জিম্বাবুয়ের বিশ্বকাপ মিশনে বোলিং গুরু কোর্টনি ওয়ালশ

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৭ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৮৮ বার
জিম্বাবুয়ের বিশ্বকাপ মিশনে বোলিং গুরু কোর্টনি ওয়ালশ

প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটের কিংবদন্তি পেসার এবং বাংলাদেশের সাবেক কোচ কোর্টনি ওয়ালশ আবারও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায়। আসন্ন টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ে জাতীয় দলের বোলিং পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট (জেডসি) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ওয়ালশ ইতিমধ্যেই দলের সঙ্গে কাজ শুরু করে দিয়েছেন এবং বিশ্বকাপকে সামনে রেখে বোলিং বিভাগকে আরও কার্যকর ও প্রতিযোগিতামূলক করে গড়ে তোলাই তাঁর মূল লক্ষ্য।

বিশ্ব ক্রিকেটে কোর্টনি ওয়ালশের নাম উচ্চারিত হলেই চোখে ভাসে আগ্রাসী পেস বোলিং, নিখুঁত লাইন-লেন্থ এবং দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অর্জিত অসংখ্য রেকর্ড। টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম বোলার হিসেবে ৫০০ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়া এই পেস কিংবদন্তি খেলোয়াড়ি জীবনের পর কোচিং ক্যারিয়ারেও নিজের দক্ষতার ছাপ রেখেছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ, বাংলাদেশ এবং পরে নারী ক্রিকেটে তাঁর কাজ তাঁকে আন্তর্জাতিক কোচিং অঙ্গনে একটি বিশ্বস্ত নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গেও ওয়ালশের সম্পর্ক গভীর। ২০১৬ সাল থেকে ২০১৯ সালের বিশ্বকাপ পর্যন্ত সময়কালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয় দলের পেস বোলিং কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়েই তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমানের মতো পেসাররা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করেন। অনেক ক্রিকেট বিশ্লেষকের মতে, ওই সময় বাংলাদেশের পেস আক্রমণে যে শৃঙ্খলা ও আত্মবিশ্বাস দেখা গিয়েছিল, তার পেছনে ওয়ালশের অবদান ছিল গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশ অধ্যায়ের পর ওয়ালশ ওয়েস্ট ইন্ডিজ নারী দলের প্রধান কোচ হিসেবে কাজ করেন। নারী ক্রিকেটে তাঁর এই অভিজ্ঞতা তাঁকে খেলোয়াড়দের মানসিক প্রস্তুতি, কৌশলগত চিন্তা এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনায় আরও সমৃদ্ধ করে। ২০২৪ সালে তিনি জিম্বাবুয়ে নারী দলের টেকনিক্যাল পরামর্শকের ভূমিকায় ছিলেন। সেখানেই জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট বোর্ড তাঁর মেন্টরিং ও কৌশলগত দক্ষতা কাছ থেকে দেখার সুযোগ পায়।

এরই ধারাবাহিকতায় এবার পুরুষদের জাতীয় দলের জন্য তাঁকে বোলিং পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে জেডসি। আসন্ন টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এই সিদ্ধান্তকে জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটের জন্য একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে বোলিং ইউনিটের পরিকল্পনা, বৈচিত্র্য এবং চাপের মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়গুলোতে ওয়ালশের অভিজ্ঞতা দলকে বাড়তি সুবিধা দেবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা।

দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় কোর্টনি ওয়ালশ বলেন, পরিকল্পনা বাস্তবায়নই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। তিনি উল্লেখ করেন, দল হিসেবে একসঙ্গে কাজ করা এবং কন্ডিশনের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়া গেলে জিম্বাবুয়ের ভালো করার যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে। তাঁর মতে, বর্তমান বোলিং আক্রমণের কম্বিনেশন আশাব্যঞ্জক এবং দলে যে সম্ভাবনা রয়েছে, তা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে বড় দলগুলোকেও চ্যালেঞ্জ জানানো সম্ভব।

জিম্বাবুয়ের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ স্কোয়াডের বোলিং আক্রমণ তুলনামূলকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ। পেস বিভাগে আছেন লম্বা ও গতিময় ব্লেসিং মুজারাবানি, সুইং ও নিয়ন্ত্রণের জন্য পরিচিত রিচার্ড এনগারাভা এবং তরুণ পেসার টিনোটেন্ডা মাপোসা। অলরাউন্ড সামর্থ্যের দিক থেকে ব্র্যাড ইভান্স ও তাশিঙ্গা মুসেকিওয়া দলে বাড়তি ভারসাম্য যোগ করছেন। স্পিন বিভাগে অভিজ্ঞ ওয়েলিংটন মাসাকাদজা, গ্রায়েম ক্রেমার এবং অধিনায়ক সিকান্দার রাজা দলের অন্যতম ভরসা।

এই বোলিং ইউনিটকে এক সুতোয় গাঁথা এবং নির্দিষ্ট পরিকল্পনার মধ্যে আনাই ওয়ালশের প্রধান দায়িত্ব। আধুনিক টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটে যেখানে বোলারদের প্রতি ওভারে ভিন্ন ভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়, সেখানে অভিজ্ঞ কাউকে পাশে পাওয়া তরুণ বোলারদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে বলে মনে করছেন জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা।

জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গিভমোর মাকোনি বলেন, কোর্টনি ওয়ালশকে দায়িত্ব দেওয়ার পেছনে মূল কারণ তাঁর মেন্টরিং সক্ষমতা। তাঁর ভাষায়, বৈশ্বিক মঞ্চে সফল হতে কী ধরনের প্রস্তুতি লাগে, তা বোঝেন এমন একজন মানুষকেই তারা খুঁজছিলেন। ওয়ালশের জ্ঞান, পেশাদারত্ব এবং খেলোয়াড়দের সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়ার ক্ষমতা জিম্বাবুয়ের বোলিং বিভাগকে আরও ধারালো করে তুলবে বলে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।

টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ে রয়েছে গ্রুপ ‘বি’-তে। এই গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আয়ারল্যান্ড, উদীয়মান ওমান এবং টুর্নামেন্টের সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কা। গ্রুপ পর্বে জিম্বাবুয়ের চারটি ম্যাচই অনুষ্ঠিত হবে শ্রীলঙ্কার কন্ডিশনে, যা বোলারদের জন্য আলাদা চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। স্পিন সহায়ক উইকেট এবং আর্দ্র আবহাওয়ায় পেস বোলারদের সঠিক লাইন-লেন্থ বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।

এই প্রেক্ষাপটে ওয়ালশের অভিজ্ঞতা জিম্বাবুয়ের জন্য বড় সম্পদ হয়ে উঠতে পারে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দীর্ঘদিন খেলার অভিজ্ঞতা, বিভিন্ন দেশের কন্ডিশনে কাজ করার দক্ষতা এবং খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে প্রস্তুত করার ক্ষমতা তাঁকে এই দায়িত্বের জন্য উপযুক্ত করে তুলেছে। জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট দীর্ঘদিন ধরেই পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে ভালো পারফরম্যান্স দলটির আত্মবিশ্বাস ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

সব মিলিয়ে, কোর্টনি ওয়ালশের অন্তর্ভুক্তি জিম্বাবুয়ের বিশ্বকাপ অভিযানে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছেও এই নামটি পরিচিত ও সম্মানিত। এবার দেখার বিষয়, এই কিংবদন্তি পেসার তাঁর অভিজ্ঞতার ঝুলি থেকে কতটা সফলভাবে জিম্বাবুয়ের বোলিং আক্রমণকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে পারেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত