মেসি–রোনালদো ছাপিয়ে সালাহ, আন্তর্জাতিক ফুটবলে নতুন ইতিহাস

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৭ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৯ বার
মেসি–রোনালদো ছাপিয়ে সালাহ

প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আফ্রিকান কাপ অব নেশনস ২০২৫-এর সেমিফাইনালে হতাশাজনক বিদায়ে শেষ হয়েছে মিশরের শিরোপা স্বপ্ন। মাঠ ছাড়তে হয়েছে চোখে হতাশা আর হৃদয়ে বেদনা নিয়ে। তবে দলের সামগ্রিক ব্যর্থতার ভিড়েও ইতিহাসের আলোয় আলাদা করে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছেন এক নাম—মোহাম্মদ সালাহ। শিরোপা হাতছাড়া হলেও ব্যক্তিগত কীর্তিতে আন্তর্জাতিক ফুটবলের দুই জীবন্ত কিংবদন্তি লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকেও পেছনে ফেলেছেন মিশরের এই তারকা ফরোয়ার্ড।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে একশ গোল অবদানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন সালাহ। বিশেষত্ব এখানেই শেষ নয়। এই কীর্তি গড়তে তার লেগেছে মাত্র ১১১ ম্যাচ। ফুটবল ইতিহাসের পরিসংখ্যান বলছে, এই অর্জনে সালাহ টপকে গেছেন সময়ের দুই মহাতারকা মেসি ও রোনালদোকে। মেসিকে আর্জেন্টিনার জার্সিতে একশ গোল অবদানে পৌঁছাতে খেলতে হয়েছিল ১২২ ম্যাচ, আর রোনালদোর লেগেছিল ১৩৬ ম্যাচ। সংখ্যার বিচারে সালাহ এখন আন্তর্জাতিক ফুটবলের দ্রুততম একশ গোল অবদানকারী তারকাদের অন্যতম।

এই পরিসংখ্যান নিছক সংখ্যার খেলা নয়। এটি ফুটবলের এক দীর্ঘ সময়ের সাক্ষ্য বহন করে, যেখানে সালাহ নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন ধারাবাহিকতা, পেশাদারিত্ব আর মানসিক দৃঢ়তার প্রতীক হিসেবে। ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলে সাফল্যের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তিনি যে সমান ভয়ংকর, সেই প্রমাণ নতুন করে দিল এই রেকর্ড।

মিশরের হয়ে সালাহর পথচলা কখনোই সহজ ছিল না। আফ্রিকার ফুটবল বাস্তবতা ইউরোপের মতো সুযোগ-সুবিধা আর কাঠামোগত শক্তিতে সমৃদ্ধ নয়। তারপরও তিনি নিজেকে গড়ে তুলেছেন বৈশ্বিক তারকায়। লিভারপুলের জার্সিতে অসংখ্য রেকর্ড গড়ার পর জাতীয় দলের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই মিশরের ভরসার প্রতীক হয়ে আছেন সালাহ। চাপ, প্রত্যাশা আর সমালোচনার মাঝেও তার পারফরম্যান্সে খুব কমই ভাটা পড়েছে।

এএফকন ২০২৫-এও তার ব্যতিক্রম হয়নি। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে গোল কিংবা অ্যাসিস্টে অবদান রেখে দলকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি। সেমিফাইনালে বিদায় নিশ্চিত হলেও পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে সালাহ ছিলেন মিশরের আক্রমণভাগের প্রধান চালিকাশক্তি। দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স প্রশ্নের মুখে পড়লেও তার ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স প্রশংসিত হয়েছে ফুটবল বিশ্লেষকদের কাছে।

ফুটবল ইতিহাসে আন্তর্জাতিক গোল অবদানের দ্রুততায় সালাহর অবস্থান এখন বেশ শক্ত। এই তালিকার শীর্ষে আছেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলে, যিনি মাত্র ৭৭ ম্যাচেই একশ গোল অবদানে পৌঁছেছিলেন। তার পরেই নেইমার, যিনি ৯৪ ম্যাচে এই কীর্তি গড়েন। সালাহ ১১১ ম্যাচে এই মাইলফলক ছুঁয়ে তৃতীয় স্থানে নিজের নাম লিখিয়েছেন। তার পরেই রয়েছেন লুকাকু ও লুইস সুয়ারেজ। মেসি এই তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে, আর রোনালদোর অবস্থান আরও নিচে।

পরিসংখ্যান আরও বলছে, মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার দীর্ঘায়িত হয়েছে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে। আর্জেন্টিনার হয়ে এখন পর্যন্ত তিনি ১৯৬ ম্যাচে ১৭৬ গোল অবদান রেখেছেন। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোলের মালিক রোনালদো, যার গোল সংখ্যা ১৪৩। তবে ম্যাচপ্রতি গোল অবদানের গড়ের দিক থেকে সালাহর অবস্থান আলাদা গুরুত্ব বহন করে।

বর্তমান প্রজন্মে এই রেকর্ডে চ্যালেঞ্জ জানানোর সামর্থ্য দেখাচ্ছেন কেবল নরওয়ের তরুণ স্ট্রাইকার এরলিং হালান্ড। মাত্র ৪৮ ম্যাচেই ৬১ গোল অবদান করে ফেলেছেন তিনি। যদি এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকে, তবে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ফুটবলের রেকর্ড বইয়ে নতুন অধ্যায় যুক্ত হতে পারে। তবে সালাহর কীর্তি আপাতত অক্ষুণ্ন, এবং তা সময়ের পরীক্ষায় টিকে থাকার মতোই শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে আছে।

সালাহর এই অর্জনের পেছনে আছে তার কঠোর পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাস। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে ইউরোপে নিজেকে মানিয়ে নিতে তাকে পাড়ি দিতে হয়েছে কঠিন পথ। চেলসিতে ব্যর্থতা, এরপর ইতালি হয়ে ইংল্যান্ডে প্রত্যাবর্তন—সবকিছু মিলিয়ে তার ক্যারিয়ার এক অনুপ্রেরণার গল্প। সেই গল্পের আরেকটি উজ্জ্বল অধ্যায় যোগ হলো আন্তর্জাতিক ফুটবলের এই রেকর্ড।

তবে ব্যক্তিগত কীর্তির আলোয় আড়াল হয়ে যাচ্ছে একটি বেদনাদায়ক বাস্তবতা। সালাহর ক্যারিয়ারে আন্তর্জাতিক শিরোপার ঝুলিতে এখনও বড় শূন্যতা রয়ে গেছে। আফ্রিকান কাপ অব নেশনসের ফাইনালে খেলেও শিরোপা ছোঁয়া হয়নি তার। বিশ্বকাপের মঞ্চেও মিশরের সাফল্য সীমিত। এএফকন ২০২৫-এ সেমিফাইনাল পর্যন্ত যাত্রা করলেও শেষ হাসি হাসতে পারেনি তার দল।

এই বাস্তবতা সালাহকে আলাদা করে মানবিক করে তোলে। একজন সুপারস্টার হয়েও তিনি কেবল ব্যক্তিগত সাফল্যে তৃপ্ত নন। বারবারই বলেছেন, জাতীয় দলের হয়ে একটি বড় শিরোপা জেতাই তার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। মাঠের পারফরম্যান্সে সেই আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন দেখা যায়। প্রতিটি ম্যাচে তিনি খেলেন দায়িত্ববোধ আর আবেগ নিয়ে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত