এনসিপি নির্বাচনি ইশতেহারে ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬৬ বার
এনসিপি নির্বাচনি ইশতেহার পরিকল্পনা প্রকাশ

প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে গঠিত দল হিসেবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। দলের কেন্দ্রীয় নেতারা ইতোমধ্যেই নির্বাচনি ইশতেহারের খসড়া প্রণয়নের কাজ শুরু করেছেন, যেখানে রাষ্ট্র, নাগরিক ও প্রতিষ্ঠান—এই তিন স্তরে মৌলিক ও কাঠামোগত পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে স্থান পাবে। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইশতেহারে আধিপত্যবাদ মোকাবিলা, রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের রক্ষা, অর্থনৈতিক আত্মনির্ভরতা জোরদার করা এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সৃজনশীল উদ্ভাবনকে প্রযুক্তিনির্ভর সমাধানের সঙ্গে সংযুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, ১৫ জানুয়ারি দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এহতেশাম হককে প্রধান এবং ইশতিয়াক আকিবকে সেক্রেটারি করে একটি আট সদস্যের ইশতেহার উপকমিটি গঠন করেছেন। এই কমিটি দ্রুত সময়ে দলের নির্বাচনি ইশতেহার প্রণয়ন ও খসড়া তৈরির কাজ করছে। দলীয় নেতারা জানিয়েছেন, ইশতেহারে এমন একটি ভিশন থাকবে যা বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গড়ার প্রতিশ্রুতি দেয়—যেখানে মৌলিক অধিকার, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, মানবিক মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করা হবে।

এনসিপির পরিকল্পনায় আগামী পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্নীতিমুক্ত, জবাবদিহিমূলক ও সেবামুখী করার জন্য বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী পদক্ষেপের বিস্তারিত রূপরেখা থাকবে। দলটি আশ্বাস দিয়েছে, নির্বাচনি ইশতেহারে গণঅভ্যুত্থানের প্রথম বার্ষিকীতে ঘোষিত ২৪ দফা কর্মসূচির মধ্যে যেগুলো বাস্তবায়নযোগ্য সেগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হবে। জাতীয় বাজেটের সুষম বণ্টন, অর্থনৈতিক আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ, ধনীদের ওপর কর বৃদ্ধি এবং সরকারের আয় বাড়ানোর উদ্যোগও এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

এনসিপি ইশতেহারে নির্বাচিত মন্ত্রী, এমপি এবং সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বার্ষিক আয় ও সম্পদের হিসাব সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ ও নিয়মিত হালনাগাদ করার পরিকল্পনা করছে। এছাড়া জাতীয় ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ, তুলনামূলক কম আয়ের মানুষের করমুক্ত সীমা বৃদ্ধি, ছয় মাসের মাতৃত্বকালীন ও এক মাসের পিতৃত্বকালীন ছুটি বাধ্যতামূলক করা এবং কর্মজীবী মায়েদের জন্য ডে কেয়ার সেন্টারের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে। স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের জন্য ডেটাবেস স্থাপন এবং প্রবাসীদের জন্য অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য গুচ্ছ পরিকল্পনা থাকবে।

রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা সুসংহত করার জন্য মধ্যপাল্লার মিসাইল এবং উন্নত প্রযুক্তির ড্রোন সংগ্রহসহ প্রতিরক্ষা বাহিনীর সংস্কার করা হবে। নিরাপত্তা বাহিনীর অতীত কর্মকাণ্ডের বিচারের জন্য ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন’ গঠন করা হবে, যাতে সরকারি সংস্থা ও বাহিনীগুলো জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক হতে পারে। এনসিপির নেতারা বিশ্বাস করেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে দেশ একটি স্থিতিশীল, নিরাপদ ও সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্রে রূপান্তরিত হবে।

দলীয় সূত্র জানায়, গত ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’ প্রতিষ্ঠার ঘোষণার সময় এনসিপি ২৪ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছিল। এই ২৪ দফার আলোকে আসন্ন নির্বাচনে ইশতেহার তৈরি করা হচ্ছে। নেতারা মনে করেন, দেশের নাগরিকদের সমৃদ্ধি, রাষ্ট্রীয় স্বচ্ছতা এবং সামাজিক ন্যায় নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই ইশতেহার নতুন এক রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপির এই ইশতেহার তরুণ প্রজন্মকে বিশেষভাবে লক্ষ্যে রেখে তৈরি করা হচ্ছে। এটি শুধুমাত্র নির্বাচন কেন্দ্রিক নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাঠামো পরিবর্তনের একটি রূপরেখা। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এনসিপির পরিকল্পিত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশ একটি সুশৃঙ্খল, প্রতিযোগিতামূলক এবং মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে উদ্ভাসিত হবে।

দলের নেতারা আশা প্রকাশ করেছেন, নির্বাচনের আগে নাগরিক সমাজ ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনগুলো এই ইশতেহারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে সমর্থন প্রদান করবে। তারা বলছেন, একনিষ্ঠ এবং কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের সাধারণ মানুষ সত্যিকারের গণতান্ত্রিক অধিকার ও মৌলিক মানবিক মর্যাদা উপভোগ করতে পারবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত