কাবুলে ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহত ৭, আহত ২০

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৮২ বার
কাবুল বিস্ফোরণ নিহত আহত ঘটনা

প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) এক ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও বিশের বেশি মানুষ। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। বিস্ফোরণটি শহরের তুলনামূলকভাবে নিরাপদ ও বিদেশিদের আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত শার-ই-নাও এলাকায় ঘটে।

তালেবান কর্মকর্তাদের বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে স্থানীয়রা আতঙ্কে নিরাপদ স্থানে ছুটে যান। বিস্ফোরণের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে পড়ে বহু গাড়ি ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যক্ষদর্শী বক্তব্য অনুযায়ী, বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে চারপাশে ধোঁয়া ও ধ্বংসযজ্ঞ ছড়িয়ে পড়ে এবং এ কারণে হতাহতদের উদ্ধার কাজ যথেষ্ট জটিল হয়।

তালেবানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আবদুল মাতিন কানি রয়টার্সকে বলেন, প্রাথমিকভাবে হতাহতদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে বিস্তারিত জানানো হবে। আহতদের মধ্যে অনেকে বর্তমানে কাবুলের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ইতালীয় এনজিও ‘ইমার্জেন্সি’ পরিচালিত একটি স্থানীয় হাসপাতাল থেকে জানানো হয়েছে, বিস্ফোরণের কাছাকাছি তাদের হাসপাতালের কর্মীদের দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। সাতজন আহত হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মারা যান।

এই ঘটনায় কাবুলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুনরায় প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। ২০২১ সালে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর তালেবান ক্ষমতায় আসার পর আফগানিস্তান, বিশেষ করে কাবুলে, বড় ধরনের বিস্ফোরণ কম হলেও আইএস সংশ্লিষ্ট জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো এখনও সক্রিয়। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, সাম্প্রতিক হামলার ঘটনার পেছনে এই জঙ্গিগোষ্ঠীর যোগ থাকতে পারে। চলতি ২০২৫ সালেও আফগানিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক আত্মঘাতী হামলার ঘটনা ঘটেছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণ এত শক্তিশালী ছিল যে তার প্রভাব কয়েকশ মিটার দূরের এলাকায়ও অনুভূত হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর, যার ফলে তাদের জীবন রক্ষা করতে মেডিকেল টিম রাতভর কাজ করেছে। আফগান পুলিশের পাশাপাশি উদ্ধারকার্য পরিচালনায় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরাও অংশগ্রহণ করেছেন।

আফগানিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে বিদেশি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো শার-ই-নাও এলাকায় অবস্থান নিয়ে সতর্ক হয়েছেন। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের বিস্ফোরণ আফগানিস্তানে স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে।

শার-ই-নাও এলাকার স্থানীয় ব্যবসায়ী রাহিমুল্লাহ জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের ধাক্কা এতটাই শক্তিশালী ছিল যে দোকানপাটের জানালা কাঁচের টুকরা ছড়িয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, “আমরা সবাই আতঙ্কিত। বাজারগুলো বন্ধ হয়ে গেছে, মানুষ আতঙ্কে ঘরে আটকানো। আশেপাশের মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরাতে পুলিশ কাজ করছে।”

তালেবানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনী বিস্ফোরণের কারণ তদন্ত করছে। তবে প্রাথমিক অনুমান অনুসারে এটি একটি বোমা বিস্ফোরণ, যা পরিকল্পিতভাবে নগরের কেন্দ্রীয় এলাকায় ঘটানো হয়েছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি হামলার পেছনের দায়ীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে।

আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংকট এবং জঙ্গি হামলার ইতিহাস বিবেচনা করলে, এই বিস্ফোরণ দেশটির স্থিতিশীলতা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য বড় উদ্বেগ তৈরি করেছে। স্থানীয়দের উদ্বেগের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে এবং আফগান সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনীকে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, কাবুলের মতো শহরে এই ধরনের বিস্ফোরণ শুধুমাত্র সাময়িক আতঙ্ক নয়, বরং দেশের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্যও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। তারা সতর্ক করেছেন, আফগানিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অপরিহার্য।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত