জামায়াত জোটের আসন সমঝোতা চূড়ান্ত, কে কত পেল

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৩০ বার
জামায়াত জোটের আসন সমঝোতা চূড়ান্ত

প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দীর্ঘদিনের আলোচনা, দরকষাকষি ও টানাপোড়েনের পর অবশেষে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি জোটের আসন সমঝোতা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। আজ বুধবার বিকেল চারটার দিকে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে যৌথ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সমঝোতার ঘোষণা দেওয়ার কথা রয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। যদিও গতকাল মধ্যরাত পর্যন্ত গণমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি, তবে আজ সকালে সংবাদ সম্মেলনের আমন্ত্রণ পাঠানো হতে পারে বলে জানা গেছে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত এই সমঝোতাকে ঘিরে গত কয়েক দিন ধরে জোটের ভেতরে ছিল প্রবল ব্যস্ততা। রোববার জামায়াতের সঙ্গে বৈঠকে জাতীয় নাগরিক পার্টির সঙ্গে ৩০টি আসনে সমঝোতা চূড়ান্ত হয়। এরপর সোমবার রাত ও মঙ্গলবার দিনভর একের পর এক বৈঠকের মাধ্যমে বাকি দলগুলোর আসন বণ্টন নিয়ে আলোচনা এগিয়ে যায়। শেষ মুহূর্তের আলোচনায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ১৫টির বেশি আসন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। একই সঙ্গে খেলাফত মজলিসের আসন সংখ্যা আগের তুলনায় বাড়িয়ে ১০টি করা হয়েছে। লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি এলডিপিকে ৭টি, এবি পার্টিকে ৩টি এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টিকে ২টি আসন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে জোটের সব দলের বিষয়ে এখনো পূর্ণ নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি জাগপা, নেজামে ইসলাম পার্টি এবং আরেকটি খেলাফত মজলিস শাখাকে আসন দেওয়া হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। কোনো কোনো সূত্র বলছে, এসব দল একটি করে আসন পেতে পারে। এই হিসাব অনুযায়ী, সব দলকে আসন দেওয়ার পরও জামায়াতে ইসলামীর জন্য ১৮০টির বেশি আসন রেখে সমঝোতা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

এই সমঝোতা প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বেশি দরকষাকষি হয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সঙ্গে। দলটির নেতারা শুরু থেকেই তুলনামূলক বড় অংশের আসন দাবি করে আসছিলেন। ইসলামী আন্দোলনের প্রত্যাশা ছিল ৭০টির বেশি আসন। কিন্তু দীর্ঘ আলোচনার পর শেষ পর্যন্ত তাদের জন্য ৪৫টি আসন বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এই সংখ্যা নিয়ে দলটির ভেতরে অসন্তোষ স্পষ্ট। ফলে তারা শেষ পর্যন্ত এই সমঝোতায় থাকবে কিনা, সে বিষয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুস আহমদ সাংবাদিকদের জানান, তাদের বৈঠক তখনও চলছিল। তিনি বলেন, সন্ধ্যার পর থেকেই দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে একাধিক বৈঠক হচ্ছে এবং বিষয়টি নিয়ে গভীর আলোচনা চলছে। বুধবার সকাল পর্যন্ত তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়নি। জামায়াত সূত্র জানায়, ইসলামী আন্দোলনকে ধরেই আজকের সংবাদ সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে দলটি উপস্থিত থাকবে কিনা, সে বিষয়ে তারা কোনো নিশ্চয়তা দেয়নি। জামায়াতের শীর্ষ নেতারা বলছেন, কোনো কারণে ইসলামী আন্দোলন শেষ মুহূর্তে সমঝোতা থেকে সরে দাঁড়ালে বাকি দলগুলোর সমন্বয়েই চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হবে।

১১ দলীয় এই জোটের আসন সমঝোতা নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার দিনভর রাজধানীতে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতারা এসব বৈঠকে অংশ নেন। সেখানে আসন বণ্টনের পাশাপাশি নির্বাচনি কৌশল, প্রার্থীদের সমন্বয় এবং মাঠপর্যায়ে সংঘাত এড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয় বলে জানা গেছে। বৈঠকগুলোর মাধ্যমে অধিকাংশ দলের আসন চূড়ান্ত হলেও কিছু দলের ক্ষেত্রে শেষ মুহূর্তের সমন্বয় বাকি ছিল। আজ দুপুরের আগে আরেক দফা বৈঠকে সেগুলো নিষ্পত্তি করে সংবাদ সম্মেলনে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

সমঝোতার সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, মঙ্গলবারের বৈঠকে আসন সমঝোতার কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। যেটুকু বাকি আছে, তা বুধবার দুপুরের আগেই বসে শেষ করা হবে। তিনি জানান, সংবাদ সম্মেলন হলে সেখানেই সব দলের জন্য চূড়ান্ত আসন বণ্টনের বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।

এই জোট গঠনের পেছনে দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রক্রিয়া রয়েছে। গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে ১০ দলীয় নির্বাচনি সমঝোতার ঘোষণা দেন। পরে আরও একটি দল যুক্ত হয়ে সেটি ১১ দলীয় জোটে রূপ নেয়। তবে তখন আসন সমঝোতা চূড়ান্ত না হওয়ায় জোটভুক্ত দলগুলোর মধ্যে অস্থিরতা তৈরি হয়। অনেক দলই সম্ভাব্য বেশি আসনে নিজেদের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেয়। এতে মাঠপর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও বিভ্রান্তির আশঙ্কা তৈরি হয়। সেই প্রেক্ষাপটেই গত সোমবার রাত ও মঙ্গলবার দুপুরের পর দফায় দফায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে আসন সমঝোতার বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে আসে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত নেতৃত্বাধীন এই জোটের আসন সমঝোতা কেবল নির্বাচনি সমীকরণ নয়, বরং বিরোধী রাজনীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনাও নির্ধারণ করবে। বড় শরিকদের সন্তুষ্ট রাখা এবং ছোট দলগুলোকেও জোটে ধরে রাখার ভারসাম্য রক্ষা করা জামায়াতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। সেই দিক থেকে ১৮০টির বেশি আসন নিজেদের জন্য রেখে বাকিগুলো শরিকদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার কৌশলকে তারা বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন।

তবে ইসলামী আন্দোলনের অসন্তোষ এই সমঝোতার সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা। দলটি যদি শেষ মুহূর্তে সরে দাঁড়ায়, তাহলে জোটের শক্তি ও নির্বাচনি কৌশলে প্রভাব পড়তে পারে। আবার তারা যদি আপস করে সমঝোতায় থাকে, তাহলে ১১ দলীয় জোট একটি বড় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নির্বাচনে মাঠে নামবে।

আজকের সংবাদ সম্মেলনের দিকে তাই রাজনৈতিক অঙ্গনের সবার দৃষ্টি। সেখানে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ জোটভুক্ত সব দলের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান হবে এবং নির্বাচনি মাঠে জোটের চূড়ান্ত অবস্থান স্পষ্ট হবে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট মহলের।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত