বিটিসিএলের কর্মকর্তাসহ ৫ জনের নামে মামলা দায়ের

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৭ বার
বিটিসিএল বিশ্ববিদ্যালয় মামলা তদন্ত

প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ঢাকার আদালতে ইউনিভার্সিটি অব স্কিল এনরিচমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজি (USET)-এর উপদেষ্টা মুহা. তাজুল ইসলাম বিটিসিএলের মগবাজার টেলিফোন এক্সচেঞ্জের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ব্রডব্যান্ড-২) জয়ীতা সেন রিম্পীসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের ডোমেইন বন্ধ, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাকে গালিগালাজ করা এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেছে।

মামলাটি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাতের আদালতে দায়ের করা হয়। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণের পর ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি)-কে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেন। মামলায় আসামি হিসেবে ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার জয়ীতা সেন রিম্পী, ডোমেইন বিষয়ক অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার আবীর কল্যাণ আবেদীন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সহকারী সচিব মো. শাহ আলম সিরাজ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. রাকিবুজ্জামান মাসুদ এবং ডোমেইন বিষয়ক অন্য এক কর্মকর্তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ডে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির দুটি ডোমেইন www.uset.ac.bd এবং www.uset.edu.bd পরিচালনা করেন। ২০২৫ সালের ১৫ এপ্রিল বিটিসিএলকে লিখিতভাবে অনুরোধ করা হয়, যাতে এডমিন প্যানেলের পাসওয়ার্ড কাউকে প্রদান না করা হয়। এরপর ১৭ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি আনুষ্ঠানিক পত্র পাঠানো হয়, যেখানে ডোমেইন সম্পর্কিত আপত্তি জানানো হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, শুনানি বাবদ ২৩ হাজার টাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কাগজপত্র ৩০ নভেম্বরের মধ্যে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ২৩ হাজার টাকা ও কাগজপত্র জমা দিলেও তা গ্রহণ করা হয়নি এবং ফেরত দেওয়া হয়েছে।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিদের নিরপেক্ষতার ঘাটতি এবং ন্যায় বিচার পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকার আশঙ্কায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। ১৫ ডিসেম্বর, অভিযোগের বিষয় নিষ্পত্তি করতে গেলে উপদেষ্টা জয়ীতা সেন রিম্পীর রুমে প্রবেশ করেন। তখন রিম্পী ক্ষুব্ধ হয়ে গালিগালাজ করেন, কটু কথা বলেন এবং বারান্দায় এমন হুমকি দেন যেন কোনোদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী তার চোখে না পড়ে। এছাড়া তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট বন্ধ করার হুমকিও দেন।

মামলায় বলা হয়েছে, হাইকোর্টে দায়ের করা রিট পিটিশনের আইনজীবীর সার্টিফিকেট গ্রহণ না করা, দাপ্তরিক কাজে অসহযোগিতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট বন্ধ করার হুমকি প্রদান করে আসামিরা বিশ্ববিদ্যালয়কে অপূরণীয় ক্ষতির মুখে ফেলেছেন। ১১ জানুয়ারি বিকেল ৪টার দিকে আসামিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি ডোমেইন বন্ধ করে দেন। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা ও স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষতি ঘটেছে।

মামলার বাদী তাজুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে জানান, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার প্রতিরোধে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আসামিদের কর্মকাণ্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আইনি বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধরনের মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হলে শুধুমাত্র ব্যক্তিগত শাস্তি নয়, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক দায়িত্বেও সংশোধনী প্রক্রিয়া চালানো যেতে পারে। সিআইডির তদন্ত রিপোর্ট আদালতে দাখিলের পর মামলার ধারাবাহিকতা এবং আসামিদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ডোমেইন ও তথ্য প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনার নিয়মাবলী কঠোরভাবে পালন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের ঘটনা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা, তথ্যের নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক ন্যায়পরায়ণতা বজায় রাখতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকারি কর্মকর্তাদের এই ধরনের আচরণ নিয়ন্ত্রণে রাখা না গেলে শিক্ষা ও প্রশাসনিক খাতের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সিআইডি তদন্ত করছে, যাতে যথাযথ তথ্য, সাক্ষ্য এবং নথি সংগ্রহ করা যায়। তদন্ত শেষে আদালত উপযুক্ত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। মামলায় বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের ক্ষতি প্রতিপ্রতারণা, দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত