ঢাকার রাস্তায় বৈদ্যুতিক বাসের নতুন ভোর: পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থার দিকে দৃপ্ত পদক্ষেপ

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১২ জুলাই, ২০২৫
  • ৩৮ বার
ঢাকার রাস্তায় বৈদ্যুতিক বাসের নতুন ভোর: পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থার দিকে দৃপ্ত পদক্ষেপ

প্রকাশ: ১২ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

দূষণ, যানজট ও ক্লান্তিকর নাগরিক যাপনের মাঝেও ঢাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করেছে এক নতুন ভোরের। দিনের পর দিন কালো ধোঁয়ায় নাকাল রাজধানী এখন পাচ্ছে এক টেকসই স্বপ্নের দেখা—বৈদ্যুতিক বাস। আর এটি নিছক কোনো নতুন যানবাহনের সংযোজন নয়, বরং নগরের পরিবহন ব্যবস্থায় এক রূপান্তরমূলক যাত্রার সূচনা।

বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্পের আওতায় রাজধানীতে যুক্ত হচ্ছে চার শতাধিক আধুনিক, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত, দূষণমুক্ত বৈদ্যুতিক বাস। প্রথম ধাপে এই বাসগুলো চলবে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ রুটে। এতে থাকছে উন্নত মানের যাত্রীসেবা—ডিজিটাল টিকিটিং, লাইভ ট্র্যাকিং, আরামদায়ক আসন এবং শব্দদূষণহীন অভিজ্ঞতা। বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব বাস শুধু পরিবেশ নয়, বরং যাত্রীসেবার মানও পাল্টে দিতে পারে।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার বাস আমদানির ক্ষেত্রে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে মানের ওপর। আগের মতো ভারতীয় প্রযুক্তিনির্ভর স্বল্পমেয়াদি বাস নয়, বরং চীন, দক্ষিণ কোরিয়া এবং ইউরোপের উন্নত প্রযুক্তিসম্পন্ন ব্র্যান্ড থেকেই এই বাস আনা হবে। শুধু বাস আমদানি নয়, চালক প্রশিক্ষণ, যন্ত্রাংশ রক্ষণাবেক্ষণ এবং নির্গমন পরিমাপক ইউনিট গঠনসহ একটি পূর্ণাঙ্গ, কার্যকর কাঠামো গড়ে তোলার কাজও চলছে জোরেশোরে।

এই প্রকল্পকে শুধু বর্তমান নয়, ভবিষ্যতের ঢাকা গঠনের রূপরেখা হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে। পূর্বাচল, ঝিলমিল ও নারায়ণগঞ্জে চার্জিং ডিপো নির্মাণের পাশাপাশি গড়ে তোলা হচ্ছে তিনটি আধুনিক বাস টার্মিনাল। এর মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিবহন ব্যবস্থাকে একক অপারেটর মডেলের আওতায় এনে বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা কমানোর দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

চীনের সেনচেন শহর যেখানে ১৭ হাজারের বেশি ইভি বাস চালু করে বৈদ্যুতিক যানবাহন ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে, সেখানে ঢাকার এই উদ্যোগকেও কেউ কেউ ‘নীরব বিপ্লব’ বলেই অভিহিত করছেন। ইউরোপ ও আমেরিকার শহরগুলোর মতোই ঢাকার রাস্তাতেও এখন ধোঁয়ামুক্ত, শব্দমুক্ত, প্রযুক্তিসম্পন্ন বাস ছুটবে—এটি কেবল একটি পরিবহন সেবার উন্নয়ন নয়, বরং একটি আধুনিক ও মানবিক শহর গঠনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য সরকার যেমন সচেষ্ট, তেমনি প্রয়োজন সাধারণ নাগরিকদের সচেতনতা ও সহযোগিতা। পরিবেশবান্ধব এই নতুন বাসগুলো শুধু যত্নে ব্যবহার নয়, নাগরিক দায়িত্ববোধের মাধ্যমে রক্ষা করাও আবশ্যক। এই যাত্রা একা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়—এটি হতে হবে নাগরিক সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত প্রয়াস।

ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ ও বিপুল জনসংখ্যার মহানগরে দূষণ ও যানজট মোকাবিলায় এই ধরনের পদক্ষেপ অনেক আগেই প্রয়োজন ছিল। এই প্রকল্প সফল হলে শুধু রাজধানী নয়, গোটা দেশের পরিবহন নীতিতে নতুন ধারা সূচিত হতে পারে। একই সঙ্গে এটি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) অর্জনের পথও প্রশস্ত করবে।

এই বৈদ্যুতিক বাস প্রকল্প শুধু একটি যানবাহন নয়—এটি একটি প্রতিশ্রুতি, একটি প্রতীক; পরিচ্ছন্ন, মানবিক ও পরিবেশবান্ধব ঢাকার প্রতীক। শহরজুড়ে ছড়িয়ে থাকা যান্ত্রিক অব্যবস্থাপনার মাঝে এটি যেন একটি সুবাতাস। একদিন হয়তো এই বাসগুলো হবে ঢাকার নতুন পরিচয়। আর সেই পরিচয়ে শামিল থাকবে প্রতিটি ঢাকাবাসীর সম্মিলিত আশাবাদ ও সচেতনতা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত