চবিতে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে দুদকের তৎপর অভিযান

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৭ বার
চবিতে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগে দুদকের তৎপর অভিযান

প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) জুলাই পরবর্তী প্রশাসনের সময় বিভিন্ন পদে শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগের প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে অভিযান চালায়। অভিযানটির নেতৃত্ব দেন দুদকের সহকারী পরিচালক সায়েদ আলম। চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক সুবেল আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, অভিযানের মূল লক্ষ্য নিয়োগের নথিপত্র যাচাই এবং অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করা।

এর আগে, গত শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত ৫৬৫তম সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষক ও কর্মচারী মিলিয়ে মোট ১১৩ জনকে নিয়োগ ও পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন বিভাগের প্রভাষক পদে নিয়োগ পেয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) শামীম উদ্দিন খানের মেয়ে মহিরা খান। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সাইফুল ইসলামের ভাই মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। এই নিয়োগগুলো সামাজিক ও একাডেমিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নির্বাহ করতে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই), প্রাণিবিদ্যা, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা (এইচআরএম)সহ নয়টি বিভাগের জন্য মোট ৪৪ জন শিক্ষক নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১০০ জন তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী এবং ৯ জন কর্মকর্তার নিয়োগের সুপারিশও অনুমোদন করেছে সিন্ডিকেট। কর্মকর্তাদের মধ্যে নেটওয়ার্ক টেকনিশিয়ান, কম্পিউটার অপারেটর এবং অফিস সহকারীসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগ নিশ্চিত হয়েছে।

দুদকের অভিযানের উদ্দেশ্য হলো নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা যাচাই করা। সূত্র জানায়, অভিযানে নিয়োগের প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই, সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত এবং আবেদন প্রক্রিয়ার সঠিকতা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিশেষভাবে নজর দেওয়া হচ্ছে অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক ও পারিবারিক সংযোগের ভিত্তিতে কোনো প্রার্থীকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে কিনা, এমন অভিযোগগুলো যাচাই করতে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকমণ্ডলী এবং কর্মচারীদের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে আগেই প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, উচ্চ শিক্ষার প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে শিক্ষার মান, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং শিক্ষার্থীর অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এমন পরিস্থিতি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার প্রতি সাধারণ জনগণের আস্থা কমিয়ে দেয়।

এই অভিযানের প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং সিন্ডিকেটের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান যা নিয়োগ প্রক্রিয়ার সব দিক নিরীক্ষণ করে এবং নিশ্চিত করে যে প্রক্রিয়াটি ন্যায্য ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সম্পন্ন হচ্ছে। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে যে, সিন্ডিকেটের অনুমোদনের সময় পারিবারিক সম্পর্ক বা ব্যক্তিগত প্রভাবের কারণে প্রার্থীদের সুবিধা দেওয়া হতে পারে।

দুদক কর্মকর্তারা জানান, অভিযানের সময় প্রাপ্ত তথ্য ও নথি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম চালানো হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে এবং যদি কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়, তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই অভিযান বিশ্ববিদ্যালয় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং যোগ্যতার গুরুত্ব পুনঃস্থাপন করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হলে শিক্ষাগত মান হ্রাস পায়, শিক্ষার্থীরা যথাযথ শিক্ষাগত সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয় এবং প্রশাসনিক দক্ষতায় ঘাটতি দেখা দেয়। তাই শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি এই অভিযানের সমর্থন জানাচ্ছেন। তারা মনে করেন, এমন পদক্ষেপ উচ্চ শিক্ষার মান রক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান এই অভিযানের মাধ্যমে প্রশাসন ও শিক্ষকমণ্ডলীর মধ্যে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অভিযানের প্রভাব শুধু নিয়োগ প্রক্রিয়াতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; এটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈতিকতা, জবাবদিহিতা এবং ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ সংক্রান্ত এই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ নতুন নয়। আগের কয়েক বছরে বিভিন্ন সময়েও অনুরূপ অভিযোগ উঠে এসেছে। তবে এইবারের দুদকের অভিযান সরাসরি সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্তের পর অনুষ্ঠিত হওয়ায় তা বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। এটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আরও স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল হওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

সর্বোপরি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগে স্বচ্ছতা রক্ষার উদ্দেশ্যে দুদকের এই অভিযান শিক্ষাক্ষেত্রে ন্যায্যতার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। তদন্তের ফলাফল সামনে আসার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করা হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত