জাপানের আগ্নেয়গিরির কাছে হেলিকপ্টার নিখোঁজ, উদ্ধার অভিযান তৎপর

একটি বাংলাদেশ অনলাইন
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২১ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫৪ বার
জাপানে আগ্নেয়গিরির কাছে হেলিকপ্টার নিখোঁজ

প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৬ । একটি বাংলাদেশ ডেস্ক । একটি বাংলাদেশ অনলাইন।

জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত বিখ্যাত আগ্নেয়গিরি মাউন্ট আসো-র কাছে একটি পর্যটকভর্তি হেলিকপ্টার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় অজানা উত্তেজনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৫২ মিনিটে কুমামোতো প্রদেশের আসো শহরের একটি চিড়িয়াখানা থেকে হেলিকপ্টারটি উড্ডয়ন করে, কিন্তু নির্ধারিত সময়ের পরেও সেটি কোনো যোগাযোগ করছিল না এবং ফিরে আসেনি। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে এবং জাপানি কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন সংস্থা তৎক্ষণাত উদ্ধার ও অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করেছে।

হেলিকপ্টারটিতে মোট তিনজন আরোহী ছিলেন। এতে ছিলেন একজন অভিজ্ঞ জাপানি পাইলট, যিনি প্রায় ৪০ বছরের উড্ডয়ন অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন, এবং দুইজন তাইওয়ানিজ পর্যটক — একজন পুরুষ ও একজন নারী। এই হেলিকপ্টারটি রবিনসন R44 মডেলের একটি আমেরিকা নির্মিত পর্যটন উড়োজাহাজ ছিল, যা মাউন্ট আসো ও এর আশেপাশের দৃশ্য উপভোগের জন্য ছোট্ট সার্কিট হিসেবে পরিচালিত হত। উড্ডয়নের ঠিক ১০ মিনিট পর হেলিকপ্টারটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং নির্ধারিত রুটে এটি আর ফিরে আসেনি।

মাউন্ট আসো শুধুমাত্র একটি পর্যটন আকর্ষণই নয়, এটি মানচিত্রে অন্যতম সক্রিয় আগ্নেয়গিরি হিসেবে সুপরিচিত। এর গর্ত এবং ক্রেটার এলাকায় ভ্রমণের জন্য হেলিকপ্টার প্যাকেজগুলো জনপ্রিয়, তবে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশও সৃষ্টি করে। ওইদিন সকালেও মাউন্ট আসো অঞ্চলে মেঘলা আবহাওয়া বিরাজ করছিল, যা দৃশ্যমানতাকে কমিয়ে দিয়েছিল। এটি পরে উদ্ধার কার্যক্রমকে আরও কঠিন করে তোলে।

বিকেল ৪টার দিকে স্থানীয় পুলিশ ও উদ্ধার বাহিনী হেলিকপ্টারের কাছাকাছি একটি ধ্বংসাবশেষ লক্ষ্য করে যা উড়োজাহাজের মতো দেখায়। এটি হয়তো নিখোঁজ হওয়া হেলিকপ্টারটির অবশিষ্টাংশ, তবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। উদ্ধার কার্যক্রমকে আরও কঠিন করে তুলেছে খাড়া পাহাড়, ক্রেটারের জটিল ভূপ্রকৃতি, এবং আগ্নেয়গিরির কাছাকাছি এলাকা হওয়ায় ধোঁয়া ও গ্যাসের উপস্থিতি।

এই সংকট মুহূর্তে জাপানি স্থানীয় প্রশাসন ও সমন্বিত উদ্ধার দল আন্তর্জাতিক সহায়তা ও সহমর্মিতার সঙ্গে কাজ করছে। তাইওয়ান সরকারের কর্মকর্তারা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে যাত্রীর অবস্থার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও সহায়তা প্রদান করছে। তবে এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ থাকা তিনজনের জীবনের নিরাপত্তা বা দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

জাপানের উদ্ধার দল, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং এয়ার ডিফেন্স ফোর্স মিলিয়ে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। তবে খারাপ আবহাওয়া, ক্রেটার এলাকায় ধোঁয়া ও গ্যাসের মাত্রা এবং খাড়া ভূপ্রকৃতি অনেক ক্ষেত্রেই তাদের কার্যক্রমকে কঠিন করে তুলেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে আবহাওয়া ও গ্যাস পরিস্থিতি উন্নত হলে উদ্ধার অভিযান পুনরায় শুরু করা হবে এবং সম্ভাব্য টুকরো শনাক্ত করে যাত্রীদের নিরাপদে উদ্ধার করার পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

বিশ্বব্যাপী পর্যটকরা মাউন্ট আসোর মতো আকর্ষণীয় কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণ পর্যটন সাইটের প্রতি আগ্রহী থাকলেও এই ধরনের দুর্ঘটনা নিরাপত্তা ও আবহাওয়া পরিস্থিতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার গুরুত্ব পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক পর্যটন সম্প্রদায়কে শোকিত করেছে।

জাপানের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও উদ্ধার দল সবধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে—বিপর্যয়ের পরবর্তী বিকাশ কী হবে তা এখনও অনিশ্চিত, তবে সরকারের পক্ষ থেকে উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত