অপহরণের পাঁচ ঘণ্টা পর উদ্ধার খুলনার খাদ্য পরিদর্শক সুকান্ত কুমার মজুমদার

একটি বাংলাদেশ ডেস্ক
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৪ জুলাই, ২০২৫
  • ২৯ বার

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৫ | নিজস্ব সংবাদদাতা | একটি বাংলাদেশ অনলাইন

অপহরণের প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর খুলনার আলোচিত খাদ্য পরিদর্শক সুকান্ত কুমার মজুমদারকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের যৌথ অভিযানে জেলার তেরখাদা থানার আজোগড়া গ্রামের একটি স্কুলের সামনের রাস্তা থেকে তাকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। অপহরণে জড়িত সন্দেহে দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ, আরও কয়েকজনকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার সানওয়ার হোসাইন মাসুম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রোববার সন্ধ্যা সাতটার দিকে নগরীর ৫ নম্বর ঘাট এলাকা থেকে সুকান্ত কুমার মজুমদারকে ‘ডিবি পুলিশ’ পরিচয়ে একদল দুর্বৃত্ত অপহরণ করে নিয়ে যায়। স্থানীয়দের কেউ অপহরণের ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপলোড করলে মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয় এবং প্রশাসনের নজরে আসে।

ভুক্তভোগীর স্ত্রী মাধবী রানী মজুমদার এ ঘটনার পরপরই খুলনা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, মো. রেজা ও বাবু মণ্ডলসহ পাঁচজন পরিচয় গোপন করে তার স্বামীকে অপহরণ করে ট্রলারে করে অজ্ঞাতস্থানে নিয়ে যায়। ওই দু’জনের বিরুদ্ধে এর আগেও তার স্বামীর কাছ থেকে অবৈধ অর্থ আদায়ের চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে। সুকান্ত কুমার ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় তাকে অপহরণ করে ভয়ভীতি দেখানো হয় বলে পরিবারের দাবি।

অপহরণের খবর পেয়ে পুলিশ তৎপর হয় এবং জেলার বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি ও অভিযানে নামে। রাত সাড়ে ১২টার দিকে তেরখাদা উপজেলার আজোগড়া গ্রামের একটি স্কুলের কাছে পরিত্যক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া আজোগড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই আব্দুর রহিম বলেন, উদ্ধার হওয়ার পর পরই সুকান্ত কুমারকে খুলনা নগরীতে নিয়ে আসা হয় এবং তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) খন্দকার হোসেন আহমদ জানান, এই অপহরণকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করে মাধবী রানী মজুমদার থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামি আলমগীর ও মো. মুছা খানকে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আর কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।

খাদ্য পরিদর্শক সুকান্ত কুমার মজুমদার খুলনার ৪ নম্বর ঘাটের খাদ্য গুদামে ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার অপহরণ নিয়ে নগরজুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। দ্রুত উদ্ধার অভিযানের মাধ্যমে তার নিরাপদ প্রত্যাবর্তন এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়েছে।

খুলনা জেলা পুলিশ ও কেএমপি সূত্র জানিয়েছে, এই অপহরণ চক্রের সঙ্গে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশ আছে কি না, সে বিষয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাটির পেছনের মূল পরিকল্পনাকারী ও অর্থদাতাদের চিহ্নিত করতে মাঠে কাজ করছে।

খুলনার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, এমন অপহরণচেষ্টা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না এবং অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে যা যা করার প্রয়োজন, সবই করা হবে।

একটি বাংলাদেশ অনলাইন

সংবাদটি শেয়ার করুন

এ সম্পর্কিত আরো খবর

স্বত্ব © ২০২৫ একটি বাংলাদেশ | মোহাম্মাদ আব্দুল্লাহ সিদ্দিক ইবনে আম্বিয়া কর্তৃক সরাসরি যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত