হাদীর বিচার চাই: ইনকিলাব মঞ্চ নিয়ে স্ত্রীর প্রশ্ন

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ২৭ বার
হাদির বিচার দাবি রাবেয়া পোস্ট

প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

শহীদ শরিফ ওসমান হাদীর হত্যার বিচার নিয়ে আবারও জনমনে প্রশ্ন ও আবেগের ঢেউ তুলেছে তার স্ত্রী রাবেয়া ইসলাম সম্পার একটি ফেসবুক পোস্ট। স্বামীকে হারানোর এক মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও বিচার প্রক্রিয়ার দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় গভীর ক্ষোভ, হতাশা ও প্রশ্নের ভাষায় তিনি এই পোস্ট দেন। একই সঙ্গে ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে কোনো কর্মসূচি না আসায় বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি জানতে চান—এই নীরবতার কারণ কী।

বুধবার দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া ওই দীর্ঘ পোস্ট মুহূর্তের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ে। নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ পোস্টটি শেয়ার করেন, মন্তব্যে কেউ সহমর্মিতা জানান, কেউ প্রশ্ন তোলেন বিচার প্রক্রিয়ার ধীরগতির বিষয়ে। অনেকের কাছেই এটি কেবল একটি ব্যক্তিগত শোকের প্রকাশ নয়, বরং জুলাই আন্দোলন, ইনকিলাব মঞ্চ এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি হিসেবেও ধরা দিয়েছে।

রাবেয়া ইসলাম সম্পা তার পোস্টের শুরুতেই সরাসরি প্রশ্ন তোলেন—“ওসমান হাদির হত্যার বিচার কি আদৌ হবে?” এই প্রশ্নের মধ্যেই ফুটে ওঠে একজন স্ত্রীর গভীর বেদনা, অনিশ্চয়তা ও ক্ষোভ। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন করেন, কেন ইনকিলাব মঞ্চ এখনো কোনো কর্মসূচির ডাক দিচ্ছে না। তার ভাষায়, বিচার না হলে এ দেশে আর ওসমান হাদির মতো বিপ্লবী বীরেরা জন্মাবে না। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, “বিচার হবে না”—এই ধারণাটাকেই মাথায় আনা যায় না; বিচার হতেই হবে, যে কোনো মূল্যে।

পোস্টে তিনি বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। কেন এত দেরি হচ্ছে, কেন সময় লাগছে—এই প্রশ্নগুলো তিনি তুলেছেন সরাসরি, কোনো যুক্তি বা ব্যাখ্যায় না গিয়ে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি উদ্ধৃতি উল্লেখ করে তিনি লেখেন, “সহজ করে বলতে আমায় কহ যে, সহজ কথা যায় না বলা সহজে।” এর মাধ্যমে তিনি ইঙ্গিত দেন, বাস্তবতা যতটা সহজ মনে হয়, আসলে তা ততটাই জটিল।

রাবেয়া ইসলাম সম্পা তার লেখায় স্মরণ করিয়ে দেন, ওসমান হাদি নিজেই বলতেন—“আমাদের লড়াই অনেক দীর্ঘ।” মুমিনের জীবন মানেই লড়াই ও সংগ্রাম—এই বিশ্বাস নিয়েই হাদি রাজপথে ছিলেন, আন্দোলনে ছিলেন। তাই স্বামীর আদর্শের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি লেখেন, এই সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। তার ভাষায়, লড়াই থেমে গেলে হাদির আত্মত্যাগের অর্থ হারিয়ে যাবে।

পোস্টের একটি বড় অংশজুড়ে রয়েছে ইনকিলাব মঞ্চকে ঘিরে ওসমান হাদির ব্যক্তিগত অনুভূতির কথা। রাবেয়া ইসলাম সম্পা লেখেন, হাদি নিজেই বলতেন—ইনকিলাব মঞ্চ তার প্রথম সন্তান, আর দ্বিতীয় সন্তান তার ছেলে ফিরনাস। তিনি উল্লেখ করেন, ইনকিলাব মঞ্চের তরুণদের কোনো বেতন দেওয়া হতো না, অনেক সময় ঠিকমতো খাওয়ার ব্যবস্থাও থাকত না। তবুও তারা নিঃস্বার্থভাবে হাদির সঙ্গে লেগে থাকত। নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়েও তারা খুব একটা ভাবত না। হাদি বলতেন, এই তরুণদের ভবিষ্যৎ গড়ে দেওয়ার দায়িত্ব তারই।

এই অংশে রাবেয়া ইসলাম সম্পা একদিকে যেমন ইনকিলাব মঞ্চের প্রতি হাদির গভীর ভালোবাসার কথা তুলে ধরেছেন, তেমনি তার কর্মীদের বর্তমান মানসিক অবস্থার কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। তিনি প্রশ্ন ছুড়ে দেন—যারা শুধু হাদির কথা শুনে, ভিডিও দেখে তাকে ভালোবাসেন, দোয়া করেন, কান্না করেন—তারা কি একবার ভেবে দেখেছেন, হাদির এই ভাই-বোনগুলোর মনের অবস্থা এখন কেমন? যাদের কাছে হাদি ছিল ২৪ ঘণ্টার ছায়ার মতো, তারা এখন কোন অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে?

পোস্টের শেষাংশে রাবেয়া ইসলাম সম্পা একটি আবেগঘন কল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, হাদি যদি এখন বেঁচে থাকতেন, তাহলে হয়তো বলতেন—তার কথা বলা যেতে পারে, কিন্তু ইনকিলাব মঞ্চের ভাই-বোনদের নিয়ে যেন কেউ কিছু না বলে। তিনি উদ্ধৃত করেন হাদির একটি উক্তি—“দাসত্বই যে জমিনের নিশ্চল নিয়তি, লড়াই-ই সেখানে সর্বোত্তম ইবাদত।” এই বাক্য দিয়ে তিনি স্বামীর আদর্শ, সংগ্রামী চেতনা ও আত্মত্যাগের দর্শনকে আবারও সামনে আনেন।

প্রসঙ্গত, জুলাই আন্দোলনের সম্মুখ সারির যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ঢাকার বিজয়নগরে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন। মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হাদিকে প্রথমে ঢাকায় চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তিন দিন পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তার বয়স হয়েছিল মাত্র ৩২ বছর।

হাদির মৃত্যুর পর তার জানাজায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণ ছিল দেশের রাজনীতিতে একটি বিরল দৃশ্য। জানাজার পর তাকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে দাফন করা হয়। তিনি ছিলেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং জুলাই আন্দোলনের সময় তরুণদের অনুপ্রেরণার এক গুরুত্বপূর্ণ নাম।

রাবেয়া ইসলাম সম্পার এই পোস্ট নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—হাদির হত্যার বিচার প্রক্রিয়া কোথায় দাঁড়িয়ে, ইনকিলাব মঞ্চের ভবিষ্যৎ কী, আর জুলাই আন্দোলনের সেই উত্তাল রাজপথের চেতনা এখন কোন পথে। একদিকে ব্যক্তিগত শোক, অন্যদিকে রাজনৈতিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রশ্ন—এই দুইয়ের সংমিশ্রণেই তার পোস্টটি সাধারণ মানুষের মনে গভীর দাগ কেটেছে।

এই সংবাদটি সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সংগৃহীত তথ্য, আন্তর্জাতিক ও বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং অনলাইন তথ্য-উপাত্ত বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ করে প্রস্তুত করা হয়েছে। সংবাদ পরিবেশনে সম্পূর্ণ পেশাদারিত্ব, দায়বদ্ধতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে মানবিক ও পাঠক-আকর্ষণীয় উপস্থাপনার চেষ্টা করা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত