আড়াইহাজারে রাতের ডাকাতিতে গৃহকর্তা গুরুতর জখম

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১২ বার
আড়াইহাজারে রাতের ডাকাতি

প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আড়াইহাজার উপজেলার সাতগ্রাম ইউনিয়নের পাঁচগাঁও এলাকায় গভীর রাতে ডাকাতির ঘটনায় ৬০ বছর বয়সী মিন্টু ভূঁইয়া গুরুতর জখম হয়েছেন। বুধবার রাত সাড়ে দুইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ডাকাতির সময় গৃহকর্তার স্ত্রী শিরিন হোসেনের গলায় ও হাতে থাকা চেইন, ব্রেসলেট এবং আংটিসহ প্রায় চার ভরি স্বর্ণালংকার এবং ৩০ হাজার টাকা লুট করা হয়।

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, রাতের অন্ধকারে ৮ থেকে ১০ জন অজ্ঞাতনামা মুখোশধারী ডাকাত দেশি অস্ত্র নিয়ে গাছ বেয়ে বাড়ির বাউন্ডারি ওয়ালে প্রবেশ করে। তারা মূল গেটের তালা কেটে ভবনের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকে এবং পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে। একপর্যায়ে মিন্টু ভূঁইয়া ডাক-চিৎকার করতে গেলে ডাকাতেরা তার মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করেন।

হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। স্থানীয়রা জানান, ডাকাতদের হামলার সময়ে আশেপাশের মানুষ এগিয়ে আসার চেষ্টা করলে তারা দ্রুত পালিয়ে যায়। এই ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয়রা আরও নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন।

আড়াইহাজার থানার ওসি মোহাম্মদ আলাউদ্দিন জানান, ডাকাতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে। তিনি বলেন, “এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। হামলাকারীরা দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে।” তবে হামলার ভয়ঙ্করতা ও রাতের অন্ধকারে পরিকল্পিতভাবে সংঘটিত এ ঘটনায় স্থানীয় জনগণের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি আরও বেড়ে গেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করাচ্ছেন, এ ধরনের সশস্ত্র ডাকাতি শুধু সম্পদের ক্ষতি নয়, পরিবার ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার উপরও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলে। এমন ঘটনায় শিশু ও বৃদ্ধদের মানসিক চাপ বেড়ে যায়। স্থানীয় নেতারা বলছেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাতের পাহারাদারি এবং পুলিশের গشت জোরদার করতে হবে।

এ ধরনের ডাকাতি সাধারণত আগে থেকে পরিকল্পিত হয়ে থাকে। ডাকাতরা রাতে কার্যক্রম পরিচালনা করে যাতে সান্ধ্যকালীন মানুষের তৎপরতা কম থাকে। আড়াইহাজারের মতো এলাকায় রাতের অন্ধকারে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পেলে সাধারণ মানুষকে বাড়িতে নিরাপদ রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা উন্নত হলেও গ্রামীণ অঞ্চলে রাতের সময় সশস্ত্র ডাকাতির ঝুঁকি এখনও কমানো যায়নি। অনেকেই ধারণা করছেন, ডাকাতরা স্থানীয় মানুষের চিহ্নিত তথ্য ব্যবহার করে পরিকল্পিত হামলা চালায়।

মানবিক দিক থেকে এ ধরনের হামলা পরিবারগুলোর জীবনে শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি নিয়ে আসে। আহত ব্যক্তির দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন, এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় ও প্রশাসনিক তৎপরতা অপরিহার্য। এছাড়া, স্থানীয় জনসাধারণকে সচেতন ও সজাগ রাখা, রাতের নিরাপত্তা জোরদার করা এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কমিউনিটি উদ্যোগ নেওয়া জরুরি হয়ে উঠেছে।

আড়াইহাজারের এই ঘটনার মাধ্যমে দেখা যায়, রাতের অন্ধকারে পরিকল্পিত ডাকাতির ঝুঁকি এখনো গ্রামীণ এলাকায় ব্যাপক। পুলিশি পদক্ষেপ ও স্থানীয় জনসাধারণের সমন্বিত প্রচেষ্টা ছাড়া এই ধরনের ঘটনা কমানো সম্ভব নয়। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনি কার্যক্রমের মাধ্যমে স্থানীয় মানুষদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত