ওসমানীনগরে বাস দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল দুই জনের

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৭ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৭ বার
ওসমানীনগরে বাস দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল দুই জনের

প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সিলেটের ওসমানীনগরে ঢাকা–সিলেট মহাসড়কে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই জনের প্রাণহানি হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। শনিবার সকাল সাতটার দিকে ওসমানীনগর উপজেলার সোয়ারাও এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। সকালবেলার ব্যস্ত সময়ে সংঘটিত এই দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাময়িকভাবে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত দুজন ঢাকা থেকে সিলেটগামী শ্যামলী পরিবহনের সুপারভাইজার ও চালকের সহকারী। দুর্ঘটনার তীব্রতায় ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুই বাসের যাত্রী ও কর্মচারীরা রয়েছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ও আহতদের নাম-পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাতটার দিকে সিলেট থেকে ঢাকাগামী এনা পরিবহনের একটি বাস এবং ঢাকা থেকে সিলেটগামী শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস দ্রুতগতিতে চলছিল। সোয়ারাও এলাকায় পৌঁছালে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের শব্দ এতটাই বিকট ছিল যে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। শ্যামলী পরিবহনের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে বাসটির ভেতরে থাকা চালকের সহকারী ও সুপারভাইজার মারাত্মকভাবে আহত হন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁদের মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার সময় সিলেট থেকে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের আরেকটি বাসও ওই স্থানে উপস্থিত ছিল। সংঘর্ষের ধাক্কায় ওই বাসটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সৌভাগ্যক্রমে এর যাত্রীরা কেউ হতাহত হননি। তবে দুর্ঘটনার পরপরই ওই বাসের যাত্রীরা আতঙ্কে নেমে পড়েন এবং সড়কের পাশে অবস্থান নেন।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মী, স্থানীয় লোকজন এবং শেরপুর হাইওয়ে থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা আহতদের উদ্ধার করে সিলেটের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠান। গুরুতর আহত কয়েকজনকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

দুর্ঘটনার কারণে ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের ওই অংশে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়ি আটকে পড়ে। পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত বাসগুলো সরিয়ে নেওয়ার পর ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দুর্ঘটনায় শ্যামলী পরিবহনের দুজন কর্মী নিহত হয়েছেন। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বাস দুটি সরিয়ে নেওয়ার পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের এই অংশে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে ভোর ও সকালবেলায় বাসগুলোর অতিরিক্ত গতি এবং বেপরোয়া চালানোর কারণে ঝুঁকি বেড়ে যায়। অনেক সময় ওভারটেকিং করতে গিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তাঁরা সড়কে গতি নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত নজরদারি এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলোতে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানান।

সড়ক দুর্ঘটনা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দীর্ঘপথের বাসচালকদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম না পাওয়া, সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানোর চাপ এবং মহাসড়কে শৃঙ্খলার অভাবই এ ধরনের দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। তাঁরা বলেন, নিয়মিত ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল এবং দক্ষ চালকের অভাবও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

এদিকে দুর্ঘটনার খবরে নিহতদের পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। শ্যামলী পরিবহনের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নিহত দুজন দীর্ঘদিন ধরে পরিবহনটিতে কাজ করছিলেন। তাঁদের আকস্মিক মৃত্যুতে সহকর্মীদের মধ্যেও শোক ও হতাশা বিরাজ করছে।

সিলেট অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক দেশের অন্যতম ব্যস্ত মহাসড়ক হওয়ায় এখানে প্রতিদিন হাজারো যানবাহন চলাচল করে। ফলে সামান্য অসতর্কতাও বড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে উঠছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান ও সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হলেও দুর্ঘটনা পুরোপুরি কমছে না।

এই দুর্ঘটনার পর আবারও প্রশ্ন উঠেছে মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাসের গতি নিয়ন্ত্রণ, চালকদের প্রশিক্ষণ এবং আইন প্রয়োগের কার্যকারিতা নিয়ে। যাত্রী ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত