জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পুনর্জাগরণ ঘিরে প্রস্তুত রাজধানী, গণভবনে সংবাদ সম্মেলন দুপুরে

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৪ জুলাই, ২০২৫
  • ২৮ বার
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পুনর্জাগরণ ঘিরে প্রস্তুত রাজধানী, গণভবনে সংবাদ সম্মেলন দুপুরে

প্রকাশ: ১৪ জুলাই’ ২০২৫ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন

আসন্ন ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান’ পুনর্জাগরণ অনুষ্ঠানমালাকে ঘিরে রাজধানী ঢাকায় চলছে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি। এ উপলক্ষে আজ সোমবার (১৪ জুলাই) দুপুর ২টায় গণভবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলন ডেকেছে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর। গণভবন থেকে সংবাদ সম্মেলনটি সরাসরি সম্প্রচারিত হবে বলে জানা গেছে। উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এই জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পুনর্জাগরণকে একটি ঐতিহাসিক উপলক্ষ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। সরকার, শিক্ষাবিদ ও সংস্কৃতিজনদের সমন্বয়ে এবারের আয়োজনকে ব্যতিক্রমী এবং গণতান্ত্রিক চেতনার প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।

এ উপলক্ষে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে নানা সাংস্কৃতিক আয়োজনের পাশাপাশি বিশেষভাবে নজরকাড়া কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উদযাপিত হবে ‘জুলাই উইমেন্স ডে’। সেখানে থাকবে নারী নেতৃত্ব ও অধিকার বিষয়ে অডিও-ভিডিও প্রদর্শনী, আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং একটি ব্যতিক্রমী ড্রোন শো।

এই অনুষ্ঠানমালার সার্বিক বাস্তবায়নে কাজ করছে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। তারা যৌথভাবে প্রতিটি আয়োজনে ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও সময়োপযোগী বার্তা পৌঁছে দিতে সচেষ্ট থাকছেন।

জানা গেছে, আজ সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় আনুষ্ঠানিকভাবে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পুনর্জাগরণ অনুষ্ঠানমালা’র উদ্বোধন করা হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন দেশের বরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষাবিদ, মানবাধিকার কর্মী, রাজনৈতিক বিশ্লেষকসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।

বিশেষ করে এবারের আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছে গণতন্ত্র, নারীর ক্ষমতায়ন, সামাজিক ন্যায়বিচার ও সাংস্কৃতিক জাগরণের প্রত্যয়। আয়োজকেরা বলছেন, এই অনুষ্ঠানমালার মাধ্যমে একটি নতুন প্রজন্মকে ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে, যারা অতীত থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ভবিষ্যৎ নির্মাণে এগিয়ে যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টা জুলাই অভ্যুত্থানের পটভূমি, বর্তমান প্রেক্ষাপটে এর তাৎপর্য, এবং রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক অঙ্গনে এর প্রভাব নিয়ে বক্তব্য দেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও তিনি দেশব্যাপী অন্যান্য কর্মসূচি ও অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা তুলে ধরবেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এখন কেবল একটি স্মারক দিবস নয়, বরং এটি সময়ের প্রয়োজনে একটি গণসচেতনতা তৈরির প্ল্যাটফর্মে রূপ নিচ্ছে। আর এই ধরনের সরকারিভাবে পরিচালিত পুনর্জাগরণমূলক উদ্যোগ রাষ্ট্র ও নাগরিক সমাজের মধ্যে সংযোগ বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখবে।

এমন এক সময়ে যখন রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামাজিক বিভাজনের অভিযোগ সামনে আসছে, তখন এই ধরনের উদ্যোগ ঐক্য, সংস্কৃতি এবং নাগরিক দায়িত্ববোধ জাগানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মত বিশ্লেষকদের।

সন্ধ্যায় অনুষ্ঠানের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে একাধিক দিনের কর্মসূচি, যা রাজধানী ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও সম্প্রসারিত হবে বলে জানা গেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত