প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৫ । নিজস্ব সংবাদদাতা । একটি বাংলাদেশ অনলাইন
গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪ এর বর্ষপূর্তি উপলক্ষে দেশের সব মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘২৪-এর রঙে’ শিরোনামে গ্রাফিতি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। এই কর্মসূচিকে সফল করতে বিভাগীয়, জেলা, উপজেলা এবং মহানগর পর্যায়ে সাত সদস্যবিশিষ্ট বাস্তবায়ন ও মূল্যায়ন কমিটি গঠনের নির্দেশনা দিয়েছে মাউশি।
এ উপলক্ষে গতকাল রবিবার দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একটি প্রজ্ঞাপন পাঠিয়েছে অধিদপ্তর। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষকে এই নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করে দ্রুত কার্যক্রম শুরু করতে বলা হয়েছে।
প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে দেশের সব মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থী। এর মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস, চেতনা ও মূল্যবোধকে শিল্পের মাধ্যমে ধারণ ও উপস্থাপন করার সুযোগ পাবে। চূড়ান্ত পর্বে বিজয়ী প্রতিষ্ঠানসমূহকে জাতীয় পর্যায়ে ৫ লাখ টাকার পুরস্কার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে মাউশি।
চিঠিতে দেওয়া সময়সূচি অনুযায়ী, উপজেলা ও মহানগর পর্যায়ের কমিটিকে আগামী ১৫ থেকে ১৭ জুলাইয়ের মধ্যে প্রতিযোগিতা সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে। এই পর্যায়ে বিজয়ী তিনটি প্রতিষ্ঠানের নাম জেলা কমিটির কাছে পাঠানো হবে।
পরবর্তীতে ১৯ থেকে ২০ জুলাইয়ের মধ্যে জেলা পর্যায়ে প্রতিযোগিতা শেষ করে বিজয়ী প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম বিভাগীয় কমিটির কাছে প্রেরণ করতে হবে। বিভাগীয় পর্যায়ে ২২ থেকে ২৩ জুলাইয়ের মধ্যে প্রতিযোগিতা আয়োজন করে জাতীয় পর্যায়ে পাঠানোর জন্য চূড়ান্ত তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্বাচনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিজয়ীদের নাম ও তাদের শিল্পকর্ম (গ্রাফিতি ও চিত্রাঙ্কন) সরকারি উদ্যোগে পরিচালিত [julyforever.gov.bd] ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।
এ আয়োজনকে আরও উৎসাহব্যঞ্জক ও প্রতিযোগিতামূলক করতে তিন স্তরে পুরস্কারের ব্যবস্থা রেখেছে সরকার। উপজেলা/থানা পর্যায়ে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীরা যথাক্রমে ৭ হাজার, ৫ হাজার ও ৩ হাজার টাকা পুরস্কার পাবেন। জেলা পর্যায়ে এই পুরস্কার যথাক্রমে ১০ হাজার, ৭ হাজার ও ৫ হাজার টাকা।
বিভাগীয় পর্যায়ে থাকছে সবচেয়ে বড় পুরস্কার—প্রথম স্থান ৩ লাখ, দ্বিতীয় স্থান ২ লাখ ও তৃতীয় স্থান ১ লাখ টাকা। শেষপর্যায়ে জাতীয় পর্যায়ে একটি মাধ্যমিক এবং একটি উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নির্বাচিত করে উভয়কে দেওয়া হবে ৫ লাখ টাকা করে পুরস্কার।
শুধু শিক্ষার্থী নয়, প্রতিযোগিতা আয়োজনেও রয়েছে সরকারি বরাদ্দ। উপজেলা পর্যায়ে ৩০ হাজার, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে ৫০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃজনশীলতা ও গণতান্ত্রিক চেতনা বিকাশের পাশাপাশি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি ও তাৎপর্য তুলে ধরা হবে বলে মনে করছেন শিক্ষক ও নীতিনির্ধারকেরা। শিক্ষা ব্যবস্থায় শিল্প ও ঐতিহাসিক অনুরণনের এই সম্মিলন আগামী প্রজন্মকে আরও সচেতন, সংবেদনশীল ও জাতীয় চেতনায় উজ্জীবিত করে তুলবে বলেই ধারণা সংশ্লিষ্ট মহলের।