ভাঙা হাতে ফোডেন, তবু চ্যাম্পিয়নস লিগে নামার প্রস্তুতি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৫ বার
ভাঙা হাতে ফোডেন, তবু চ্যাম্পিয়নস লিগে নামার প্রস্তুতি

প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

হাতে হাড়ে চিড়, তবু মাঠের বাইরে নয়—চ্যাম্পিয়নস লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে খেলতে প্রস্তুত ম্যানচেস্টার সিটির মিডফিল্ডার ফিল ফোডেন। ইংল্যান্ডের এই তারকা ফুটবলারকে দলে রেখেই নরওয়ের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা। মঙ্গলবার নর্দার্ন নরওয়ের ক্লাব বুদো/গ্লিম্টের বিপক্ষে ইউরোপীয় লড়াইয়ে মাঠে নামার আগে ফোডেনের চোট নিয়ে যে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল, সেটি অনেকটাই দূর করেছেন স্বয়ং সিটি কোচ।

গত শনিবার ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ম্যানচেস্টার ডার্বিতে ইউনাইটেডের কাছে ২–০ গোলে হারে সিটি। সেই ম্যাচের প্রথমার্ধের শেষদিকে একটি ডুয়েলে অস্বাভাবিকভাবে হাতে ভর পড়ে চোট পান ফোডেন। বিরতির পর আর মাঠে নামেননি তিনি। ম্যাচ শেষে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—ইনজুরিটি কতটা গুরুতর, সামনে চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে তাকে পাওয়া যাবে কি না।

ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে পেপ গার্দিওলা জানান, ফোডেনের হাতে হালকা ফাটল বা চিড় ধরেছে। তবে এটি এমন কোনো চোট নয়, যার কারণে তাকে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হবে। গার্দিওলার কথায়, ‘তার হাতে একটু সমস্যা আছে, কিন্তু সে সুরক্ষা নিয়ে খেলছে। মেডিক্যাল স্টাফরা বিষয়টি দেখেছে, এবং চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচে সে খেলার মতো অবস্থায় আছে।’ এই বক্তব্যেই স্পষ্ট হয়ে যায়, সিটির গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে ফোডেনকে মাঠে দেখার সম্ভাবনা বেশ জোরালো।

চোট নিয়েও ফোডেনের দলে থাকা কেবল একটি ব্যক্তিগত সাহসিকতার গল্প নয়, বরং এটি সিটির বর্তমান বাস্তবতার প্রতিফলন। প্রিমিয়ার লিগে ছন্দ হারানো দলটি ইউরোপে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে মরিয়া। লিগে টানা চার ম্যাচ জিততে না পারায় শীর্ষে থাকা আর্সেনালের সঙ্গে ব্যবধান বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাত পয়েন্টে। ম্যানচেস্টার ডার্বির হার সিটির আত্মবিশ্বাসে ধাক্কা দিলেও গার্দিওলা চাইছেন এই হতাশা পেছনে ফেলে চ্যাম্পিয়নস লিগে পুরো মনোযোগ দিতে।

গার্দিওলা স্পষ্ট করেই জানিয়ে দিয়েছেন, লিগের হতাশা আপাতত ইউরোপের মঞ্চে টেনে আনা হবে না। তাঁর ভাষায়, ‘নরওয়ে আসার পুরো পথে আমরা ইউনাইটেড ম্যাচ নিয়ে একটি কথাও বলিনি। সেটার সময় আসবে উলভসের বিপক্ষে ম্যাচের আগে। এখন আমাদের সামনে ভিন্ন প্রতিযোগিতা, ভিন্ন চ্যালেঞ্জ। লক্ষ্য একটাই—লিগ পর্বে সেরা আটে থাকা নিশ্চিত করা।’

এই ম্যাচে ফোডেনের পাশাপাশি আলোচনায় আছেন আরেক তারকা আর্লিং হলান্ড। সাম্প্রতিক সময়ে গোলখরায় ভুগছেন নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার। শেষ সাত ম্যাচে ওপেন প্লে থেকে কোনো গোল পাননি তিনি। তবু নিজ দেশের ক্লাব বুদো/গ্লিম্টের বিপক্ষে ম্যাচে তাকে বিশ্রাম দেওয়ার কোনো ইঙ্গিত দেননি গার্দিওলা। বরং তিনি জানিয়েছেন, হলান্ড মানসিকভাবে প্রস্তুত এবং এই ম্যাচেই নিজের গোলখরা কাটাতে চান।

হালান্ডের জন্য এই ম্যাচটি আবেগেরও। নরওয়েতে ফিরে নিজের দেশের দর্শকদের সামনে খেলার সুযোগ পাচ্ছেন তিনি। গার্দিওলার মতে, কখনো কখনো এমন পরিবেশ একজন স্ট্রাইকারকে বাড়তি অনুপ্রেরণা দেয়। গোল না পেলেও হালান্ড যে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন, সেটি বারবার তুলে ধরছেন সিটি কোচ।

বুদো/গ্লিম্টের বিপক্ষে ম্যাচটি সিটির জন্য সহজ হবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। নর্দার্ন নরওয়ের এই ক্লাবটি নিজেদের ঘরের মাঠে বেশ শক্তিশালী। তীব্র ঠান্ডা আবহাওয়া, কৃত্রিম টার্ফ এবং ছোট স্টেডিয়ামের পরিবেশ—সব মিলিয়ে অতিথি দলের জন্য পরিস্থিতি অস্বস্তিকর হতে পারে। এই বাস্তবতা মাথায় রেখেই প্রস্তুতিতে ভিন্ন কৌশল নিয়েছেন গার্দিওলা।

সাধারণত ইউরোপের অ্যাওয়ে ম্যাচের আগে ম্যানচেস্টারেই অনুশীলন করে সিটি। তবে এবার সেই রুটিন ভেঙে সরাসরি ম্যাচ ভেন্যু অ্যাসপমিরা স্টেডিয়ামেই অনুশীলন করিয়েছেন তিনি। আট হাজার পাঁচশো দর্শক ধারণক্ষমতার এই স্টেডিয়ামে অনুশীলনের উদ্দেশ্য ছিল খেলোয়াড়দের মাঠের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া।

গার্দিওলা এ বিষয়ে বলেন, ‘ম্যানচেস্টারে আসার পর এই প্রথম আমরা ম্যাচের আগের দিন স্টেডিয়ামে অনুশীলন করালাম। এখানে কৃত্রিম ঘাস, বলের বাউন্স আলাদা, ছোট পাস-লম্বা পাস—সবকিছুই ভিন্ন। খেলোয়াড়দের এগুলো নিজের চোখে দেখা দরকার। জীবন সব সময় লাল গালিচার মতো হয় না। যত দ্রুত অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে, তত দ্রুত সাফল্যের কাছে পৌঁছাবে।’

এই বক্তব্যে গার্দিওলার দর্শনই ফুটে ওঠে। প্রতিকূলতাকে ভয় না পেয়ে সেটিকেই শেখার সুযোগ হিসেবে নেওয়া—এই মানসিকতা সিটির খেলোয়াড়দের মধ্যেও সঞ্চার করতে চান তিনি। ফোডেনের ভাঙা হাত নিয়েও মাঠে নামার মানসিক প্রস্তুতি যেন সেই দর্শনেরই প্রতিচ্ছবি।

ফিল ফোডেন নিজেও এই ম্যাচকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। দলের কঠিন সময়ে মাঠের বাইরে বসে থাকা তাঁর জন্য সহজ নয়। তরুণ বয়স থেকেই সিটির হয়ে বড় ম্যাচে দায়িত্ব নেওয়ার অভ্যাস তাঁর আছে। চোট সত্ত্বেও খেলতে প্রস্তুত থাকা তাঁর পেশাদার মানসিকতার পরিচয় দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সব মিলিয়ে, বুদো/গ্লিম্টের বিপক্ষে এই ম্যাচটি ম্যানচেস্টার সিটির জন্য শুধু তিন পয়েন্ট বা একটি জয় নয়, বরং আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার লড়াই। ভাঙা হাত নিয়ে ফোডেনের মাঠে নামার সম্ভাবনা, গোলখরা কাটাতে মরিয়া হলান্ডের প্রত্যাবর্তন এবং গার্দিওলার কৌশলী প্রস্তুতি—সবকিছু মিলিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের এই রাতটি হতে যাচ্ছে বিশেষ নজরকাড়া।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত