সিলেট-২ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাহার, জোটের ঐক্য জোরালো

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২১ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৪৯ বার
সিলেট-২ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাহার

প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

সিলেট-২ (ওসমানীনগর–বিশ্বনাথ) আসনের নির্বাচনি রাজনীতিতে নতুন মোড় নিয়েছে মনোনয়ন প্রত্যাহারের ঘটনায়। জোটগত সমঝোতার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল হান্নান এবং গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী জামান আহমদ সিদ্দিকী তাদের নিজ নিজ মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করেন। এই প্রত্যাহারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা যেমন চলছে, তেমনি জোটের ভেতরে ঐক্য আরও দৃঢ় হয়েছে বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা।

জানা গেছে, সিলেট-২ আসনে বিরোধী জোটগুলোর মধ্যে আসনভিত্তিক সমঝোতার অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অধ্যাপক আব্দুল হান্নান খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মোহাম্মদ মুনতাসির আলীর প্রতি সমর্থন জানিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। অন্যদিকে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী জামান আহমদ সিদ্দিকী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর লুনাকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। জোট নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভোট বিভাজন রোধ এবং শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলাই ছিল এই সমঝোতার মূল উদ্দেশ্য।

মনোনয়ন প্রত্যাহারের বিষয়ে উপজেলা জামায়াতের আমির মো. ছোহরাব আলী বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত এবং বৃহত্তর জোটের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েই তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। তাঁর মতে, নির্বাচনে জয়লাভের চেয়ে জোটের ঐক্য ও দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক লক্ষ্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, এখন থেকে জামায়াতের নেতা-কর্মীরা জোটের শরিক প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত করতে মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করবেন। এই বক্তব্য স্থানীয় পর্যায়ে জোটের কর্মীদের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

সিলেট-২ আসনে এবারে মোট ৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবরার ইলিয়াস ও আব্দুস শহীদের মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করা হয়। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী আপিলের সুযোগ থাকলেও তারা কেউই আপিল করেননি। ফলে শুরুতেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার তালিকা কিছুটা ছোট হয়ে আসে। এরপর জোটগত সিদ্ধান্তে দুই প্রার্থীর মনোনয়ন প্রত্যাহারের ফলে নির্বাচনি মাঠ আরও সংক্ষিপ্ত ও প্রতিযোগিতামূলক রূপ পেয়েছে।

২০ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর সিলেট-২ আসনে শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকছেন মোট পাঁচজন প্রার্থী। তারা হলেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর লুনা, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মোহাম্মদ মুনতাসির আলী, জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাহবুবুর রহমান চৌধুরী, গণফোরামের প্রার্থী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মুজিবুল হক এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা আমির উদ্দিন। এই পাঁচ প্রার্থীর ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান ও ভোটব্যাংক থাকায় নির্বাচনি লড়াই যে বেশ জমজমাট হতে যাচ্ছে, তা স্পষ্ট।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিলেট-২ আসন ঐতিহাসিকভাবেই একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন। এখানে ধর্মভিত্তিক দল, জাতীয় দল ও আঞ্চলিক রাজনীতির প্রভাব সমানতালে বিদ্যমান। ফলে ভোটের হিসাব-নিকাশও তুলনামূলকভাবে জটিল। জোটের ভেতরে সমঝোতার মাধ্যমে প্রার্থী সংখ্যা কমে আসায় ভোট বিভাজন কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা নির্দিষ্ট কিছু প্রার্থীর জন্য সুবিধাজনক হতে পারে।

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর লুনার প্রতি গণঅধিকার পরিষদের সমর্থন এই আসনে বিএনপির অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে পারে বলে মনে করছেন দলটির স্থানীয় নেতারা। তারা বলছেন, গণঅধিকার পরিষদের একটি অংশের ভোট বিএনপির পক্ষে আসলে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ভারসাম্য বদলে যেতে পারে। অন্যদিকে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মোহাম্মদ মুনতাসির আলীর প্রতি জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন ধর্মভিত্তিক ভোটব্যাংককে একত্রিত করতে সহায়ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে জাতীয় পার্টি, গণফোরাম ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরাও নির্বাচনি মাঠে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে তৎপর। তারা প্রত্যেকে নিজ নিজ রাজনৈতিক দর্শন ও কর্মসূচি তুলে ধরে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। বিশেষ করে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা আমির উদ্দিন ধর্মপ্রাণ ভোটারদের সমর্থন পেতে জোর প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

জোট নেতারা মনে করছেন, এই মনোনয়ন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত শুধু তাৎক্ষণিক নির্বাচনি কৌশল নয়, বরং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সহযোগিতার একটি ভিত্তি তৈরি করবে। তাদের মতে, পারস্পরিক আস্থা ও ছাড় দেওয়ার মানসিকতা না থাকলে জোট রাজনীতি টেকসই হয় না। সিলেট-২ আসনে এই সমঝোতা জোটের ভেতরে সেই আস্থারই প্রতিফলন।

স্থানীয় ভোটারদের মধ্যেও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ মনে করছেন, প্রার্থী কমে যাওয়ায় ভোটারদের সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে। আবার কেউ বলছেন, জোটের হিসাব-নিকাশের কারণে সাধারণ ভোটারদের পছন্দ সীমিত হয়ে যাচ্ছে। তবুও অধিকাংশ ভোটারের প্রত্যাশা, প্রতিদ্বন্দ্বিতা যাই হোক না কেন, নির্বাচন যেন শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য হয়।

সব মিলিয়ে, সিলেট-২ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাহারের ঘটনাটি নির্বাচনি রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যোগ করেছে। জোটের ভেতরে ঐক্য সুদৃঢ় হওয়ার পাশাপাশি নির্বাচনি মাঠে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই সমঝোতার বাস্তব প্রভাব ভোটের ফলাফলে কতটা প্রতিফলিত হয় এবং শেষ পর্যন্ত কোন প্রার্থী ভোটারদের আস্থা অর্জনে সফল হন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত