ট্রাম্পের দাবি: ইউক্রেনই শান্তি চুক্তি আটকে দিচ্ছে

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৭ বার
জেলেনস্কিই সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি আটকে রেখেছে, পুতিন নয়: ট্রাম্প

প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক অত্যন্ত সমালোচিত মন্তব্যে বলেছেন, ইউক্রেন নয়, বরং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি বাধাগ্রস্ত করছেন। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ওভাল অফিসে ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “আমার মনে হয় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন চুক্তি করতে প্রস্তুত, কিন্তু ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি সেই পর্যায়ে কম প্রস্তুত।”

ট্রাম্পের বক্তব্যে প্রতিস্পন্দিত হচ্ছে তার দীর্ঘদিনের জেলেনস্কি-প্রতি অসন্তোষ। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক এই প্রেসিডেন্ট মাঝে মাঝে এমন মন্তব্য করেন যা তাকে ইউক্রেন ও ইউরোপীয় মিত্রদের চেয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের কথায় বেশি বিশ্বাসী হিসেবে উপস্থাপন করে। এতে মার্কিন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলও হতাশা প্রকাশ করে।

তিনি আরও বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে সংঘটিত এই বৃহত্তম সামরিক সংঘাত কেন এখনো মার্কিন নেতৃত্বাধীন আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হয়নি, তা নিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট করেছেন। ট্রাম্পের বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, তিনি মনে করেন, ইউক্রেনের নেতৃত্ব চুক্তি রচনার জন্য যথেষ্ট নমনীয় নয়, যা শান্তি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সতর্ক করে আসছে যে, পুতিন এখনও পুরো ইউক্রেন দখল এবং সাবেক সোভিয়েত অঞ্চলের পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য ত্যাগ করেননি। তবে ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স ডিরেক্টর তুলসী গ্যাবার্ড এই সতর্কবার্তাকে অস্বীকার করেছেন। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্য এই দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হলেও আন্তর্জাতিক ও রাজনৈতিক মহলে তা নতুন বিতর্কের সূচনা করেছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এমন মন্তব্য শুধু জেলেনস্কির প্রতি তার সমালোচনা নয়, বরং একটি কূটনৈতিক বার্তাও বহন করছে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ইউক্রেন যদি চুক্তি-প্রক্রিয়ায় আরও নমনীয় হতো, তাহলে চার বছর ধরে চলমান এই সংঘাতের সমাধান সম্ভব হতো।

ট্রাম্পের বক্তব্যের পাশাপাশি, ইউক্রেনের বর্তমান পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডে রাশিয়ার সামরিক অভিযান দীর্ঘায়িত হওয়ায় প্রায় চার বছর ধরে এই সংঘাত চলেছে এবং এতে লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে শান্তি চুক্তি আনা এখন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে ট্রাম্পের মতে, এর মূল বাধা হচ্ছে ইউক্রেনের নেতৃত্বের আপাত নীতিনির্ধারণে অনিচ্ছা বা শর্তাধীন মনোভাব।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এই মুহূর্তে রাশিয়ার সঙ্গে যে কোনও সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে সতর্ক অবস্থান বজায় রেখেছেন। তাঁর সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের নিরাপত্তা সুরক্ষিত রেখে কেবল সমঝোতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। ট্রাম্পের মন্তব্য এই চ্যালেঞ্জের ওপর আন্তর্জাতিক মনোযোগ আরও বাড়িয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, ট্রাম্পের মন্তব্যে আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও চাপের প্রেক্ষাপট স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ইউক্রেনের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা, রাশিয়ার সম্ভাব্য চুক্তির প্রস্তুতি এবং ইউক্রেনীয় নেতৃত্বের দৃষ্টিভঙ্গি—all মিলিয়ে শান্তি প্রক্রিয়ার জটিলতা বেড়েছে। ট্রাম্পের মন্তব্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এবং রাজনীতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

এই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এখন মূল দায়িত্ব ইউক্রেনের ওপর। তিনি যুক্তি দিয়েছেন, রাশিয়া প্রস্তুত কিন্তু ইউক্রেন অস্থির, যা যুদ্ধাবস্থা দীর্ঘায়িত করেছে। এতে ইউক্রেনের জনগণ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য মানবিক সংকট ও ধ্বংসযজ্ঞ আরও দীর্ঘমেয়াদি হয়ে গেছে।

বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ট্রাম্পের মন্তব্য কেবল রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, এটি সম্ভবত আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপের একটি অংশ, যার উদ্দেশ্য ইউক্রেনকে শান্তি আলোচনায় আরও নমনীয় হতে প্ররোচিত করা। তবে এর ফলে ইউক্রেনীয় নেতৃত্ব এবং পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে উত্তেজনা এবং বিতর্কও বৃদ্ধি পেতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত