প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
কুমিল্লা-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী বর্তমানে ঋণখেলাপি হিসেবে চেম্বার আদালতে বহাল রয়েছেন। এই অবস্থায় আইনি দিক থেকে তার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি ফারাহ মাহবুবের আদালত বিষয়টি নিশ্চিত করে, পাশাপাশি বলেন, মঞ্জুরুলের নাম স্থগিত করে জারি করা রুল দুই সপ্তাহের মধ্যে হাইকোর্টে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চেম্বার আদালতের এই সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক মহলে এবং কুমিল্লা-৪ নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা থাকায় বিএনপির নির্বাচনী কৌশল ও তার প্রার্থীতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঋণখেলাপি হিসেবে বহাল থাকা একজন প্রার্থী নির্বাচনে দাঁড়াতে পারবে না, যা দেশের নির্বাচনী আইনের সুস্পষ্ট বিধান। তবে প্রিমিয়ার ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মঞ্জুরুল ইতিমধ্যেই ঋণ পুনঃতফসিল করেছেন। ফলে চেম্বার আদালতের রুল নিষ্পত্তি হলে দ্রুতই তিনি ঋণখেলাপি থেকে মুক্ত হবেন এবং আইনগতভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্য হবেন।
মামলার প্রেক্ষাপটটি কিছুটা জটিল। গত ৮ জানুয়ারি চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আগের আদেশ স্থগিত করে মঞ্জুরুলের নাম ঋণখেলাপি তালিকা থেকে বাদ দেয়। এরপর মঞ্জুরুল নিজে এই আদেশ প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করেন। এই আবেদনের ফলে আদালতে পুনরায় শুনানি হয়েছে। প্রিমিয়ার ব্যাংকের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার বিভূতি তরফদার, অপরপক্ষে ছিলেন আইনজীবী সাইফুল্লাহ মামুন। আদালতের সাম্প্রতিক আদেশে বলা হয়েছে, দুই সপ্তাহের মধ্যে হাইকোর্টের রুল নিষ্পত্তি করা হবে।
কুমিল্লা-৪ আসনের নির্বাচনী পরিস্থিতি ইতিমধ্যেই বেশ উত্তপ্ত। এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর প্রার্থীতা নিয়ে আদালতের জটিলতা রাজনৈতিক ও নির্বাচনী সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনী প্রচারণা ও ভোটের প্রস্তুতির দিক থেকে এই আইনি বাধা মঞ্জুরুল ও বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
আইনি বিশ্লেষকদের মতে, ঋণখেলাপি প্রার্থী হিসেবে কোনো প্রার্থী নির্বাচন করতে পারবে না। তবে ঋণ পুনঃতফসিল হয়ে গেলে তার প্রার্থীতা স্বাভাবিকভাবে পুনঃস্থাপনযোগ্য। এই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হলে নির্বাচনী প্রচারণায় তার ভূমিকা স্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাবে। অন্যদিকে, আদালতের রুল নিষ্পত্তি না হলে বিএনপির প্রার্থী মঞ্চে অনিশ্চিত অবস্থায় থাকবেন।
মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর নাম স্থগিত রেখে চেম্বার আদালতের রুলের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে আইনি সচেতনতা প্রদান করা হয়েছে। এতে নির্বাচনী মাঠে সম্ভাব্য বিতর্ক ও জটিলতা কমানোর চেষ্টা করা হয়েছে। আদালত শীর্ষ পর্যায়ে নির্দেশ দিয়েছেন, প্রার্থী নিজেই দায়িত্বে থাকবেন এবং ঋণসংক্রান্ত আইনি বিষয় দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, কুমিল্লা-৪ আসনের এই ঘটনা প্রমাণ করছে, নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও প্রার্থীদের যোগ্যতা সংক্রান্ত আইনি জটিলতা নির্বাচনী রাজনীতিকে সরাসরি প্রভাবিত করতে পারে। প্রার্থী হিসেবে মঞ্জুরুলের আইনি সমস্যা সমাধান না হলে, তা বিএনপি ও নির্বাচনী জোটের কৌশলকে নতুনভাবে সাজাতে বাধ্য করবে।
সবমিলিয়ে, কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর ভবিষ্যৎ নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য এই আদালতের রুল এবং ঋণ পুনঃতফসিলের প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দুই সপ্তাহের মধ্যে হাইকোর্টের রুল নিষ্পত্তি হলে তার প্রার্থীতা আইনি বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্ত হয়ে স্বাভাবিকভাবে নির্বাচনী মাঠে অংশগ্রহণ করতে সক্ষম হবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বিষয়টি জাতীয় পর্যায়ে আদালতের প্রতি আস্থা ও আইনের সঠিক প্রয়োগকে সামনে আনার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।