প্রবাসীদের জন্য শরীয়াভিত্তিক ঋণ চালুর ঘোষণা আসিফ নজরুলের

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫২ বার
প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংকের শরীয়াভিত্তিক ঋণ

প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আশাব্যঞ্জক ঘোষণা দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তিনি জানিয়েছেন, প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংক থেকে অচিরেই শরীয়াভিত্তিক ঋণ প্রদানের কার্যক্রম চালু হতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে সুদভিত্তিক ঋণ ব্যবস্থার কারণে যারা প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংকের সেবা নিতে সংকোচ বোধ করছিলেন, তাদের জন্য এই সিদ্ধান্তকে বড় ধরনের স্বস্তি ও ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে ড. আসিফ নজরুল এ তথ্য জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশে লিখেছেন, “প্রবাসী ভাইদের জন্য সুসংবাদ। প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংক থেকে অচিরেই চালু হচ্ছে শরীয়াভিত্তিক ঋণ প্রদানের কার্যক্রম।” তার এই ঘোষণার পরপরই প্রবাসী মহলসহ দেশের ভেতরে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ড. আসিফ নজরুল তার পোস্টে আরও উল্লেখ করেন, তিনি সম্প্রতি প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছেন। আলোচনার ভিত্তিতে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি জানান, চলতি মাসের মধ্যেই শরীয়াভিত্তিক ঋণ কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হবে। সরকারের দায়িত্বশীল একজন উপদেষ্টার কাছ থেকে এমন সুস্পষ্ট সময়সীমাসহ ঘোষণা আসায় প্রবাসীরা বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন।

প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংক মূলত বিদেশগামী ও বিদেশফেরত কর্মীদের আর্থিক সহায়তা, পুনর্বাসন এবং উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে ঋণ প্রদান করে থাকে। তবে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকটির ঋণ কার্যক্রম মূলত সুদভিত্তিক হওয়ায় একটি বড় অংশের প্রবাসী ও প্রবাসী হতে ইচ্ছুক জনগোষ্ঠী ধর্মীয় কারণে এই সেবা গ্রহণে অনাগ্রহ প্রকাশ করতেন। ফলে অনেকেই এনজিও কিংবা বেসরকারি মহাজনী ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তেন, যা অনেক ক্ষেত্রে তাদের জন্য আর্থিক ঝুঁকি ও দুর্ভোগ বাড়িয়েছে।

শরীয়াভিত্তিক ঋণ ব্যবস্থা চালুর সিদ্ধান্তকে সেই বাস্তবতার আলোকে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করছেন সংশ্লিষ্টরা। অর্থনীতিবিদদের মতে, সুদমুক্ত বা শরীয়াহসম্মত আর্থিক ব্যবস্থার প্রতি বাংলাদেশে আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে প্রবাসী শ্রমিকদের একটি বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্যসহ মুসলিমপ্রধান দেশগুলোতে কর্মরত থাকায় তারা ধর্মীয় অনুশাসনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আর্থিক সেবাকে বেশি গুরুত্ব দেন।

ড. আসিফ নজরুল তার পোস্টে এই উদ্যোগ গ্রহণের পেছনের প্রেক্ষাপটও তুলে ধরেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, শরীয়াভিত্তিক ঋণ কার্যক্রম চালু করতে তাকে বিশেষভাবে উদ্বুদ্ধ করেছেন শায়খ আহমাদুল্লাহ। এ জন্য তিনি শায়খ আহমাদুল্লাহকে ধন্যবাদ জানান। বিষয়টি থেকে স্পষ্ট হয় যে, সরকারের এই সিদ্ধান্তের পেছনে ধর্মীয় চিন্তাবিদ ও সমাজের বিভিন্ন অংশীজনের মতামতও গুরুত্ব পেয়েছে।

প্রবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো বলছে, শরীয়াভিত্তিক ঋণ ব্যবস্থা চালু হলে প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংকের আওতা ও গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণে বাড়বে। এতে প্রবাসীরা বৈধ পথে ঋণ নিয়ে বিদেশে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে পারবেন, পাশাপাশি বিদেশফেরত কর্মীরা দেশে ফিরে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ পাবেন। এর ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য হ্রাসে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন তারা।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রবাসীরা প্রতি বছর দেশে বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠান, যা দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। কিন্তু এই প্রবাসীদের বড় একটি অংশ বিদেশে যাওয়ার আগেই ঋণের বোঝায় জর্জরিত হয়ে পড়েন। শরীয়াভিত্তিক ঋণ চালু হলে এই ঋণ গ্রহণ প্রক্রিয়া আরও সহজ, স্বচ্ছ ও মানবিক হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ঋণ চালু করলেই হবে না, এর কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, সহজ শর্ত এবং দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে হবে। প্রবাসীরা যেন দালালচক্রের শিকার না হন এবং প্রকৃত উপকারভোগীরা যেন এই ঋণের সুবিধা পান, সে বিষয়ে শক্ত নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে। একই সঙ্গে ঋণের অর্থ যেন উৎপাদনমুখী কাজে ব্যবহার হয়, সে জন্য প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ সেবাও জোরদার করা জরুরি।

ড. আসিফ নজরুলের ঘোষণাকে অনেকেই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রবাসীবান্ধব নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন। তার দায়িত্বের আওতায় থাকা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতে এর আগে নানা সংস্কারমূলক উদ্যোগ নেওয়ার কথাও তিনি বিভিন্ন সময় উল্লেখ করেছেন। শরীয়াভিত্তিক ঋণ চালুর উদ্যোগ সেই ধারাবাহিকতারই অংশ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সব মিলিয়ে, প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংক থেকে শরীয়াভিত্তিক ঋণ কার্যক্রম চালুর ঘোষণা প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য নিঃসন্দেহে একটি বড় সুসংবাদ। এটি বাস্তবায়িত হলে শুধু প্রবাসীদের আর্থিক স্বস্তিই বাড়বে না, বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত