রামপুরা হত্যাকাণ্ডের রেদোয়ানুলসহ চারজনের বিচার শুরু

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৪ বার
রামপুরা হত্যাকাণ্ড বিচার শুরু

প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জাতীয় ইতিহাসের এক অন্ধকার অধ্যায় হিসেবে পরিচিত রামপুরার হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আজ শুরু হলো লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলামসহ চারজনের বিচার। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে রাজধানীর রামপুরায় ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালীন সময়ে ২৮ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় রেদোয়ানুল ইসলামসহ বিজিবি ও পুলিশ কর্মকর্তা চারজনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়।

আজ মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল বিচার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। বিচার শুরুতে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও সূচনা বক্তব্য গ্রহণের মাধ্যমে প্রক্রিয়া চালু করেছে।

রামপুরা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল ইসলামকে সরাসরি আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালাতে দেখা গিয়েছিল। ওই সময় রাজপথে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ জনগণসহ ছাত্র-জনতা ব্যাপক ঝুঁকিতে পড়ে। চার আসামির মধ্যে রেদোয়ানুল এবং বিজিবির সাবেক কর্মকর্তা মেজর মো. রাফাত বিন আলম গ্রেপ্তার হয়েছেন। অপর দুই আসামি, ডিএমপির খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) মো. রাশেদুল ইসলাম এবং রামপুরা থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মশিউর রহমান পলাতক রয়েছেন।

গত ২৪ ডিসেম্বর আসামিদের অব্যাহতির আবেদন ট্রাইব্যুনাল খারিজ করে আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জ গঠন করা হয়। ৬ ডিসেম্বর ফরমাল চার্জের ওপর শুনানি শেষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম আদালতে অভিযোগপত্র উপস্থাপন করেন। ২২ অক্টোবর সেনা হেফাজতে থাকা রেদোয়ানুল ও রাফাতকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয় এবং গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়।

বিচার শুরুতে আজ দুই গ্রেপ্তার আসামি রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেনের মাধ্যমে নিজের পক্ষের শুনানি দিয়েছেন। অপর আইনজীবী হামিদুল মিসবাহও উপস্থিত ছিলেন। প্রত্যেক আসামি ডিসচার্জের আবেদন করেছেন। ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে, রামপুরার হত্যাকাণ্ডের সময় ব্যবহৃত অস্ত্র, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা ও সংঘটিত সহিংসতার বিস্তারিত প্রমাণাদি আদালতে উপস্থাপন করা হবে।

তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় দেশজুড়ে নানামাত্রার হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়। রামপুরার ঘটনায় শুধু নিহত নয়, আহত হয়েছেন আরও বহু আন্দোলনকারী। এই হত্যাকাণ্ডের নেতৃত্ব দেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল রেদোয়ানুল এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। চার্জ শিটে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তাদের কর্মকাণ্ড ন্যায়বিচার ও মানবিক আচরণের বিরুদ্ধে।

বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন সময়ে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রতিটি সাক্ষ্য, প্রমাণাদি ও ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করবে। তদন্ত কর্মকর্তারা ইতিমধ্যেই নিহতদের পরিবারের সাক্ষাৎ, প্রত্যক্ষদর্শী ও ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন। ট্রাইব্যুনাল আশা করছে, বিচার প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হবে এবং দেশের ইতিহাসে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হবে।

রামপুরা হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের ইতিহাসে হত্যাযজ্ঞের এক অন্ধকার অধ্যায়। আজ থেকে শুরু হওয়া বিচার প্রক্রিয়া কেবল শাস্তি নিশ্চিত করবে না, বরং ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ ও নিরাপত্তা বাহিনীর দায়িত্বশীলতা ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করার একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত