স্কয়ার ফার্মার শেয়ারে আস্থা: ২১ কোটি টাকার বিনিয়োগে রত্না পাত্র

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ২ বার
স্কয়ার ফার্মার শেয়ারে আস্থা: ২১ কোটি টাকার বিনিয়োগে রত্না পাত্র

প্রকাশ:  ১৫  জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

দেশের পুঁজিবাজারে আবারও আলোচনায় স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড। দেশের শীর্ষস্থানীয় ওষুধ প্রস্তুতকারী এই কোম্পানিটির শেয়ারে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ও ভাইস চেয়ারম্যান রত্না পাত্র। শেয়ারবাজার থেকে স্কয়ার ফার্মার ১০ লাখ শেয়ার কেনার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি, যার বাজারমূল্য প্রায় ২১ কোটি টাকা। এই ঘোষণার মাধ্যমে স্কয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বড় অঙ্কের বিনিয়োগের বার্তা এলো, যা বাজারে নতুন করে আস্থার সঞ্চার করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

বৃহস্পতিবার দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক ঘোষণায় রত্না পাত্র তাঁর এই বিনিয়োগ পরিকল্পনার কথা জানান। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে বাজার থেকে স্কয়ার ফার্মার ১০ লাখ শেয়ার কেনা সম্পন্ন করবেন তিনি। মূল বাজারের পাশাপাশি ব্লক মার্কেট থেকেও এই শেয়ার কেনা হতে পারে বলে ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানির উদ্যোক্তা বা পরিচালকের শেয়ার কেনার ঘোষণা সাধারণত বিনিয়োগকারীদের কাছে ইতিবাচক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হয়। কারণ, এতে বোঝা যায় সংশ্লিষ্ট কোম্পানির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে পরিচালনা পর্ষদের আস্থা রয়েছে। স্কয়ার ফার্মার ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হয়নি। ঘোষণার দিনই বাজারে কোম্পানিটির শেয়ারের দামে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

ডিএসইর তথ্যানুযায়ী, বৃহস্পতিবার লেনদেন শুরুর প্রথম দুই ঘণ্টার মধ্যেই স্কয়ার ফার্মার প্রতিটি শেয়ারের দাম বেড়ে দাঁড়ায় ২১০ টাকা ৫০ পয়সায়। এই দরে ১০ লাখ শেয়ারের বাজারমূল্য দাঁড়ায় প্রায় ২১ কোটি টাকা। অর্থাৎ, রত্না পাত্র নিজের কোম্পানির শেয়ারে এই বিপুল বিনিয়োগ করতে যাচ্ছেন বর্তমান বাজারদরেই।

এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন এর মাত্র নয় দিন আগে কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী বাজার থেকে ২০ লাখ শেয়ার কেনার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ৬ জানুয়ারি দেওয়া সেই ঘোষণায় তিনি জানান, ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে বাজার থেকে এই শেয়ার কেনা সম্পন্ন করবেন। সেই ঘোষণা অনুযায়ী, ২০ লাখ শেয়ারের বাজারমূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৪০ কোটি টাকা। নির্ধারিত সময়সীমা এখনো শেষ না হতেই রত্না পাত্রের নতুন ঘোষণা বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আরও বেশি করে স্কয়ার ফার্মার দিকে টেনে এনেছে।

রত্না পাত্র ও তপন চৌধুরী সম্পর্কে আপন ভাই–বোন। তাঁরা দুজনই স্কয়ার গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত স্যামসন এইচ চৌধুরীর সন্তান। বাংলাদেশের শিল্প ও ব্যবসা জগতে স্যামসন এইচ চৌধুরী ছিলেন এক কিংবদন্তি নাম। তাঁর হাত ধরেই স্কয়ার গ্রুপ দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীতে পরিণত হয়। বাবার মৃত্যুর পর স্কয়ার গ্রুপের নেতৃত্ব পুরোপুরি তাঁদের সন্তানদের হাতেই ন্যস্ত হয়েছে। বর্তমানে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসসহ গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কৌশলগত সিদ্ধান্তে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন তাঁরা।

মাত্র নয় দিনের ব্যবধানে স্কয়ার পরিবারের দুই সদস্যের পক্ষ থেকে প্রায় ৬১ কোটি টাকার শেয়ার কেনার ঘোষণা বাজারে একটি শক্তিশালী বার্তা দিয়েছে। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি কেবল ব্যক্তিগত বিনিয়োগ নয়, বরং কোম্পানির ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি ও আর্থিক সক্ষমতার ওপর পরিচালনা পর্ষদের আস্থারই প্রতিফলন।

এই ঘোষণার প্রভাব বৃহস্পতিবারের লেনদেনেও স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। স্কয়ার ফার্মার শেয়ারের দাম ওই দিন আরও দেড় টাকা বা প্রায় ১ শতাংশ বেড়েছে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে সামগ্রিক বাজারে কিছুটা অস্থিরতা বিরাজ করছে, তারপরও স্কয়ার ফার্মার শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ অব্যাহত রয়েছে।

ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরের তুলনায় বর্তমানে স্কয়ার ফার্মার শেয়ারের দাম কিছুটা কম পর্যায়ে রয়েছে। এক বছরের মধ্যে এই শেয়ারের সর্বোচ্চ দাম উঠেছিল ২৩২ টাকা। সে তুলনায় বর্তমান দর বিনিয়োগকারীদের কাছে তুলনামূলকভাবে আকর্ষণীয় বলেই মনে করছেন অনেকেই। এই প্রেক্ষাপটে উদ্যোক্তা পরিচালকদের শেয়ার কেনার ঘোষণা বাজারে ইতিবাচক মনোভাব আরও জোরদার করেছে।

কোম্পানিটির আর্থিক পারফরম্যান্সও এই আস্থার পেছনে বড় কারণ। ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস সম্মিলিতভাবে ২ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকার রেকর্ড মুনাফা অর্জন করেছে। দেশের তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম সর্বোচ্চ মুনাফার একটি উদাহরণ। এই মুনাফা থেকে ওই অর্থবছরের জন্য শেয়ারধারীদের মধ্যে মোট ১ হাজার ৬৪ কোটি টাকা লভ্যাংশ হিসেবে বিতরণ করা হয়েছে।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গত অর্থবছরের জন্য স্কয়ার ফার্মা শেয়ারধারীদের ১২০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে, যা কোম্পানিটির ইতিহাসে রেকর্ড। এই লভ্যাংশ নীতির মাধ্যমে কোম্পানিটি আবারও প্রমাণ করেছে, তারা শুধু মুনাফা অর্জনেই নয়, শেয়ারধারীদের সঙ্গে সেই মুনাফার অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতেও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এমন শক্তিশালী আর্থিক ভিত্তি এবং ধারাবাহিক লভ্যাংশ প্রদানের ইতিহাসই স্কয়ার ফার্মাকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় করে তুলেছে। উদ্যোক্তা পরিচালকদের সাম্প্রতিক শেয়ার কেনার ঘোষণাকে তাঁরা সেই ধারাবাহিকতারই অংশ হিসেবে দেখছেন।

পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট একাধিক বিশ্লেষকের মতে, যখন কোনো কোম্পানির শীর্ষ পর্যায়ের পরিচালকরা বাজার থেকে শেয়ার কেনেন, তখন সেটি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য আস্থার প্রতীক হয়ে ওঠে। এতে বাজারে গুজব বা নেতিবাচক ধারণা অনেকাংশে কমে আসে এবং শেয়ারের দামে স্থিতিশীলতা তৈরি হয়। স্কয়ার ফার্মার ক্ষেত্রেও এমন প্রভাব পড়তে পারে বলে তাঁদের ধারণা।

সব মিলিয়ে, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ারে রত্না পাত্রের ২১ কোটি টাকার বিনিয়োগের ঘোষণা দেশের পুঁজিবাজারে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শক্তিশালী আর্থিক ফলাফল, রেকর্ড লভ্যাংশ এবং উদ্যোক্তা পরিচালকদের আস্থার প্রকাশ—সবকিছু মিলিয়ে স্কয়ার ফার্মা আবারও বিনিয়োগকারীদের আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত