প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেশের মান নিয়ন্ত্রণ ও পরীক্ষণ সংস্থা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। রাজস্ব খাতভুক্ত শূন্য পদে সরাসরি জনবল নিয়োগের লক্ষ্যে এই বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। মোট ১০টি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৫০ জন প্রকৃত বাংলাদেশি নাগরিককে নিয়োগ দেওয়া হবে। আজ ১৫ জানুয়ারি থেকে অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে, যা চাকরিপ্রার্থীদের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দেশের শিল্প, বাণিজ্য ও ভোক্তা অধিকার সুরক্ষায় বিএসটিআই দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। মান নির্ধারণ, পণ্যের গুণগত পরীক্ষা এবং সার্টিফিকেশনের মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠান জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। সেই ধারাবাহিকতায় জনবল শক্তিশালী করতে এবার বিভিন্ন স্তরের পদে নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কারিগরি, প্রশাসনিক ও সহায়ক পর্যায়ে দক্ষ জনবল যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কম্পিউটার অপারেটর, ইউডিসি কাম ক্যাশিয়ার, অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক বা টাইপিস্ট, ডেটা এন্ট্রি অপারেটর, ল্যাব সহকারী, ক্যাটালগার, গাড়ি চালক, অফিস সহায়ক এবং নিরাপত্তা প্রহরী—এই দশটি ক্যাটাগরিতে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। এসব পদের মধ্যে অফিস সহায়ক পদেই সর্বাধিক সংখ্যক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, যা নিম্ন ও মধ্যম আয়ের চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করেছে।
যোগ্যতার ক্ষেত্রে পদভেদে ভিন্নতা রাখা হয়েছে, যাতে বিভিন্ন শিক্ষাগত স্তরের প্রার্থীরা আবেদন করার সুযোগ পান। অষ্টম শ্রেণি পাস থেকে শুরু করে স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রিধারীরাও এই নিয়োগে আবেদন করতে পারবেন। কম্পিউটার সংশ্লিষ্ট পদগুলোর জন্য নির্ধারিত টাইপিং গতি ও কম্পিউটার ব্যবহারের দক্ষতা আবশ্যক করা হয়েছে। ল্যাব সহকারী পদের জন্য বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসি পাস হতে হবে, যাতে পরীক্ষাগার কার্যক্রমে মৌলিক জ্ঞান ও দক্ষতা নিশ্চিত করা যায়। অফিস সহায়ক পদের জন্য এসএসসি পাস এবং নিরাপত্তা প্রহরী পদের জন্য অষ্টম শ্রেণি পাস প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন, যা স্বল্প শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পন্ন প্রার্থীদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছে।
আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক। আগ্রহী প্রার্থীদের টেলিটকের নির্ধারিত জব পোর্টালের মাধ্যমে আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে। আবেদন শুরু হয়েছে ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, সকাল ১০টা থেকে এবং শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, বিকেল ৫টা পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ের পর কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না বলে বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণ করার পর প্রার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা রয়েছে। আবেদন জমা দেওয়ার পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে টেলিটক প্রি-পেইড মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে এসএমএসের মাধ্যমে নির্ধারিত পরীক্ষার ফি পরিশোধ করতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফি জমা না দিলে আবেদন বাতিল বলে গণ্য হবে। ফলে আবেদনকারীদের এ বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিএসটিআই জানিয়েছে, নিয়োগ সংক্রান্ত বিস্তারিত শর্তাবলি, বয়সসীমা, পরীক্ষার পদ্ধতি ও অন্যান্য নিয়মাবলি তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইট এবং টেলিটকের জব পোর্টালে পাওয়া যাবে। প্রার্থীদের আবেদন করার আগে পুরো বিজ্ঞপ্তি মনোযোগ দিয়ে পড়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে কোনো তথ্যগত ভুলের কারণে আবেদন বাতিল না হয়।
বর্তমান সময়ে সরকারি চাকরির প্রতি তরুণদের আগ্রহ বাড়ছে। স্থায়িত্ব, সামাজিক মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধার কারণে সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি এখনো অধিকাংশ চাকরিপ্রার্থীর প্রথম পছন্দ। সেই প্রেক্ষাপটে বিএসটিআইয়ের এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষিত ও কর্মপ্রত্যাশী মানুষের মধ্যে ইতোমধ্যেই আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে যেসব প্রার্থী দীর্ঘদিন ধরে সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের জন্য এটি একটি সময়োপযোগী সুযোগ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মান নিয়ন্ত্রণ ও পরীক্ষণ সংস্থায় কাজ করার অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে পেশাগত জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিএসটিআইয়ের মতো প্রতিষ্ঠানে চাকরির মাধ্যমে একজন কর্মী শুধু স্থায়ী আয়ের নিশ্চয়তাই পান না, বরং জাতীয় উন্নয়ন কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হওয়ার সুযোগও পান। ফলে এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিকে শুধু চাকরির সুযোগ নয়, বরং দায়িত্বপূর্ণ পেশাজীবনের দ্বার হিসেবে দেখছেন অনেকেই।
সব মিলিয়ে, বিএসটিআইয়ের ৫০ পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য একটি বড় ও আশাব্যঞ্জক খবর। নির্ধারিত যোগ্যতা ও শর্ত পূরণকারী আগ্রহী প্রার্থীদের সময়সীমার মধ্যে আবেদন সম্পন্ন করার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। সঠিক প্রস্তুতি ও সতর্কতার মাধ্যমে এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে অনেকেই নিজেদের কাঙ্ক্ষিত চাকরির স্বপ্ন পূরণ করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।