মালয়েশিয়ায় ঘুষের অভিযোগে বাংলাদেশি প্রবেশকারী কর্মকর্তা গ্রেফতার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৩১ বার
মালয়েশিয়া বাংলাদেশি প্রবেশ ঘুষ

প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সাবেক উপ-সহকারী অভিবাসন পরিচালক মাস্তুরা আজিজকে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার রিঙ্গিত ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে সোমবার গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে জানা গেছে, তিনি বাংলাদেশি নাগরিকদের মালয়েশিয়ায় প্রবেশের সুযোগ করে দেওয়ার বিনিময়ে এই অর্থ গ্রহণ করেছিলেন, যা দেশটির অভিবাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার জন্য বড় ধরনের আঘাত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মালয়েশিয়ান অ্যান্টি-করাপশন কমিশন (এমএসিসি) সূত্রে জানা গেছে, মামলাটি এমএসিসি অ্যাক্ট ২০০৯-এর ধারা ১৬(এ)(বি) এর অধীনে দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, মাস্তুরা আজিজ ২০২৫ সালের মে মাসে একাধিক দফায় ঘুষ গ্রহণ করেছিলেন। ৩ মে তিনি ৫ জন বাংলাদেশিকে অবৈধভাবে প্রবেশের সুযোগ দিতে ১২ হাজার ৫০০ রিঙ্গিত গ্রহণ করেন। ৭ মে ১৯ জনের জন্য ৪৭ হাজার ৫০০ রিঙ্গিত, ১১ মে ২১ জনের জন্য ৫২ হাজার ৫০০ রিঙ্গিত এবং ১৫ মে ১১ জনকে প্রবেশ অনুমতি দেওয়ার বিনিময়ে ২৭ হাজার ৫০০ রিঙ্গিত গ্রহণের তথ্য পাওয়া গেছে।

সোমবার তার বিরুদ্ধে চারটি পৃথক অভিযোগ আনা হলে তিনি আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন ডেপুটি পাবলিক প্রসিকিউটর ইরনা জুলিজে মারাস, আর অভিযুক্তের পক্ষে লড়ছেন আইনজীবী দাতুক গিথান রাম ভিনসেন্ট। মামলায় বিচারক মোহাম্মদ নাসির নর্ডিন আসামিকে ২০ হাজার রিঙ্গিত মুচলেকায় জামিন মঞ্জুর করেছেন। তবে জামিনের শর্তে তাকে মাসে একবার এমএসিসি অফিসে হাজিরা দিতে হবে। মামলার পরবর্তী তারিখ এবং নথিপত্র জমা দেওয়ার জন্য ২৫ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরণের অবৈধ কার্যক্রম কেবল একজন কর্মকর্তার দ্বারা সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং বৃহত্তর প্রশাসনিক দুর্নীতির প্রতিফলন হিসেবে দেখা যায়। এ ঘটনা আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্যও এক সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। মালয়েশিয়ায় বৈধভাবে ভ্রমণ এবং কাজের সুযোগ সৃষ্টিতে অভিবাসন কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষ ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মাস্তুরা আজিজের এই কর্মকাণ্ড দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হয়েছে, যার ফলে অসংখ্য বাংলাদেশি নাগরিককে বৈধ প্রক্রিয়ার বাইরে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের ঘটনা দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও মানবিক সম্পর্কের জন্যও উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশি প্রবাসীরা দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ায় বৈধভাবে বসবাস ও কাজ করতে চাইলেও এ ধরনের দুর্নীতি তাদের জন্য ঝুঁকি হিসেবে কাজ করে।

এই ঘটনায় মালয়েশিয়ার সরকার এবং এমএসিসি কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যা দেশটির প্রশাসনিক সততার প্রতি গুরুত্বকে তুলে ধরে। প্রবাসী শ্রমিক, শিক্ষার্থী ও অন্যান্য ভ্রমণকারীদের নিরাপত্তা এবং আইন মেনে চলা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই সতর্কতা জারি করেছে।

এমএসিসি-এর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ধরনের অভিযোগের তদন্ত অত্যন্ত জটিল এবং সময়সাপেক্ষ। তারা ইতিমধ্যেই বিমানবন্দর, অভিবাসন অফিস এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যবেক্ষণ শুরু করেছে। তদন্ত প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তাদেরও অবহিত করা হয়েছে। এই ঘটনায় বিদেশি প্রবাসীদেরও সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে যাতে প্রমাণের যথাযথতা নিশ্চিত করা যায়।

বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন ধরণের ঘটনা প্রবাসী কর্মীদের জীবন ও নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তারা উল্লেখ করেছেন যে, অবৈধ প্রবেশাধিকার সুবিধা দেওয়ার ফলে প্রবাসী শ্রমিকরা নানা ধরনের শোষণ এবং আইনি জটিলতায় পড়তে পারে। এটি শুধু প্রশাসনিক দুর্নীতির চিত্রই তুলে ধরে না, বরং মানবিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির কারণও হয়ে দাঁড়ায়।

মালয়েশিয়ার আদালত এবং অভিবাসন সংস্থার কাছে এই মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি গুরুত্বপূর্ণ। আইন মেনে চলা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা বিদেশি প্রবাসীদের প্রতি দেশের দায়বদ্ধতার প্রতিফলন। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা এ ঘটনা নিয়ে নজর রাখছেন এবং আশঙ্কা করা হচ্ছে, মামলার ফলাফল প্রবাসী বাংলাদেশিদের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

এই ঘটনায় প্রমাণিত হচ্ছে যে, অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক সততা এবং অভিবাসন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা শুধুমাত্র দেশের নিরাপত্তা নয়, বরং বৈধ অভিবাসন কাঠামোরও ভিত্তি। বিশেষজ্ঞরা বলেন, এই ধরনের দুর্নীতি বন্ধ করতে কঠোর আইন প্রয়োগ এবং অভ্যন্তরীণ পর্যবেক্ষণ শক্তিশালী করতে হবে।

মালয়েশিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এই ঘটনা শিক্ষণীয় উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রবাসীরা দীর্ঘমেয়াদি ও বৈধভাবে দেশের মধ্যে কাজ করতে পারবে এবং তাদের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে, সেই দিকে প্রশাসনের মনোযোগ দিতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত