ইসলামী আন্দোলন নিয়ে মন্তব্য এড়াতে জামায়াতের নেতার আহ্বান

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৩ বার
জামায়াতের নেতার আহ্বান: ইসলামী আন্দোলন নিয়ে মন্তব্য এড়াতে

প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে নিয়ে নেতাকর্মীদের অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিভ্রান্তিমূলক মন্তব্য বা লেখালেখি করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি নিজস্ব ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে এ বার্তা দেন। পোস্টে তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে লেখেন, ‘আপনাদের প্রতি বিনীত অনুরোধ, সত্যিই যদি আপনারা জামায়াতে ইসলামীকে ভালোবাসেন, তবে অনাকাঙ্ক্ষিত ধরনের সব কাজ থেকে বিরত থাকবেন। ধন্যবাদ সবাইকে।’

জামায়াত ইসলামী আন্দোলন বার্তা

এই আহ্বান এমন সময়ে এসেছে যখন জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে ইসলামী আন্দোলনের ভবিষ্যত নিয়ে নানা গুঞ্জন প্রকাশ পেয়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে জোটের বিভিন্ন শরিক দলের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা অনুষ্ঠিত হলেও ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, তাদের অন্তত ৮০ আসন না দেওয়া হলে তারা জোটে থাকতে রাজি নন। এ অবস্থায় জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন ছাড়া জোটের বাকি দলগুলো আলাদাভাবে বৈঠক করছে।

জোটের পরিস্থিতি জটিল হওয়ার কারণে খেলাফত মজলিসের একাংশের আমির মাওলানা মামুনুল হক চরমোনাই পীরের সঙ্গে যোগাযোগ করে মধ্যস্থতার চেষ্টা করেন। তবে এই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। গভীর রাতে জামায়াতের একজন নেতাকে পুরো পরিস্থিতি জানান মাওলানা মামুনুল হক। জোটের একাধিক শরিক ও জামায়াতে ইসলামী নেতাদের সঙ্গে আলাপের মাধ্যমে জানা গেছে, চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে তারা জোটে থাকতে পারবে না।

যদিও চরমোনাই পীরের দল জোট থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে, তবে অন্যান্য সব দল জোটে থাকছে বলে নিশ্চিত করেছেন শীর্ষ নেতারা। জামায়াতে ইসলামী সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম জানান, আজ দুপুরের মধ্যে জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকের পর গতকাল স্থগিত হওয়া সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। খেলাফত মজলিসের একজন নেতা, নাম প্রকাশ না করার শর্তে, জানান যে জোটের অন্যান্য শরিকেরা ঐক্যবদ্ধ থাকার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। নতুন আসনের বিন্যাসে কোনো সমস্যা হবে না, তিনি জানান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের অবস্থান এবং তাদের মধ্যে সমঝোতা বা বৈপরীত্য দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। জোটের একাংশে ইসলামী আন্দোলনের অনুপস্থিতি নির্বাচনী ফলাফলের ওপর প্রভাব ফেলবে এবং ভবিষ্যতের রাজনৈতিক কৌশলেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া নেতাকর্মীদের শান্তিপূর্ণ ও সংযত আচরণ নিশ্চিত করতে নেতাদের এই বার্তা সময়োপযোগী বলে মনে করা হচ্ছে।

শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক এবং জোটের আসন বণ্টন নিয়ে আলোচনা চলাকালীন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, নেতৃবৃন্দের সরাসরি মধ্যস্থতা এবং কমিটমেন্টের মাধ্যমে এই সংকট মোকাবিলা করা হবে। জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে সমন্বয় এবং সমঝোতা ছাড়া জোটের কার্যক্রম কঠিন হয়ে পড়তে পারে, যা নির্বাচনী প্রস্তুতি এবং ভোটের প্রচারে প্রভাব ফেলতে পারে।

এবারের আহ্বান মূলত নেতাকর্মীদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে এসেছে, যাতে কোনও বিভ্রান্তিকর বা অনাকাঙ্ক্ষিত কার্যক্রম তাদের কর্মকাণ্ডে প্রভাব না ফেলে। রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে প্রকাশিত এই ধরনের বার্তা সাধারণত সংখ্যালঘু দলের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ এবং জোটের অভ্যন্তরীণ শান্তি বজায় রাখার উদ্দেশ্যেও দেওয়া হয়।

যদিও ইসলামী আন্দোলন ৮০ আসনের দাবি জানিয়েছেন, তবু জোটের অন্য দলগুলো ঐক্যবদ্ধ থাকার দিকনির্দেশনা নিশ্চিত করেছেন। ফলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে ১১ দলীয় জোট থেকে ১০ দলীয় জোটে রূপান্তর হতে যাচ্ছে, যা আগামী সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

নির্বাচন ও আসন বণ্টন নিয়ে এই ধরনের জটিলতা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে দলের নেতাদের কৌশলগত পরিকল্পনার একটি অংশ। নেতাদের আহ্বান এবং মধ্যস্থতা প্রচেষ্টা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

সমগ্র পরিস্থিতি বিচার করলে দেখা যায়, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে সমন্বয়, নেতাকর্মীদের আচরণ নিয়ন্ত্রণ এবং জোটের আসন বণ্টন নিয়ে সমঝোতা দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং তা ভবিষ্যৎ নির্বাচনী ফলাফলের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত