কাশিয়ানীতে ৪২ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি আটক

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৪ বার
কাশিয়ানীতে গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক

প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে র‌্যাবের অভিযানে বিপুল পরিমাণ গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক হওয়ার ঘটনা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। মাদকবিরোধী চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে র‌্যাব-৬-এর ভাটিয়াপাড়া ক্যাম্পের সদস্যরা প্রায় ৪২ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ তাদের আটক করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই সফল অভিযানে মাদক পাচারের একটি বড় চক্রের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাত পৌনে ৮টার দিকে কাশিয়ানী উপজেলার জয়নগর-ব্যাসপুর সড়কের মাঝিগাতী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাবের একটি বিশেষ দল ওই এলাকায় অবস্থান নেয় এবং সন্দেহভাজন একটি মাইক্রোবাসে তল্লাশি চালায়। এ সময় মাইক্রোবাসের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমাণ গাঁজা। ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয় দুই মাদক ব্যবসায়ীকে।

আটক ব্যক্তিরা হলেন ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া থানার দক্ষিণ আন্ধারমানিক গ্রামের নূরুল হুদার ছেলে মো. আবু তাহের (৪০) এবং একই থানার পূর্ব ছাগলনাইয়া গ্রামের আবুল কাসেমের ছেলে মো. নূরুল আলম (৪০)। র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মাদক সংগ্রহ করে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল।

র‌্যাব-৬-এর ভাটিয়াপাড়া ক্যাম্পের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, সম্প্রতি গোপালগঞ্জ ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় মাদক পাচারের তৎপরতা বেড়েছে—এমন তথ্য তাদের কাছে ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার রাতে কাশিয়ানীর মাঝিগাতী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় একটি মাইক্রোবাস থামিয়ে তল্লাশি চালালে ভেতরে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা গাঁজার চালানটি উদ্ধার করা হয়। মাদক বহনে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসটিও জব্দ করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাতের বেলায় হঠাৎ র‌্যাবের উপস্থিতি এবং অভিযান দেখে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। অনেকেই ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। তবে র‌্যাবের সদস্যরা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং আটক ব্যক্তিদের নিয়ে ক্যাম্পে চলে যান। স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে এই সড়কটি দিয়ে বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে এবং মাদক পাচারের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে গুঞ্জন ছিল।

র‌্যাব সূত্র আরও জানায়, উদ্ধার করা গাঁজার বাজারমূল্য কয়েক লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা স্বীকার করেছে যে, তারা মাদকগুলো এক জেলা থেকে অন্য জেলায় পাচারের উদ্দেশ্যে বহন করছিল। তবে এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। র‌্যাবের গোয়েন্দা ইউনিট এ বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় কাশিয়ানী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আটক দুই মাদক ব্যবসায়ীকে থানার পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। জব্দ করা মাদক ও মাইক্রোবাসও থানার হেফাজতে রাখা হয়েছে।

কাশিয়ানী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মাহফুজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, র‌্যাবের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আটক ব্যক্তিদের থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি বলেন, “মাদকদ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আগামীকাল তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হবে।” তিনি আরও জানান, তদন্তের স্বার্থে আটক ব্যক্তিদের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হতে পারে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মাদক পাচার বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সামাজিক ও নিরাপত্তাজনিত সমস্যা। সীমান্তবর্তী এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো ব্যবহার করে বিভিন্ন চক্র মাদক পরিবহন করে থাকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযানের ফলে অনেক সময় এই চক্রগুলো ধরা পড়লেও সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, কাশিয়ানীসহ গোপালগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার হওয়ায় সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি পাচ্ছে। তবে তারা মনে করেন, শুধু অভিযান নয়, সামাজিক সচেতনতা এবং যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখার উদ্যোগও জরুরি। পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, মাদকের বিরুদ্ধে তাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে। যেকোনো সময়, যেকোনো স্থানে মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তারা সাধারণ জনগণকে মাদক সংক্রান্ত কোনো তথ্য পেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

এই অভিযানের মাধ্যমে আবারও স্পষ্ট হয়েছে যে, মাদক কারবারিরা নানাভাবে আইন এড়িয়ে চলার চেষ্টা করলেও গোয়েন্দা তৎপরতা ও প্রযুক্তিগত নজরদারির কারণে শেষ পর্যন্ত তারা আইনের আওতায় আসছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এমন অভিযান অব্যাহত থাকলে মাদক ব্যবসায়ীরা নিরুৎসাহিত হবে এবং সমাজ ধীরে ধীরে এই ভয়াবহ ব্যাধি থেকে মুক্তির পথে এগোবে।

সামগ্রিকভাবে, কাশিয়ানীতে বিপুল পরিমাণ গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক হওয়ার ঘটনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা ও দায়িত্বশীলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি শুধু একটি অভিযানের সাফল্য নয়, বরং মাদকবিরোধী লড়াইয়ে রাষ্ট্রের দৃঢ় অবস্থানের প্রতিফলন বলেও মনে করছেন অনেকেই।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত