ম্যানচেস্টার সিটির শিরোপা স্বপ্ন কি সত্যিই ফুরোচ্ছে?

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৯ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৬৫ বার
ম্যানচেস্টার সিটি

প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ মানেই উত্তেজনা, নাটক আর শেষ মুহূর্তের মোড় ঘোরানো গল্প। চলতি মৌসুমেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বরং সময় যত গড়াচ্ছে, শিরোপা লড়াই ততই রোমাঞ্চকর হয়ে উঠছে। তবে গত শনিবারের ম্যাচডে যেন এই লড়াইয়ে নতুন করে প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে—বিশেষ করে ম্যানচেস্টার সিটির শিরোপা স্বপ্ন নিয়ে। একই দিনে হোঁচট খেয়েছে শিরোপাপ্রত্যাশী দুই দল, আর্সেনাল ও ম্যানচেস্টার সিটি। কিন্তু প্রশ্নটা সবচেয়ে বেশি উঠছে গার্দিওলার দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে—এই অবস্থায় কি প্রিমিয়ার লিগ জেতার আশা প্রায় শেষ হয়ে গেল সিটির?

দিনের শুরুটা ছিল ম্যানচেস্টার ডার্বির উত্তাপে ভরপুর। কিন্তু সেই উত্তাপ সিটির জন্য সুখকর হয়নি। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কাছে ২-০ গোলে হেরে যায় পেপ গার্দিওলার দল। ম্যাচজুড়ে বল দখলে এগিয়ে থেকেও বড় ম্যাচে সেই পুরোনো সমস্যায় ভুগেছে সিটি—সুযোগ নষ্ট আর রক্ষণে মুহূর্তের ঢিলেমি। ইউনাইটেড সুযোগ পেয়েছে, আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েই ডার্বির গৌরব ছিনিয়ে নিয়েছে তারা। এই হার শুধু তিন পয়েন্ট নয়, সিটির আত্মবিশ্বাসেও বড় আঘাত হেনেছে।

এই হারের পর শিরোপা দৌড়ে শীর্ষে থাকা আর্সেনালের সামনে সুবর্ণ সুযোগ ছিল ব্যবধান আরও বাড়ানোর। নটিংহাম ফরেস্টের মাঠে জিততে পারলে সিটির সঙ্গে পয়েন্ট ব্যবধান ৯-এ নিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল মিকেল আরতেতার দলের সামনে। কিন্তু ফুটবল যে সব সময় অঙ্ক মেনে চলে না, সেটাই আবার প্রমাণ হলো। ফরেস্টের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে মাঠ ছাড়তে হলো গানারদের।

ম্যাচের শুরু থেকেই আর্সেনাল আক্রমণাত্মক ছিল। প্রথমার্ধেই গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির সামনে আসে ম্যাচের সেরা সুযোগ। গোলের সামনে দাঁড়িয়ে তাঁর শট ঠেকিয়ে দেন ফরেস্ট গোলরক্ষক ম্যাটস সেলস। ওই একটি মুহূর্তই ম্যাচের গল্প বদলে দিতে পারত। দ্বিতীয়ার্ধে ডেকলান রাইস ও বুকায়ো সাকা একের পর এক আক্রমণ সাজিয়েছেন, কিন্তু ফরেস্টের রক্ষণ আর সেলস যেন অদৃশ্য দেয়াল তুলে দিয়েছিলেন। অন্যদিকে আর্সেনালের গোলরক্ষক দাভিদ রায়ার দিনটা তুলনামূলকভাবে শান্তই কেটেছে, ফরেস্টের আক্রমণ খুব একটা তাঁর গোলপোস্টে হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারেনি।

এই ড্রয়ের ফলে ২২ ম্যাচ শেষে আর্সেনালের পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে ৫০-এ। সমান ম্যাচে ম্যানচেস্টার সিটির পয়েন্ট ৪৩। ব্যবধান এখন সাত পয়েন্টের। পেছন থেকে চাপ বাড়াচ্ছে অ্যাস্টন ভিলাও। গত রাতে এভারটনকে হারিয়ে থাকলে ৪৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসার সুযোগ ছিল তাদের। সব মিলিয়ে লিগ টেবিলের ওপরের দিকটা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি জটিল।

এ অবস্থায় আর্সেনালের সামনে যে পথটা অপেক্ষা করছে, সেটাও মোটেই সহজ নয়। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাস গানারদের জন্য একপ্রকার অগ্নিপরীক্ষা। ২৫ জানুয়ারি এমিরেটসে তাদের মুখোমুখি হতে হবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে। এরপর ৩১ জানুয়ারি লিডস ইউনাইটেডের মাঠে কঠিন অ্যাওয়ে ম্যাচ। ফেব্রুয়ারিতে অপেক্ষা করছে সান্ডারল্যান্ড, ব্রেন্টফোর্ড এবং চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী টটেনহাম। এর পাশাপাশি চ্যাম্পিয়নস লিগে ইন্টার মিলানের মতো শক্ত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়াই। এতগুলো বড় ম্যাচ একসঙ্গে সামলানোই হবে আরতেতার দলের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

অন্যদিকে ম্যানচেস্টার সিটির সময়টা যে খুব একটা ভালো যাচ্ছে না, তা বলাই বাহুল্য। সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হারিয়ে শিরোপার দৌড়ে তারা কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে। তবু এখনই তাদের বাদ দিয়ে দেওয়া ভুল হবে—এমনটাই মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক। কারণ এই দলটা বারবার প্রমাণ করেছে, চাপের মুখে তারা ভয়ংকর রূপ নিতে পারে। শিরোপার লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে এখন থেকে প্রতিটি ম্যাচই সিটির জন্য ‘ডু অর ডাই’।

আগামী সূচিও সিটির জন্য সহজ নয়। ২৪ জানুয়ারি টেবিলের তলানির দল উলভসের বিপক্ষে খেলবে তারা। কাগজে-কলমে ম্যাচটি সহজ মনে হলেও প্রিমিয়ার লিগে এমন ম্যাচেই অনেক সময় হোঁচট খায় বড় দলগুলো। এরপর টটেনহাম হটস্পারের মাঠে কঠিন সফর। আর ৮ ফেব্রুয়ারি অ্যানফিল্ডে লিভারপুলের বিপক্ষে ম্যাচ—যেখানে পয়েন্ট পাওয়া মানেই বিশাল সাফল্য। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ঘরের মাঠে ফুলহাম ও নিউক্যাসলের বিপক্ষে ম্যাচগুলোতেও কোনো ভুলের সুযোগ থাকবে না।

এই কঠিন বাস্তবতার মাঝেও সিটির ড্রেসিংরুমে হতাশার সুর নেই—অন্তত প্রকাশ্যে নয়। মিডফিল্ডার রদ্রি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, হাল ছাড়ার প্রশ্নই আসে না। তাঁর মতে, ফুটবল এমনই খেলা যেখানে হার আসবেই, কিন্তু সেই হার থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। রদ্রির কণ্ঠে আত্মবিশ্বাস, ‘আমরা শেষনিশ্বাস পর্যন্ত লড়াই করব।’

রদ্রি আরও স্বীকার করেছেন, বর্তমান সিটি দলে প্রতিভার কোনো অভাব নেই। তবে বড় ম্যাচে মাঝে মাঝে খেই হারিয়ে ফেলার প্রবণতা চোখে পড়ছে। তরুণ খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতার ঘাটতিও কিছু ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলছে। কিন্তু এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডারের মতে, সেটাই দল গঠনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। ‘এভাবেই দল তৈরি হয়। কখনো অপেক্ষা করতে হয়, বড় কিছু গড়তে সময় লাগে। আমাদের দায়িত্ব তরুণদের পাশে থাকা, কারণ ভবিষ্যতে ওরাই হবে এই দলের মেরুদণ্ড,’—বলেছেন তিনি।

সব মিলিয়ে প্রশ্নটা থেকেই যায়—ম্যানচেস্টার সিটির প্রিমিয়ার লিগ জেতার আশা কি শেষ? অঙ্কের হিসাবে এখনও নয়। সাত পয়েন্টের ব্যবধান বড় হলেও অসম্ভব নয়, বিশেষ করে যখন সামনে এখনও অনেক ম্যাচ বাকি। তবে বাস্তবতা হলো, এখন আর ভুল করার余জায়গা নেই সিটির। আর্সেনাল যদি ধারাবাহিক থাকে, আর সিটি যদি বড় ম্যাচগুলোতে আবারও হোঁচট খায়, তবে শিরোপা স্বপ্ন সত্যিই অধরা হয়ে যেতে পারে।

প্রিমিয়ার লিগের সৌন্দর্য এখানেই—শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত কিছুই নিশ্চিত নয়। গার্দিওলার সিটি কি আবার সেই চেনা ছন্দে ফিরবে, নাকি আর্সেনালই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটাবে—উত্তর দেবে সময়ই। আপাতত লড়াই জমে উঠেছে, আর দর্শকদের জন্য প্রতিটি ম্যাচই যেন একেকটি ফাইনাল।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত