গণতন্ত্র ও ধর্মীয় স্বাধীনতায় বিএনপির বিকল্প নেই: আবদুস সালাম

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬৪ বার
গণতন্ত্র ধর্মীয় স্বাধীনতা বিএনপি বাংলাদেশ

প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় গণতন্ত্র, মানুষের ভোটাধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষার প্রশ্নে বিএনপির কোনো বিকল্প নেই—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ঢাকা-১৭ আসনের বিএনপি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক আবদুস সালাম। তিনি বলেন, দেশ আজ এক গভীর রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে গণতান্ত্রিক অধিকার সংকুচিত, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বাধাগ্রস্ত এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রশ্নের মুখে। এই প্রেক্ষাপটে বিএনপি শুধু একটি রাজনৈতিক দল নয়, বরং সাধারণ মানুষের অধিকার ও স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।

রোববার ১৮ জানুয়ারি রাজধানীর বনানীতে ঢাকা-১৭ আসনের বিএনপির প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে ওলামা ও মাশায়েখদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত ইমাম, খতিব, আলেম ও ধর্মীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় সমসাময়িক রাজনীতি, নির্বাচন, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং দেশের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে খোলামেলা মতবিনিময় হয়।

আবদুস সালাম বলেন, একটি চক্র ভেতরে ভেতরে ষড়যন্ত্র করে প্রথমে বিএনপিকে ক্ষমতায় রেখে পরে আন্দোলনের নামে আবার ক্ষমতা দখলের অপচেষ্টা করছে। তিনি এই ষড়যন্ত্রকে দেশের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে উল্লেখ করেন। তার মতে, এমন রাজনীতি শুধু সরকার পরিবর্তনের খেলায় সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা, গণতন্ত্র ও সামাজিক সম্প্রীতির ওপর সরাসরি আঘাত হানে।

ধর্মীয় রাজনীতির নামে যারা রাজপথে সক্রিয়, তাদের ভূমিকা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। আবদুস সালাম বলেন, যারা মুখে ইসলামের কথা বলে রাজনীতি করে, বাস্তবে তারা কখনোই ইসলামের পক্ষে ছিল না। অতীতে তারা দেশের স্বার্থবিরোধী আপস করেছে, সীমান্তের ওপারে সমঝোতায় জড়িয়েছে এবং আন্তর্জাতিক শক্তির সঙ্গে গোপন বোঝাপড়ার অভিযোগও রয়েছে। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্য ধর্মকে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা ইসলামের মৌলিক শিক্ষা ও নৈতিকতার পরিপন্থী।

বিএনপির ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি সরাসরি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, বিএনপি কি কখনো ইসলামবিরোধী কোনো কাজ করেছে? এরপর নিজেই উত্তর দেন—না, কখনোই করেনি। তার ভাষায়, বিএনপি বরাবরই ধর্মীয় স্বাধীনতা, আলেম সমাজের সম্মান এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান স্মরণ করে আবদুস সালাম বলেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের ইতিহাসে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা অনন্য। তিনি শুধু একজন সামরিক নেতা নন, বরং একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন। ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শান্তি প্রতিষ্ঠায় তার কূটনৈতিক ভূমিকা ছিল ঐতিহাসিক। সৌদি আরবে বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য সম্মানজনক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে তিনি দেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক আয়ের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিলেন। দানের অর্থের ওপর নির্ভর না করে সম্মানের সঙ্গে উপার্জনের পথ তৈরি করাই ছিল তার দর্শন। এইসব কারণেই তিনি ইতিহাসে একমাত্র রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ‘শহীদ’ উপাধিতে স্মরণীয় হয়ে আছেন।

আসন্ন নির্বাচন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আবদুস সালাম বলেন, এই নির্বাচন শুধু একটি দল বা সরকারের প্রশ্ন নয়, এটি সাধারণ মানুষের স্বাধীনতা, ধর্ম পালন এবং দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের নির্বাচন। তার ভাষায়, এই দেশ স্বাধীন থাকবে, নাকি অন্যের স্বার্থে বিক্রি হয়ে যাবে—সেই সিদ্ধান্ত এই নির্বাচনের মধ্য দিয়েই হবে। তিনি বলেন, জনগণ যদি সচেতনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে, তবে দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত হবে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে চলমান রাজনৈতিক বিতর্ক প্রসঙ্গেও কথা বলেন তিনি। আবদুস সালাম অভিযোগ করেন, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। অথচ ৫ আগস্টের পর তারেক রহমান নিজেই স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন—কোনো ধরনের প্রতিশোধমূলক হামলা, অগ্নিসংযোগ বা অরাজকতায় জড়ানো যাবে না। তার মতে, এই নির্দেশনাই প্রমাণ করে তারেক রহমান একজন দায়িত্বশীল ও পরিণত নেতা, যিনি ক্ষমতার চেয়েও দেশের স্থিতিশীলতাকে বেশি গুরুত্ব দেন।

আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের অতীত সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে আবদুস সালাম বলেন, বিএনপিকে ক্ষমতা থেকে সরানোর জন্য যারা অতীতে আওয়ামী লীগের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল, তারা আজও একই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় রাজনীতির উদাহরণ দিয়ে বলেন, ছাত্রলীগ ও শিবিরের মধ্যে আদর্শিক মিল রয়েছে, যা সাধারণ মানুষকে বুঝতে হবে। তার মতে, ক্ষমতার প্রশ্নে এরা একে অপরের পরিপূরক হয়ে ওঠে, আর ক্ষতিগ্রস্ত হয় গণতন্ত্র।

সভায় উপস্থিত ইমাম, মাশায়েখ ও ধর্মীয় নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা যদি অন্তর থেকে কথা বলেন, মানুষ তা বিশ্বাস করবে। ধর্মীয় নেতাদের সমাজে বিশেষ প্রভাব রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের কাছে সত্য তুলে ধরতে আপনাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সবাইকে গণসংযোগে নেমে মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার আহ্বান জানান এবং বলেন, দেশের মানুষের কল্যাণে একমাত্র দল বিএনপি এবং নেতৃত্বের প্রশ্নে তারেক রহমানই সবচেয়ে যোগ্য।

সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের আরেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দেশপ্রেম ও সাহসিকতার কথা তুলে ধরে বলেন, কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ বা ক্ষমতার লোভে নয়, জীবন-মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়েই তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। একজন মেজর হয়েও তিনি পরে ব্যারাকে ফিরে যান, যা তার নৈতিকতার প্রমাণ। পরবর্তীতে ৭ নভেম্বর দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ইসলামী মূল্যবোধ হুমকির মুখে পড়লে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং সংবিধানে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ সংযোজনের মাধ্যমে ইসলামী মূল্যবোধকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেন।

তিনি আরও বলেন, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়কারী এই নেতা ইসলামের প্রতি তার বিশ্বাসকে ব্যক্তিগত পর্যায়ে সীমাবদ্ধ রাখেননি, বরং রাষ্ট্রীয় নীতিতেও তা প্রতিফলিত করেছিলেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ইসলামী শিক্ষা, মাদ্রাসা ও আলেম সমাজের পাশে দাঁড়ান। তারেক রহমানের ‘I have a plan’ বক্তব্যের মাধ্যমে একটি আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র পরিচালনার রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে পরিবার, কৃষি, অর্থনীতি ও ধর্মীয় খাত সমান গুরুত্ব পায়।

সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা নাজিমুদ্দিন আলমসহ বিভিন্ন ওলামা ও মাশায়েখরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে নেতারা আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন নির্বাচনে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক, সহনশীল ও ধর্মীয় স্বাধীনতাসম্পন্ন বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত