প্রকাশ: ১৪ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে একহাত নিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে পুতিনের ‘দ্বিমুখী আচরণ’ নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, “পুতিন দিনের বেলায় ভালো কথা বলেন, আর রাতে বোমা মারেন।” এই মন্তব্য বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
রোববার (১৩ জুলাই) নিউ জার্সির অ্যান্ড্রুজ সামরিক ঘাঁটিতে সংবাদমাধ্যম এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প শুধু রাশিয়ার কঠোর সমালোচনাই করেননি, বরং ইউক্রেনকে শক্তিশালী সামরিক সহায়তার আশ্বাসও দিয়েছেন। এর অংশ হিসেবে ইউক্রেনের জন্য প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের ঘোষণা দেন তিনি।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের তৎপরতা চোখে পড়ার মতো। যদিও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, তিনি ক্ষমতায় গেলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুদ্ধ বন্ধ করবেন, বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। বরং এখন তিনি নতুন করে ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার কথা বলছেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের আধুনিক অস্ত্র ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
ট্রাম্প জানান, “আমি এখনো অস্ত্রের নির্দিষ্ট পরিমাণ ঠিক করিনি। তবে ওদের সাহায্য তো করতেই হবে। ইউক্রেনকে রক্ষা করতে হবে।” এক্ষেত্রে তিনি এটিকেও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ব্যবসার সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ইতিমধ্যে হোয়াইট হাউস আগের ঘোষণা অনুযায়ী কিছু অস্ত্র সহায়তা স্থগিত করলেও, নতুন একটি চুক্তির আওতায় ন্যাটোর সহায়তায় আবারও অস্ত্র সরবরাহের পথ খুলেছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও সম্প্রতি জানিয়েছেন, একটি বহুপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে তারা নতুন প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পেতে যাচ্ছেন।
এদিকে কংগ্রেসেও রাশিয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব উত্থাপিত হয়েছে। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের সিনেটররা একটি যৌথ বিল পেশ করেছেন, যেখানে ট্রাম্পকে দেওয়া হবে ‘স্লেজহ্যামার’ ক্ষমতা— অর্থাৎ রাশিয়া ও তার সহযোগী দেশগুলোর বিরুদ্ধে কড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা।
বিল অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট চাইলে রুশ অর্থনীতির ওপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করতে পারবেন। একই সঙ্গে চীন, ভারত ও ব্রাজিলসহ রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ অংশীদার দেশগুলোও এই বিধিনিষেধের আওতায় পড়তে পারে।
সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম বলেন, “আমরা পুতিনকে স্পষ্ট বার্তা দিতে চাই: এই বর্বরতা মেনে নেওয়া হবে না।” অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল জানান, “আমরা শুধু রাশিয়ার ওপর চাপ বাড়াবো না, তাদের বাজেয়াপ্ত করা সম্পদ ইউক্রেন পুনর্গঠনে ব্যবহারের জন্যও আইনি প্রক্রিয়া শুরু করবো।”
ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলারের রুশ রাষ্ট্রীয় সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। এই অর্থ ইউক্রেনের পক্ষে ব্যবহারের জন্য নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এমন প্রেক্ষাপটে সোমবার রাতে সিনেটর গ্রাহাম, ব্লুমেনথাল ও ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এতে যুদ্ধ পরিস্থিতি, নতুন নিষেধাজ্ঞা এবং বাজেয়াপ্ত সম্পদ ব্যবহারের আইনি কাঠামো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
ট্রাম্পের সাম্প্রতিক অবস্থান এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর সুর, পূর্ববর্তী অবস্থান থেকে তার এক দৃশ্যত বিপরীত অবস্থানকে নির্দেশ করে। বিশ্ব রাজনীতিতে এই পরিবর্তন ভবিষ্যতের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের মত।
পুতিনের ‘বিপজ্জনক কৌশল’ আর ট্রাম্পের ‘অচেনা দৃঢ়তা’—এই দুইয়ের সংঘর্ষ এখন বিশ্ব কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। শান্তি ফিরে আসবে কি না, কিংবা সংঘাত আরও বাড়বে, তা এখন সময়ের অপেক্ষা।