চুয়াডাঙ্গায় পরিত্যক্ত কোয়ার্টারে যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৭৭ বার
চুয়াডাঙ্গায় পরিত্যক্ত কোয়ার্টারে যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

চুয়াডাঙ্গা সদরে পরিত্যক্ত একটি সরকারি কোয়ার্টার থেকে সাগর আলি (৪৯) নামের এক যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারকে ঘিরে এলাকাজুড়ে চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার ২০ জানুয়ারি দুপুরে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার একাডেমি মোড়ে বিদ্যুৎ বিভাগের পরিত্যক্ত কোয়ার্টারের ভেতর থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। প্রাথমিকভাবে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা না গেলেও, পুলিশ জানিয়েছে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই বিষয়টি স্পষ্ট হবে।

নিহত সাগর আলি কুষ্টিয়া জেলার আইলচারা গ্রামের আনোয়ার খানের ছেলে। পরিবার ও এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যায় জর্জরিত ছিলেন এবং মাঝে মধ্যে চুয়াডাঙ্গা এলাকায় অবস্থান করতেন। তবে ঠিক কী কারণে তিনি বিদ্যুৎ বিভাগের পরিত্যক্ত ওই কোয়ার্টারে ছিলেন এবং সেখানে তার মৃত্যু কীভাবে হলো—সে প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল থেকেই একাডেমি মোড় এলাকায় অস্বাভাবিক দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়তে থাকে। পথচারী ও আশপাশের দোকানিরা প্রথমে বিষয়টি তেমন গুরুত্ব না দিলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দুর্গন্ধ তীব্র আকার ধারণ করে। তখন অনেকেই ধারণা করেন, কোথাও কোনো পশুর মৃত্যু হয়েছে। পরে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বিদ্যুৎ বিভাগের বহুদিন ধরে পরিত্যক্ত পড়ে থাকা কোয়ার্টারের দিকে গেলে ভেতর থেকে দুর্গন্ধ আসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন।

খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার একটি পুলিশ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। কোয়ার্টারের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে পুলিশ সাগর আলির অর্ধগলিত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে। দীর্ঘ সময় ধরে মরদেহটি সেখানে পড়ে থাকায় শরীরের বিভিন্ন অংশ পচে গেছে বলে পুলিশ জানায়। ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে তদন্ত শুরু করে পুলিশ এবং আশপাশের এলাকায় মানুষের ভিড় জমে যায়।

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কয়েক দিন আগেই ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তিনি বলেন, “ময়নাতদন্তের পর রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। আপাতত কোনো কিছু নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।”

ওসি মিজানুর রহমান আরও জানান, নিহত ব্যক্তি মাদকাসক্ত ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে মাদক সেবনের কারণে স্বাভাবিক মৃত্যু নাকি অন্য কোনো কারণে তার মৃত্যু হয়েছে, সেটি এখনই বলা সম্ভব নয়। পুলিশ সব দিক বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টি তদন্ত করছে। ঘটনাস্থলে কোনো আলামত পাওয়া গেছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে।

এলাকাবাসীরা জানান, বিদ্যুৎ বিভাগের ওই কোয়ার্টারটি দীর্ঘদিন ধরেই পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সেখানে মাঝেমধ্যে ভবঘুরে মানুষ বা মাদকসেবীরা আশ্রয় নিত বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকার কারণে কোয়ার্টারটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল এবং এমন একটি দুর্ঘটনা যে কোনো সময় ঘটতে পারত। তারা এ ধরনের পরিত্যক্ত সরকারি ভবন দ্রুত ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার দাবি জানান।

নিহতের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তার পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরিবারের সদস্যরা চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে এসে মরদেহ শনাক্ত করেন। স্বজনদের চোখে-মুখে তখন ছিল গভীর শোক আর বিস্ময়। তারা জানান, সাগর আলি মাঝেমধ্যে বাড়ির বাইরে থাকতেন এবং কয়েক দিন ধরে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। তবে এমন করুণ পরিণতির কথা তারা কল্পনাও করেননি।

এ ঘটনার পর চুয়াডাঙ্গা শহরে নিরাপত্তা ও সামাজিক অবক্ষয় নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, মাদকাসক্তি ও ভবঘুরে জীবনের কারণে সমাজের একটি অংশ নীরবে ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ আবার দাবি করছেন, পরিত্যক্ত ভবনগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হলে এ ধরনের মৃত্যু ও অপরাধ অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, শুধুমাত্র ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষায় থাকাই যথেষ্ট নয়; বরং এমন পরিত্যক্ত স্থাপনার ব্যবহার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো মানুষ এভাবে নিঃসঙ্গ ও অজ্ঞাত অবস্থায় মৃত্যুবরণ না করে।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মরদেহের ময়নাতদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর রিপোর্ট পুলিশের কাছে পাঠানো হবে। এরপর আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পুলিশ জানিয়েছে, যদি ময়নাতদন্তে কোনো অস্বাভাবিক মৃত্যুর আলামত পাওয়া যায়, তবে মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হবে এবং তদন্ত জোরদার করা হবে।

এই ঘটনাটি শুধু একটি মৃত্যুর সংবাদ নয়, বরং সমাজের একটি বাস্তব চিত্রও তুলে ধরেছে। পরিত্যক্ত ভবন, মাদকাসক্তি, সামাজিক অবহেলা—সবকিছু মিলিয়ে এমন ঘটনা আমাদের ভাবিয়ে তোলে। একজন মানুষের মৃত্যু কতটা নীরবে, কতটা অগোচরে ঘটে যেতে পারে, চুয়াডাঙ্গার এই ঘটনাই তার প্রমাণ।

সবশেষে বলা যায়, চুয়াডাঙ্গায় সাগর আলির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাটি এলাকায় গভীর শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ ও নিহতের পরিবার। সেই রিপোর্টই নির্ধারণ করবে, এটি নিছক একটি স্বাভাবিক মৃত্যু, নাকি এর পেছনে লুকিয়ে আছে অন্য কোনো রহস্য।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত