প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আগের মতো নির্বাচনের দিনগুলোতে ভোটকে পাতানো বা প্রভাবিত হতে দেওয়া হবে না। এবারের নির্বাচন হবে ১৯৯১ সালের মতো সুষ্ঠু এবং জনগণের স্বাধীন ইচ্ছার প্রতিফলন। তাঁর এ বক্তব্য প্রকাশিত হলো জাতীয় নাগরিক পার্টির চার সদস্যের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের বৈঠকের পরে।
নাহিদ বলেন, “নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা যদি বজায় না থাকে, প্রয়োজনে আমরা কমিশনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে বাধ্য হব। তবে আমরা চাইনা যে মুখোমুখি সংঘাত হোক। আমাদের লক্ষ্য শুধু জনগণের সঠিক ভোটাধিকার নিশ্চিত করা।” তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, “তরিক রহমান বলেছেন, ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’। স্বাধীন প্রতিষ্ঠান ইসিকে কীভাবে প্রভাবিত করা সম্ভব? এটা কি তারেক রহমানের পরিকল্পনার অংশ?” এই মন্তব্যে তিনি ইসির স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার ওপর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
তিনি যোগ করেন, “আগের নির্বাচনের অভিজ্ঞতা আমাদের শিক্ষা দিয়েছে। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে মানুষ ভোট দিতে পারেনি। কারণ ছিল নির্বাচন কমিশনের দলীয়করণ। এবার সেই পরিস্থিতি থাকবে না। আমরা চাই একটি সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ ভোট, যা সত্যিকারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করবে।” নাহিদ ইসলাম নির্বাচনের সুষ্ঠু আয়োজনের জন্য রাজনৈতিক দলের দায়িত্বকেও গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, “সুন্দর ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে আমাদের প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব রয়েছে। আমরা চাই সবাই দায়িত্বশীল আচরণ করুক। তবে, রাজনৈতিক দলের হিসেবে বিএনপির পক্ষ থেকে আমরা সেই দায়িত্বশীল আচরণ পাচ্ছি না।”
এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এই প্রেক্ষাপটে বলেছেন, “মাঠ পর্যায়ে নির্বাচন কমিশনের কিছু একপাক্ষিক আচরণ লক্ষ্য করা গেছে। এটি সুষ্ঠু নির্বাচনের ক্ষেত্রে বড় বাধা। আমরা উদ্বিগ্ন যে কমিশন কতটা নিরপেক্ষভাবে ভোট পরিচালনা করতে পারবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, নাহিদ ইসলাম ও নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারীকে শোকজ করা হয়েছে। “যে কারণ দেখানো হয়েছে তা ছিল গণভোটের প্রচারণা। পক্ষপাতদুষ্টভাবে করা হয়েছে। দ্রুত সময়ে শোকজ প্রত্যাহার করা উচিত,” বলেন তিনি।
নাহিদ ইসলামের এই বক্তব্য রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং নির্বাচনের আগমনের প্রেক্ষিতে ভোটের স্বচ্ছতা এবং ভোটাধিকার রক্ষার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত না হলে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও জনমনে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক নেতাদের সচেতন ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, “এবার আমরা চাই নির্বাচন হবে জনগণের স্বাধীন ইচ্ছার প্রতিফলন। কোনো প্রকার প্রভাব বা ভীতি সৃষ্টি করার চেষ্টা সফল হবে না। আমরা আমাদের লক্ষ্য স্পষ্ট করেছি। ভোটের দিন প্রতিটি নাগরিকের অধিকার রক্ষার জন্য আমরা মাঠে উপস্থিত থাকবো।”
নাহিদ ইসলামের ভাষণে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করা যায়। ১৯৯১ সালের নির্বাচন দেশের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে সুষ্ঠু ভোটের মাধ্যমে গনতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সঙ্গে বর্তমান নির্বাচনকে তিনি তুলনা করেছেন। তাঁর বক্তব্যে প্রতীয়মান হয়, রাজনৈতিক দল হিসেবে জনগণের অধিকার রক্ষা এবং সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করার জন্য এনসিপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এনসিপির পক্ষ থেকে নেতৃবৃন্দ নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি কমিশনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার প্রতি নজর রাখতে আহ্বান জানিয়েছেন। নাহিদ ইসলাম ও দলের অন্যান্য নেতা এই প্রক্রিয়ায় দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে পারলে দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীলতা, কমিশনের স্বচ্ছতা এবং জনগণের সচেতন অংশগ্রহণ মিলিয়ে নির্বাচনের প্রকৃত ফলাফল নির্ধারিত হবে। নাহিদ ইসলামের বক্তব্যে স্পষ্ট যে, এই নির্বাচন শুধু একটি রাজনৈতিক ইভেন্ট নয়, এটি দেশের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
নির্বাচন কমিশনকে নিয়ে বর্তমান রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং অংশীদারদের উদ্বেগ সত্ত্বেও নাহিদ ইসলাম তার দলের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেছেন যে, কমিশন সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে দেশ সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ ভোট পাবে। কিন্তু যদি কমিশনের আচরণ পক্ষপাতদুষ্ট হয়, তবে রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে মাঠে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এনসিপি নেতা বলেন, “আমরা চাই নির্বাচনে জনগণের ভোটের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকুক। নির্বাচনের পরিবেশ নিরাপদ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ হতে হবে। কোন প্রকার ভীতি, প্রভাব বা পক্ষপাত ভোটকে প্রভাবিত করতে পারবে না। আমাদের লক্ষ্য দেশের গনতন্ত্রকে রক্ষা করা।”
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নাহিদ আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য ভোটের দিন এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে প্রতিটি নাগরিক নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবে। কোনো প্রকার প্রভাব, ভীতি বা ধমক ভোটের প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারবে না। আমরা সেই দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত।”
সারসংক্ষেপে, নাহিদ ইসলামের মন্তব্য দেশব্যাপী রাজনৈতিক পরিবেশে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার প্রতি নজর দিচ্ছে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, এইবারের নির্বাচন ১৯৯১ সালের মতো হবে, যেখানে জনগণের স্বাধীন ভোটাধিকার অক্ষুণ্ণ থাকবে। দেশের গনতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এনসিপি সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবে।