প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ, সংক্ষেপে শাকসু এবং সংশ্লিষ্ট হল সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের জন্য প্রচারণার সময় আরও ১২ ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ, প্রার্থীদের দাবিদাওয়া এবং সাম্প্রতিক প্রশাসনিক জটিলতার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে শাকসু নির্বাচন কমিশন।
রোববার সকালে সোয়া ১০টার দিকে শাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবুল মুকিত মোহাম্মদ মোকাদ্দেছ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, প্রার্থীদের ন্যায্য প্রচারণার সুযোগ নিশ্চিত করতেই নির্বাচন কমিশন এই সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১২ জানুয়ারি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন দেশের সব ধরনের নির্বাচন কার্যক্রমের ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশ দেয়। এর ফলে শাকসু নির্বাচনও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে এবং প্রার্থীদের নির্ধারিত প্রচারণা কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়। পরে ১৫ জানুয়ারি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন পুনরায় শাকসু নির্বাচন আয়োজনের অনুমতি দেয় এবং ২০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ভোট গ্রহণের দিন নির্ধারণ করা হয়। এই সময়সূচির পরিবর্তন ও অনিশ্চয়তার কারণে অনেক প্রার্থীই পর্যাপ্ত প্রচারণার সুযোগ পাননি বলে নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন জানান।
শাকসু নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রার্থীদের প্রচারণার শেষ সময় ১৮ জানুয়ারি রাত ৯টা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে রোববার সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মোট ১২ ঘণ্টা অতিরিক্ত প্রচারণার সুযোগ পাচ্ছেন শাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীরা।
নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, সাধারণত ভোট গ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে সব ধরনের প্রচারণা বন্ধ করার নিয়ম রয়েছে। সে অনুযায়ী আগের সিদ্ধান্ত অনুসারে শনিবার রাত ১০টায় প্রচারণা শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে একাধিক প্রার্থী নির্বাচন কমিশনের কাছে সময় বাড়ানোর আবেদন করেন। তাঁদের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করে কমিশন এই অতিরিক্ত সময় অনুমোদন দেয়।
শাকসু নির্বাচন কমিশনের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নির্বাচন যাতে অংশগ্রহণমূলক, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হয়, সে জন্য প্রার্থীদের সমান সুযোগ দেওয়া জরুরি। বিশেষ করে নির্বাচন কমিশনের স্থগিতাদেশ ও পরবর্তী অনুমতির কারণে যে সময়সূচিগত জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তা পুষিয়ে নিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শাকসু নির্বাচন দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা হল, বিভাগ ও ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে প্রচারণা চালাচ্ছেন। পোস্টার, লিফলেট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং সরাসরি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে নিজেদের কর্মসূচি তুলে ধরছেন তাঁরা।
অনেক প্রার্থী অভিযোগ করেছেন, নির্বাচন কমিশনের স্থগিতাদেশের কারণে হঠাৎ করেই প্রচারণা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁদের পরিকল্পিত কর্মসূচি ব্যাহত হয়। বিশেষ করে যাঁরা ক্যাম্পাসে তুলনামূলক কম পরিচিত, তাঁদের জন্য ভোটারদের কাছে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। অতিরিক্ত ১২ ঘণ্টা সময় পাওয়ায় তাঁরা কিছুটা হলেও স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।
শাকসুর একজন সভাপতি পদপ্রার্থী বলেন, “নির্বাচন স্থগিত হওয়া এবং পরে হঠাৎ অনুমতি পাওয়ার কারণে আমরা ঠিকভাবে প্রচারণা চালাতে পারিনি। সময় বাড়ানোয় অন্তত শেষ মুহূর্তে ভোটারদের কাছে আমাদের বার্তা পৌঁছানোর সুযোগ মিলছে।” আরেকজন সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী জানান, “এই সিদ্ধান্ত নির্বাচনকে আরও অংশগ্রহণমূলক করবে বলে আমরা আশা করছি।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝেও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা চলছে। অনেক শিক্ষার্থী মনে করছেন, দীর্ঘদিন পর ছাত্র সংসদ নির্বাচন হওয়ায় প্রার্থীদের বক্তব্য, পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি জানার জন্য পর্যাপ্ত সময় থাকা দরকার। অতিরিক্ত প্রচারণার সময় শিক্ষার্থীদের সিদ্ধান্ত নিতে সহায়ক হবে বলেও মত দিয়েছেন কেউ কেউ।
এদিকে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, প্রচারণার সময় বাড়ানো হলেও আচরণবিধি কঠোরভাবে মানতে হবে। কোনো ধরনের সহিংসতা, অপপ্রচার, শব্দদূষণ বা শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হয়—এমন কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ পেলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
শাকসু নির্বাচন উপলক্ষে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোট গ্রহণের দিন অর্থাৎ ২০ জানুয়ারি সকাল ৯টা থেকে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শাবিপ্রবিতে শাকসু নির্বাচন শুধু একটি সাংগঠনিক প্রক্রিয়া নয়, বরং শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়, মতপ্রকাশ এবং নেতৃত্ব বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়। দীর্ঘ বিরতির পর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশাও অনেক বেশি। প্রচারণার সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সেই প্রত্যাশা পূরণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সব মিলিয়ে, শাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে প্রচারণার সময় ১২ ঘণ্টা বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত প্রার্থীদের জন্য যেমন স্বস্তির, তেমনি শিক্ষার্থীদের জন্যও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ বাড়িয়েছে। এখন সবার দৃষ্টি আগামী ২০ জানুয়ারির ভোট গ্রহণের দিকে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিনিধি বেছে নেওয়ার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটাবেন।