা বলা হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ভবিষ্যতের সংসদে সন্ত্রাসী সংস্কৃতির কোনো জায়গা থাকবে না, থাকবে না অন্ধ প্রশংসা কিংবা একতরফা বক্তব্যের রাজনীতি।
একটি কর্মী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ। সভাস্থলে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা, ভবিষ্যৎ নির্বাচন এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের কাঙ্ক্ষিত রূপরেখা তুলে ধরেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এমন একটি সংসদ দেখেছে যেখানে সংসদ সদস্যদের ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। সংসদের মেঝে বহু সময় মানুষের কথা বলার জায়গা না হয়ে ওঠে প্রশংসার মঞ্চে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি সংসদ চাই, যেখানে আর শুধু নৃত্যগীত হবে না। সেই সংসদে মানুষের দুঃখ-কষ্ট, দাবি ও অধিকার নিয়ে আলোচনা হবে। সেখানে কোনো রকম সন্ত্রাসী কার্যক্রম বা সন্ত্রাসীদের আশ্রয় থাকবে না।’
তিনি আরও বলেন, আগামী দিনে আর কোনো গণতান্ত্রিক সরকার যেন লাইনচ্যুত হতে না পারে, সে জন্য শক্তিশালী সংসদীয় ব্যবস্থার বিকল্প নেই। সংসদকে কার্যকর করতে হলে সেখানে ভিন্নমতের সহাবস্থান থাকতে হবে, বিরোধী দলের কণ্ঠ রোধ করা যাবে না। সংসদে সমালোচনা থাকবে, বিতর্ক থাকবে, কিন্তু সেই বিতর্ক হবে দেশের স্বার্থে এবং জনগণের কল্যাণে।
বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘আগামীর সংসদ হবে আইন প্রণয়নের সংসদ। সেই আইন হবে জনগণের জীবনমান উন্নয়নের জন্য, গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষার জন্য এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার জন্য।’ তিনি বলেন, একটি শক্তিশালী সংসদ ছাড়া কোনো দেশ টেকসই উন্নয়নের পথে এগোতে পারে না।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তারা এমন সংসদ চান যেখানে আর প্রশংসার স্তুতিবাক্যের সংস্কৃতি থাকবে না। সংসদ সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী বা সরকারের প্রশংসা করতেই সংসদে যাবেন না, বরং জনগণের পক্ষে কথা বলবেন। সংসদ হবে জনগণের প্রশ্ন তোলার জায়গা, সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রধান মঞ্চ।
তিনি বলেন, ‘আমরা এমন সংসদ গড়ে তুলতে চাই যেখানে বিরোধিতা থাকবে। কারণ বিরোধিতা ছাড়া গণতন্ত্র বাঁচে না। একদলীয় চিন্তা ও একমুখী বক্তব্য গণতন্ত্রকে দুর্বল করে।’ এই ধরনের একটি সংসদ গড়ে তুলতে পারলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আগামী জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এই নির্বাচন শুধু ক্ষমতা পরিবর্তনের নির্বাচন নয়, এটি হবে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার দিকনির্দেশনা নির্ধারণের নির্বাচন। তিনি বলেন, ‘আগামীর নির্বাচন হবে বাংলাদেশের মানুষের প্রকৃত গণতান্ত্রিক অধিকার বাস্তবায়নের নির্বাচন।’ তার ভাষায়, এই নির্বাচন নির্ধারণ করবে বাংলাদেশ কোন পথে হাঁটবে—গণতন্ত্রের পথে নাকি আবারও কর্তৃত্ববাদী শাসনের পথে।
তিনি আরও বলেন, এই নির্বাচন শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে গড়ে ওঠা সংগ্রামের বাস্তবায়নের নির্বাচন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য যারা জীবন দিয়েছেন, যারা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগের মর্যাদা দিতে হলে একটি গ্রহণযোগ্য, অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তারা বিশ্বাস করেন, আগামীর নির্বাচন হবে এই জাতির ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। এই নির্বাচন জাতির ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে। একটি সঠিক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে এবং রাষ্ট্রের সব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী ভিত্তি পাবে।
তিনি বলেন, শক্তিশালী সংসদ, স্বাধীন বিচার বিভাগ, কার্যকর নির্বাচন কমিশন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা—এই চারটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়েই গণতন্ত্র টিকে থাকে। বিএনপি সেই লক্ষ্যেই রাজনীতি করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
কর্মী সভায় তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, রাজনীতিতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে, তাদের সমস্যা শুনতে হবে এবং সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। রাজনীতি যদি মানুষের জন্য না হয়, তাহলে সেই রাজনীতির কোনো মূল্য নেই।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক, সাধারণ সম্পাদক এম মোবারক আলী, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান চৌধুরী খোকন মিয়া, চিরিঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আলী আহমদ ও সদস্য সচিব শরিফুল আলমসহ বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী ও মহিলা নেতৃবৃন্দ।
সভা শেষে নেতাকর্মীদের মধ্যে আগামী দিনের রাজনৈতিক লড়াই এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলন নিয়ে নতুন উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। বক্তারা মনে করেন, একটি কার্যকর সংসদই পারে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে এবং দেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে।