শিবির নেতার উস্কানিমূলক বক্তব্যে উত্তেজনা: জবি

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২১ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৫ বার
জবি শিবির উস্কানিমূলক বক্তব্য

প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদল শিবিরের এক দায়িত্বশীল নেতার উস্কানিমূলক বক্তব্যকে ফ্যাসিস্ট আচরণের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করেছে। শাখা ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মোজাম্মেল মামুন ডেনির স্বাক্ষরে প্রকাশিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক ইব্রাহীম খলিলের উসকানিমূলক বক্তব্য শিক্ষার্থী সমাজকে বিভ্রান্ত করার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্য নিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের দায়িত্বহীন মন্তব্য গণতান্ত্রিক মানসিকতার পরিপন্থী এবং দেশের রাজনৈতিক পরিবেশের জন্য এক ভয়ঙ্কর উদাহরণ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, শিবিরের ওই নেতা আগামী ২২ জানুয়ারি সিলেটে বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের সমাবেশ বন্ধ করার উদ্দেশ্যে রেলপথ, সড়কপথ ও জলপথ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। এ ধরনের আহ্বান দেওয়া শিক্ষার্থী সমাজের মধ্যে অশান্তি সৃষ্টি এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশের ওপর হুমকি স্বরূপ। জবি ছাত্রদল এই ধরনের অসংযত এবং উগ্র রাজনৈতিক আচরণকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিরোধী মত দমনে সড়কপথ, রেলপথ ও নৌপথ বন্ধ করা ছিল ফ্যাসিস্ট সরকারের রাজনৈতিক সংস্কৃতি। শিবিরের নেতা এই ধরনের আহ্বান দিয়ে সেই আচরণের চেয়েও এগিয়ে গেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এই উস্কানিমূলক বক্তব্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে বিপন্ন করছে। গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী এই ধরনের রাজনীতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

সংগঠনটি জানিয়েছে, শিবিরের নেতা দায়িত্বশীল পদে থাকা সত্ত্বেও অসহিষ্ণু ও ফ্যাসিস্ট মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ করেছেন। এই আচরণ শিক্ষার্থীদের জন্য লজ্জাজনক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানকে ক্ষুণ্ণ করছে। জবি ছাত্রদল মনে করিয়ে দিয়েছে, বিগত ফ্যাসিবাদের শাসনামলে একটি গোষ্ঠী বাহিনী ক্যাম্পাসে গোষ্ঠী রাজনীতির মাধ্যমে সমমনা সংগঠন ছাত্রলীগের পক্ষে কাজ করত এবং বিরোধী মতের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালাত। সেই অসহিষ্ণু ও উগ্র রাজনীতির ধারাবাহিকতায় এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক ও সহাবস্থানের পরিবেশকে নস্যাৎ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ৫ আগস্ট পরবর্তী বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী ভাষা ও হুমকির রাজনীতি চর্চা করা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার সমতুল্য। শিবিরের এ ধরনের প্রচেষ্টা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাবান্ধব পরিবেশের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করছে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সুস্থ, শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ রক্ষায় এটি এক বড় হুমকি হিসেবে দেখা যাচ্ছে।

জবি ছাত্রদল দাবি করেছে, শিবিরের উস্কানিমূলক বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহার করা এবং নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করা উচিত। পাশাপাশি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সমাজকে এই ধরনের উগ্র আচরণ থেকে রক্ষা করতে দায়িত্বশীল পদে থাকা সকলের সতর্কতা প্রয়োজন। যদি প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করে, তবে উদ্ভূত পরিস্থিতির সম্পূর্ণ দায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকেই বহন করতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীরা শান্তিপূর্ণভাবে শিক্ষাজীবন পরিচালনা করতে এবং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সহাবস্থান বজায় রাখতে চান। উস্কানিমূলক বক্তব্য এবং ক্যাম্পাসে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা শিক্ষার্থীদের অধিকার ও স্বাধীনতাকে হুমকির মুখে ফেলছে। দায়িত্বশীল পদে থাকা নেতাদের আচরণ শিক্ষার্থী সমাজের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে এবং আগামী প্রজন্মের শিক্ষার্থী সংস্কৃতিকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে।

জবি ছাত্রদল আশ্বস্ত করেছে যে, তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক পরিবেশ রক্ষায় প্রতিনিয়ত সচেষ্ট থাকবে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহাবস্থানের পরিবেশ বজায় রাখতে সকল প্রয়াস অব্যাহত রাখবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেও এই ধরনের উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার এবং ক্যাম্পাসে শান্তি বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংগঠনটি মনে করিয়ে দিয়েছে, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সহাবস্থান ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি নিশ্চিত করা এখন সময়ের অতি জরুরি প্রয়োজন। যদি প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করে, তবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। জবি ছাত্রদল এরূপ পরিস্থিতিতে দায়িত্বশীল পদে থাকা সকলকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

শাখা ছাত্রদলের প্রেস বিজ্ঞপ্তি থেকে স্পষ্ট হয়ে যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা ও সহাবস্থানের পরিবেশকে রক্ষা করা তাদের প্রধান লক্ষ্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ ও শিক্ষণমুখী পরিবেশে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার মাধ্যমে যে ধরনের অশান্তি সৃষ্টি হচ্ছে, তা শিক্ষার্থীদের অধিকার ও নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক। সংগঠনটি শিক্ষার্থী সমাজকে এই ধরনের উগ্র আচরণ থেকে রক্ষা করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে এবং প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য জোর দাবি জানিয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত