প্রকাশ: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ‘বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পরিষদ গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। এই উদ্যোগ গাজায় ইসরাইলের সঙ্গে চলমান সংঘাত ও গণহত্যা বন্ধে, এবং যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ কার্যকর করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিষয়টি শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) তুর্কি সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে জানানো হয়।
ট্রাম্প নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এই ঘোষণা নিশ্চিত করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘এটি ঘোষণা করতে পারা আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের যে ‘বোর্ড অব পিস’ গঠিত হয়েছে। এই পরিষদের সদস্যদের নাম শিগগিরই ঘোষণা করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি যে এটি যেকোনো সময়, যেকোনো স্থানে গঠিত সবচেয়ে মহান এবং মর্যাদাপূর্ণ পরিষদ।’
গাজার শাসন ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই বোর্ড গঠনের আগে ১৫ সদস্যের ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাট কমিটি ঘোষিত হয়েছিল। নতুন বোর্ড অব পিস এই কমিটির তত্ত্বাবধানে কাজ করবে এবং ট্রাম্প নিজেই বোর্ডের সভাপতির দায়িত্ব পালন করতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো গাজা উপত্যকায় স্থায়ী শান্তি, প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা, এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
এই পরিকল্পনার আওতায় ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি স্থিতিশীল বাহিনী গাজার নিরাপত্তা তত্ত্বাবধানে মোতায়েন করা হবে। লক্ষ্য হলো স্থানীয় প্রশাসনকে শক্তিশালী করে সুষ্ঠু শাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ নাগরিকদের জীবনে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা।
হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতা বাসেম নাইম বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘বল এখন মধ্যস্থতাকারী, মার্কিন গ্যারান্টর এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কোর্টে। তাদেরকেই কমিটিকে ক্ষমতায়র করতে হবে।’ এই মন্তব্য বোঝায় যে, গাজার স্বাভাবিক শাসন ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা অপরিহার্য।
গত বছরের ১০ অক্টোবর মার্কিন সমর্থিত গাজা শান্তি পরিকল্পনার প্রথম ধাপ কার্যকর হয়। সেই সময়ে যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী হামাসের হাতে আটক সব বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয় এবং গাজায় গণহত্যার অবসান ঘটে। তবে এর পরেও ইসরাইল গাজার বিভিন্ন অংশে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে, শত শত ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। ফিলিস্তিনি জনগণ এ ধরনের সংঘাত ও সহিংসতা থেকে মুক্তি চায়।
গাজার সাধারণ মানুষ মনে করছে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইসরাইলের সেনাবাহিনী পুরোপুরি গাজার বাইরে চলে যাওয়া। যদিও শান্তি পরিকল্পনার কাঠামোর মধ্যে এই বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, তবে এখনও নির্দিষ্ট কোনো সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি। ফলে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ ও সমালোচনা অব্যাহত আছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বোর্ড অব পিস গঠনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গাজায় দীর্ঘমেয়াদি শান্তি এবং স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা রাখতে চাইছে। ট্রাম্পের নেতৃত্বে বোর্ডের কার্যক্রম যদি সাফল্যজনক হয়, তবে এটি শুধু গাজা নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের জন্য শান্তির দিকনির্দেশক হিসেবে কাজ করতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান আশা প্রকাশ করেছে যে, নতুন বোর্ড অব পিস ফিলিস্তিনিদের জীবনে স্থায়ী শান্তি আনতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। বিশেষত গাজার সাধারণ মানুষ, যারা দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধ, গণহত্যা এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবনযাপন করছে, তারা বোর্ডের কার্যক্রমের প্রতি গভীর প্রত্যাশা রাখছে।
ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, বোর্ড অব পিসের সফল কার্যক্রম গাজার শাসন ব্যবস্থাকে সমন্বিত করবে এবং স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর দক্ষতা বৃদ্ধি করবে। এটি গাজার পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথও সুগম করতে পারে। তবে এ ধরনের উদ্যোগে রাজনৈতিক স্বার্থ ও আন্তর্জাতিক চাপ প্রভাব ফেলতে পারে, যা সঠিকভাবে সমন্বয় করা প্রয়োজন।
গাজা উপত্যকায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য মার্কিন উদ্যোগ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় ভূমিকা ভবিষ্যতে শান্তিপূর্ণ শাসন এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। এই বোর্ড গঠন একদিকে যেমন যুদ্ধবিরতি বজায় রাখার প্রচেষ্টা, অন্যদিকে এটি গাজার রাজনৈতিক পুনর্গঠনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।